ঢাকা, বুধবার 29 March 2017, ১৫ চৈত্র ১৪২৩, ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আতিয়া মহল

কবির আহমদ, সিলেট : শুক্রবার থেকে গতকাল মঙ্গলবার টানা ৫ দিন কমান্ডো অভিযানের পর গতকাল সেনাবাহিনী পুলিশের কাছে সিলেটের আতিয়া মহল বুঝিয়ে দিয়েছেন। বহুল আলোচিত পাঠানপাড়াস্থ শিববাড়ির আতিয়া মহল এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় ২ জঙ্গির লাশসহ এ মহলের দায়িত্ব পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হস্তান্তরের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর কমান্ডোদের ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ সমাপ্তি ঘটলো বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আতিয়া মহল হস্তান্তর ও দুই জঙ্গির লাশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরীর পর সিলেট এম এ জি ওসমানী হাসপাতালের মর্গে নেয়া হবে বলে দৈনিক সংগ্রামকে জানিয়েছেন এসএমপির এডিসি সাউথ ও মিডিয়া জেদান আল মুসা।

গত রোববার নিহত হওয়া ২ জঙ্গির লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করেছে ওসমানী মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। 

কমান্ডো অভিযানে ৩ পুরুষ জঙ্গি ও এক নারী জঙ্গি নিহত হয়। নিহতদের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ সংগ্রহ করছে পুলিশ। তবে গুজব রয়েছে, নিহতদের মধ্যে শীর্ষ জঙ্গি মুসা থাকতে পারে। 

নিহত ২ পুরুষ জঙ্গির ময়না তদন্ত সম্পন্ন : সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ীর আতিয়া মহলে সেনাবাহিনীর অপারেশন টোয়াইলাটে নিহত চার জঙ্গির মধ্যে ২ জনের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার।

গতকাল দুপুর পৌনে তিনটার দিকে তাদের দুজনের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এর আগে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শামসুল আলমের নেতৃত্বাধীনা তিন সদস্যের বোর্ড ময়নাতদন্ত শুরু করেন। তবে ময়নাতদন্তের ব্যাপারে কোন মন্তব্য করেননি চিকিৎসকরা।

এসএমপির কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল আহমদ জানান, গত সোমবার সন্ধ্যায় যে দুজন জঙ্গির লাশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল আজ মঙ্গলবার তাদের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। এর আগে ওই দুজনের ডিএনএ সংগ্রহ করা হয়। তাদের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মর্গে লাশ থাকবে।

নিহত এ দুই জঙ্গির মধ্যে একজন মরজিনা বলে ধারণা করছে পুলিশ। অপরজন কাওছার বা অন্য কেউ হতে পারে। তবে নিশ্চিত হতে ডিএনএ টেস্ট করা হবে।

এদিকে, গতকাল সকাল থেকে ভবনের ভেতরে তল্লাশী শুরু করেন সেনা কমান্ডোরা। ভবনের ভিতরে পড়ে থাকা অন্য দুই জঙ্গির লাশও উদ্ধার করেছেন সেনাবাহিনী। 

গতকাল দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দে হঠাৎ কেঁপে ওঠে গোটা শিববাড়ী এলাকা। তবে এই বিস্ফোরণ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কোন বক্তব্য মেলেনি। ধারণা করা হচ্ছে- জঙ্গিদের ছড়িয়ে রাখা বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করার জন্য সেনা কমান্ডোরা এ বিস্ফোরণ ঘটিয়ে থাকতে পারেন। পুলিশের কাছে আতিয়া মহল হস্তান্তরের পর জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে, তবে এডিসি জেদান আল মুসা জানিয়েছেন, হুমায়ুন রশিদ চত্বর থেকে পারাইরচক পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত শনিবার বোমা বিস্ফোরণের পর যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল তা এখনও বলবৎ রয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা অব্যাহত থাকবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ