ঢাকা, বুধবার 29 March 2017, ১৫ চৈত্র ১৪২৩, ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

২২ বছরে বিল দেননি বেঙ্গালুরুর বিজ্ঞানি

২৮ মার্চ, এনডিটিভি : ভারতের বেঙ্গালুরুর বিজ্ঞানী শিভাকুমার তার বাড়িতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে গত ২২ বছর ধরে পানির বিল দেওয়ার কোনো প্রয়োজন মনে করছেন না। সংরক্ষিত বৃষ্টির পানিতে তার বাড়ির সকলে গোসল, খাওয়া ও পয়নিষ্কাশন সহ অন্য সব কাজ চলে। কর্নাটক স্টেট কাউন্সিলের এই বিজ্ঞানী কুড়ি বছর আগে প্রতিদিন ৪’শ লিটার পানি ধারণের ব্যবস্থা করেন। কর্নাটকে খরা চললেও শিভাকুমারের বাড়িতে পানির কোনো অভাব নেই।
শিভাকুমার জানান, খরা মৌসুমেও বেঙ্গালুরুতে ৯’শ থেকে ১ হাজার মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। নবায়নযোগ্য শক্তি ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করেন শিভাকুমার। যে কোনো পরিবার বছরে ২ লাখ ৩০ হাজার লিটার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করতে পারে যা কোনো পরিবারের পানি চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট। এজন্যে প্রয়োজন ৪০ বাই ৬০ ফুটের একটি ট্যাঙ্ক প্রয়োজন পড়বে। এধরনের ট্যাঙ্কে বছরে সাড়ে ৪ লাখ লিটার পানি ধারণ করা যায়। বছরে তার পরিবারে প্রয়োজন পড়ে দেড় লাখ লিটার।
শিভাকুমার জানান, তার পরিবারে প্রতিদিন ৪’শ লিটার পানি লাগে। বেঙ্গালুরু শহরে ৯০ থেকে ১’শ দিন মওসুম মধ্যবর্তী বৃষ্টিবিহীন থাকলেও পরবর্তী সময়ে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা যায়। শুধু পানি সংরক্ষণ নয়, ব্যবহৃত পানি পুনরায় ব্যবহারের দিকেও নজর দিতে বলেন এই বিজ্ঞানি। তিনি তার রান্নাঘরে ব্যবহৃত পানি টয়লেটের ফ্লাশে ব্যবহারের ব্যবস্থা করেছেন।
পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা খুবই সহজ উল্লেখ করে শিভাকুমার জানান, ছাদ বা উঁচু স্থান থেকে বৃষ্টির পানি ধারণ করে ট্যাঙ্কে সংরক্ষণের আগেই ফিল্টার পাইপে তা পরিশোধনের ব্যবস্থা থাকে। এধরনের ব্যবস্থা একটি পরিবারের দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করে তিনি বলেন, তার স্ত্রী সুমা, সন্তান অনুপ ও তার স্ত্রী ভামিকা নিত্যনৈমিত্তিক কাজের অংশ হিসেবেই বৃষ্টির পানি সংরক্ষণকে স্বাভাবিক হিসেবে নিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ