ঢাকা, বুধবার 29 March 2017, ১৫ চৈত্র ১৪২৩, ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কুসিকে ক্ষমতাসীনদের অশুভ ইচ্ছার আভাস ফুটে উঠেছে

দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ -সংগ্রাম

 

* প্রতিরক্ষা চুক্তির পরিণতি হবে ভয়ানক

স্টাফ রিপোর্টার : কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচনকে ঘিরে ক্ষমতাসীনদের অশুভ ইচ্ছার আভাস ফুটে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যাপক অনিয়ম ও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এমনকি সেখানকার নির্বাচনী পরিবেশ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যের মধ্যে কোনো মিল নেই। অথচ কুসিক এলাকার বর্ধিত ৯টি ওয়ার্ডে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসীরা এতোটাই বেপরোয়া যে, সেখানকার সাধারণ ভোটারসহ বিএনপি সমর্থক ও নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, কুসিক নির্বাচন নিয়ে বিএনপি আগে থেকে কিছু বলেনি। ভেতরের অবস্থা কি ছিল, জানি না। কিন্তু যখন সরকার ও সরকারি দলের তা-ব, সহিংস সন্ত্রাস, ধানের শীষের মিছিলে ধাওয়া, পোস্টার, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার মত ঘটনা ঘটছে তখন আমরা (বিএনপি) আশঙ্কা করছি কুসিক নির্বাচন ঘিরে এক ধরনের অশুভ ইচ্ছা আছে সরকার ও সরকারি দলের। সেজন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান যেভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করার কথা তা করছে না।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপির তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদল সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ লিখিত আকারে দিয়েছে। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন এই বলে যে, কুমিল্লা সিটি নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের অনাচার হবে না এবং নির্বাচনী আচরণ ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। তাই আমরা পরিষ্কার করে বলছি, যদি তিনি (সিইসি) কুসিক নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও নিরপেক্ষা নিশ্চিত করতে না পারেন, ব্যর্থ হন, তখন আমাদের পক্ষে যে দাবি থাকবে তা পরবর্তীতে জানানো হবে। তবুও আমরা (বিএনপি) আশা করবো কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট প্রদানের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন।

রিজভী বলেন, চীনের কাছ থেকে দুটি সাবমেরিন কিনে প্রধানমন্ত্রী এখন বিপাকে। কারণ ভারত মনে করছে-শেখ হাসিনার ওপর চীনের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারত তার পরীক্ষিত বন্ধুর এধরনের বিচ্যুতিতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। তাই ভারত এখন শেখ হাসিনার ওপর থেকে চীনের প্রভাব কাটাতেই প্রতিরক্ষা চুক্তি করার জন্য পীড়াপীড়ি করছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও চারদিকে খেলতে গিয়ে এধরনের হোঁচট খাবেন তা তিনি আগে ভাবতে পারেননি। কারণ ভারত যে নাছোড়বান্দার মতো তার স্বার্থের অনুকূল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি নিশ্চিত করতে চায়, এই বাধ্যবাধকতার মধ্যে আটকে পড়তে হবে তা প্রধানমন্ত্রী পূর্বে অনুমান করতে পারেননি। যে ভারত বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় থাকার উৎস তারা যদি বেঁকে বসেন তাহলে বাংলাদেশ সরকারের জন্য তা মহা উদ্বেগ ও মহা দুঃশ্চিন্তার বিষয়। বিশ্বস্ত বন্ধুকে অখুশী করে কোন কাজ করা যায় না। তাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করতে ‘সুপার হিউম্যান স্পিডে’ এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ভারতের কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে হবে, এর মাধ্যমে দু’দেশের যৌথ সামরিক মহড়া হবে, এই চুক্তির মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে দু’দেশের মধ্যকার বৃহত্তর কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে ইত্যাদি চুক্তির অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানতে পেরেছি। এই বিষয়গুলো নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিলীন হয়ে যাবে, বাংলাদেশ স্বাধীনতা হারাবে। এটার পরিণতি হবে ভয়ানক। 

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে রিজভী বলেন, আপনি বাংলাদেশকে কাশ্মীর বানাবেন না। নিজের ক্ষমতায় থাকার স্বপ্নসাধকে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যকে ভারতের জিম্মায় তুলে দিবেন না। এমনি নানা ধরনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রমাগত চরম লোকসানের দিকেই ধাবিত হচ্ছে। এখন বাংলাদেশে বেসরকারি চাকরিখাতে ভারত আধিপত্য বিস্তার করছে। বাংলাদেশের লক্ষকোটি শিক্ষিত বেকার পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর উপর বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের রক্তাক্ত আগ্রাসনের কোন কমতি নেই। বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক অঙ্গনও এখন ভারতীয়করণ করা হচ্ছে। কৌশলে বাংলাদেশের টেলিভিশনে ভারতীয় গণমাধ্যমের সীমাহীন প্রচার-প্রসার তুঙ্গে থাকায় আমাদের হাজার বছরের ভাষা-সংস্কৃতি এখন আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের শিকার। সুতরাং বাংলাদেশের সাথে ভারতের প্রতিরক্ষা চুক্তি হবে বাংলাদেশকে উপনিবেশ বানানোর এক সুদূরপ্রসারিত অশুভ সাংবাদিক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের জের ধরে মুন্সীগঞ্জ জেলাধীন শ্রীনগর উপজেলার বাঘড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ফজল মাতবরকে এবং বিভিন্ন ইউনিয়নে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের জন্য বাসায় বাসায় হানা দেয়ার ঘটনার নিন্দা জানান। একইসঙ্গে অবিলম্বে শ্রীনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশী জুলুম বন্ধের জোর দাবি জানান। পাশাপাশি বাঘড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ফজল মাতবর এর বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার করে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। এছাড়া মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে র‌্যালিতে অংশগ্রহণের জন্য খাগড়াছড়ি জেলায় আবু তাহের নামে এক বিএনপি কর্মীকে যুবলীগ-ছাত্রলীগ এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বেদম প্রহার করে গুরুতর আহত করার ঘটনায় নিন্দা এবং অবিলম্বে আবু তাহেরের ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ