ঢাকা, বুধবার 29 March 2017, ১৫ চৈত্র ১৪২৩, ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খ্রিস্টান-অধ্যুষিত এলাকায় গরুর গোশতের বিরোধী নয় বিজেপি

২৮ মার্চ, টাইমস অব ইন্ডিয়া : ভারতের নাগাল্যান্ড, মেঘালয় ও মিজোরাম রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতায় এলে গরুর গোশত নিষিদ্ধ হবে না বলে জানিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। হিন্দু-অধ্যুষিত উত্তর ভারতে গোমাংস বিক্রির ওপর নানা রকম নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও খ্রিস্টান-অধ্যুষিত উত্তর-পূর্ব ভারতে গরুর গোশত নিষিদ্ধ হবে না বলে এবার পাল্টা সাফাই দিল বিজেপি।
আগামী বছর উত্তর-পূর্ব ভারতের নাগাল্যান্ড, মেঘালয় ও মিজোরাম রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হবে। তিন রাজ্যে খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা বেশি। সেদিকে খেয়াল রেখেই বিজেপি জানাল, তারা ক্ষমতায় এলে গরুর মাংস নিষিদ্ধ হবে না। গোমাংস বন্ধ করা নিয়ে বিরোধী দল কংগ্রেস অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও বিজেপির স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা অভিযোগ করেছেন।
মেঘালয়ে বিজেপির রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক দ্রাবিড় খারস্তি গত রোববার এক সংবাদ বিবৃতিতে বলেন, স্বার্থান্বেষী মহল থেকে অযথা বাজে কথা অপপ্রচার করা হচ্ছে। রাজ্যে ক্ষমতায় এলে বিজেপি গোমাংস বিক্রিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করবে না।
কংগ্রেস-শাসিত মেঘালয়ের ৭৫ শতাংশ বাসিন্দাই খ্রিস্টান। উত্তর-পূর্ব ভারতের আরেক কংগ্রেস-শাসিত রাজ্য মিজোরামের ৮৭ শতাংশ মানুষ খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের।
এরপর গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের কাছে মিজোরামের বিজেপি সভাপতি জেভি লুনার দাবি করেন, গরু বা অন্য কোনো প্রাণী হত্যার ওপরই তাঁরা নিষেধাজ্ঞা জারি করবেন না। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস ভোটে হারার ভয়ে এ ধরনের অভিযোগ করছে। নাগাল্যান্ডের ৮৮ শতাংশ মানুষ খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী। ক্ষমতাসীন নাগা পিপলস ফ্রন্টের নেতৃত্বাধীন ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স অব নাগাল্যান্ডের শরিক বিজেপি।
দলের রাজ্য সভাপতি ভি লঙ্গু গতকাল সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দাবি করেন, উত্তর প্রদেশেও গোহত্যার বিরোধী নয় বিজেপি। তবে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পরিবেশদূষণের কথা মাথায় রেখেই পশু জবাইয়ের উদ্যোগ নিচ্ছে সেখানকার সরকার। তিনি জানান, নাগাল্যান্ডে গরু বা অন্য কোনো প্রাণীর মাংস বিক্রির ওপর কোনো ফতোয়া জারি করবে না বিজেপি।
ঝাড়খণ্ডেও কসাইখানা বন্ধের নির্দেশ
উত্তরপ্রদেশে বেআইনি কসাইখানা বন্ধের নির্দেশিকা জারির পর, ভারতের আর এক বিজেপি শাসিত রাজ্য ঝাড়খণ্ডেও একই নির্দেশ জারি হলো। ঝাড়খণ্ডের সমস্ত বেআইনি কসাইখানা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে, তারমধ্যে সমস্ত বেআইনি কসাইখানাগুলোকে হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের থেকে লাইসেন্স নিতে হবে, না হলে ব্যবসা বন্ধের সম্মুখীন হতে হবে, জানিয়ে দিয়েছে প্রশাসন।
সোমবারই ঝাড়খণ্ড সরকারের প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি এসকেজি রাহাতে এই সংক্রান্ত একটি নয়া নির্দেশিকা তৈরি করে রাজ্যের সমস্ত ডেপুটি কমিশনার, এসপি এবং পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এমনকি প্রত্যেককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের এলাকার সমস্ত বেআইনি কসাইখানা যেন অবিলম্বে বন্ধ করা হয় সেদিকে বিশেষ নজর দিতে।
সম্প্রতি ফুড সেফ্টি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথোরিটি অফ ইন্ডিয়া সারা দেশে ৬২টি কসাইখানাকে লাইসেন্স দিয়েছে।
সূত্রের খবর, তারমধ্যে একটিও ঝড়খণ্ডের অন্তর্গত নয়। তবে রাঁচি পৌরসভা কয়েকটি কসাইখানাকে লাইসেন্স প্রদান করেছে বলে জানা গেছে।
এই নয়া নির্দেশিকার ফলে যেসব ব্যবসায়ী খাসির মাংস এবং চিকেন বিক্রির সঙ্গে যুক্ত তাদের পৌর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। কিন্তু যেসব ব্যক্তি গরু ও মহিষের গোশত বিক্রির সঙ্গে যুক্ত, তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।
প্রসঙ্গত, ২০০৪-০৫ সালে একবার ঝাড়খণ্ড সরকার বেআইনি কসাইখানাগুলো বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। আইন না মানলে দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও দশ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছিল।
রাঁচি পৌরসভার ডেপুটি মেয়র সঞ্জীব বিজয়বর্গীয়র দাবি, রাজ্যের বেশিরভাগ কসাইখানাই লাইসেন্স না নিয়ে বেআইনিভাবে গোহত্যা করে গোশত বিক্রি করছে। এগুলোই অবিলম্বে বন্ধ করা তাদের প্রধান লক্ষ্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ