ঢাকা, বুধবার 29 March 2017, ১৫ চৈত্র ১৪২৩, ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

তারা যেভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস করতেন

স্টাফ রিপোর্টার : জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পরীক্ষার সেন্টারে প্রশ্নপত্র নিয়ে যাওয়ার পথে প্রশ্নের স্ন্যাপশর্ট নিয়ে তা ফেসবুক গ্রুপে উত্তরসহ দিচ্ছে প্রশ্নফাঁসকারী চক্র। চক্রটিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কোচিং সেন্টারের শিক্ষক ও ছাত্ররা জড়িত রয়েছেন। পাবলিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে ৫০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকায় ফাঁস করা প্রশ্নপত্রের উত্তর জানিয়ে দেয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন।

এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে আশুলিয়ার গাজীরচট এএম উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রিন্সিপাল মো. মোজাফ্ফর হোসেনসহ চার শিক্ষক এক অফিস সহকারী ও চার ছাত্রসহ মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করে ডিএমপির ডিবি পশ্চিম বিভাগ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, টঙ্গী এলাকার কোনিয়া কোচিং সেন্টারের শিক্ষক হামিদুর রহমান তুহিন, সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অঙ্কের শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, এএম উচ্চ বিদ্যালয় কলেজের শিক্ষক আতিকুল ইসলাম ও অফিস সহকারী আব্দুল মজিদ, ছাত্র আরিফ হোসেন আকাশ ওরফে আদু ভাই, সাইদুর রহমান, রাকিব হোসেন তানভীর হোসেন।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার সাতরাস্তা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের নিকট থেকে ভুয়া প্রশ্নপত্র ইমেজের ষ্ক্রিনশট উদ্ধার করা হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে আব্দুল বাতেন বলেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে প্রশ্ন ফাঁসের তিনটি চিত্র উঠে আসে। প্রথমটি হচ্ছে , প্রশ্নপত্র প্রণয়ন কমিটিতে থাকা কোনো সদস্য কর্তৃক প্রশ্নফাঁস, দ্বিতীয়টি , প্রশ্নপত্র মুদ্রণ (বিজি প্রেস) অফিস থেকে প্রশ্নফাঁস আর তৃতীয়টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রশ্নপত্র পরীক্ষার কেন্দ্রে নেয়ার পথে প্রশ্নফাঁস। এর মধ্যে আমরা এর আগে বিজি প্রেসের এক কর্মচারীকে প্রশ্নফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে তথ্য প্রমাণসহ গ্রেফতার করেছিলাম। সোমবারে গ্রেফতারকৃতরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রশ্নপত্র পরীক্ষার কেন্দ্রে নেয়ার পথে ফাঁস করেন।

আব্দুল বাতেন বলেন, চক্রের মূলহোতা আশুলিয়ার গাজীরচট এএম উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এর প্রিন্সিপাল মো. মোজাফ্ফর হোসেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে প্রশ্নপত্র বুঝে পেয়ে পথিমধ্যে প্রশ্নপত্র ইমেজের ষ্ক্রিনশট তুলে নিয়ে তা পাঠান অঙ্কের শিক্ষক আতিকুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর আলমের কাছে। তারা দ্রুত তা সমাধান করে নিজেদের মধ্যকার ফেসবুক গ্রুপে দেন। সেখান থেকে দুই হাজারের মতো লোকের কাছে সমাধানসহ এই প্রশ্নপত্র পাঠানো হয় ইমো, ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে। এজন্য প্রতিজনের কাছ থেকে নেয়া হয় ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রিন্সিপাল মোজাফ্ফরসহ গ্রেফতারকৃতরা বিভিন্ন নামে ইমো, ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে পাঠানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এছাড়া প্রশ্নপত্র দেয়ার নামে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পাবলিক পরীক্ষার পূর্বে ভুয়া প্রশ্নপত্র অনলাইনে পোস্ট করে প্রতারণা করে আসছিলেন তারা।

ডিবির এই যুগ্ম কমিশনার বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের দ্বিতীয় চক্রের নেতা শিক্ষক জাহাঙ্গীর। তিনিও একই কায়দায় প্রশ্নপত্র ফাঁস করতেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ