ঢাকা, বুধবার 29 March 2017, ১৫ চৈত্র ১৪২৩, ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

১৩১ দেশের ১৫ শতাধিক সংসদ সদস্য অংশ নেবে

 

মিয়া হোসেন : আগামী শনিবার ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) অ্যাসেম্বলি। দেশের ইতিহাসে এ ধরনের সমাবেশ এই প্রথম। চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ও ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অ্যাসেম্বলির উদ্বোধন হবে; চলবে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত। ১৩১ দেশের শতাধিক স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদ সদস্যসহ ১৫ শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেবেন এ অ্যাসেম্বলিতে। এ উপলক্ষে সংসদের দক্ষিণ প্লাজাসহ আশপাশের এলাকায় এখন সাজ সাজ রব। নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মোতায়েন থাকবেন ৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। 

সংসদ সচিবলায় সূত্র জানায়, ঢাকায় আইপিইউর ১৩৬তম এ অ্যাসেম্বলি অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজক দেশের স্পিকার হিসেবে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হবেন। অ্যাসেম্বলির মূল প্রতিপাদ্য ‘রিড্রেসিং ইনইকোয়ালিটিস : ডেলিভারিং অন ডিগনিটি অ্যান্ড ওয়েলবিং ফর অল’।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধান অতিথি হিসেবে অ্যাসেম্বলির উদ্বোধন করবেন। এর আগে আইপিইউ এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং ফটোসেশনে অংশ নেবেন। অ্যাসেম্বলি উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন এবং আইপিইউ ওয়েবটিভি উদ্বোধন করবেন।

অ্যাসেম্বলি উপলক্ষে বিআইসিসি-সংলগ্ন বাণিজ্য মেলার মাঠে দেশীয় পণ্য প্রদর্শন ও বিপণনের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আইপিইউ মেলার আয়োজন করেছে। এতে পর্যটন বিষয়ক এবং সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে।

এ অ্যাসেম্বলি উপলক্ষে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে একটি ওয়েবসাইট (www.ipu136bangladesh.org) খোলা হয়েছে। আইপিইউর নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট www.ipu.org। এ দুইটি ওয়েবসাইটে আইপিইউ এবং আইপিইউর ১৩৬তম অ্যাসেম্বলি-সংশ্লিষ্ট বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।

আইপিইউ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সংসদ সচিবালয়সহ আশপাশে ব্যাপক নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে। সাজানো হচ্ছে বর্ণিল সাজে। সংসদের দক্ষিণ প্লাজার মাঠে বিশাল প্যান্ডেল করা হয়েছে। সেখানে তৈরি করা হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর আইপিইউ অ্যাসেম্বলির অন্যান্য ইভেন্ট বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) অনুষ্ঠিত হবে। বিদেশী প্রতিনিধিদের বাংলাদেশে অবস্থানের জন্য ঢাকায় বিভিন্ন হোটেল নির্ধারণ করা হয়েছে। আইপিইউর ১৩৬তম অ্যাসেম্বলির এক্সিকিউটিভ কমিটির সভা এবং অন্যান্য সভা ও সাইড ইভেন্ট ২৯ মার্চ থেকে শুরু হবে। অ্যাসেম্বলির কাজে সহযোগিতা প্রদানের জন্য আইপিইউ সদর দফতর থেকে ১১০ জন স্টাফ ঢাকায় আসবেন।

ডেপুটি স্পিকার মোঃ ফজলে রাব্বী মিয়া আইপিইউ সম্মেলনের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কার্যক্রমের অগ্রগতি পরিদর্শন করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, সার্বিক সহযোগিতা এবং দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ এই প্রথমবারের মতো এত বড় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে। সম্মেলনকে সফল করে তুলতে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা নিরলসভাবে কাজ করছেন। এ সম্মেলন বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও উজ্জ্বল করবে। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা আইপিইউ অ্যাসেম্বলি সফলভাবে আয়োজনে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। স্পিকারের নেতৃত্বে ও নিবিড় তত্ত্বাবধানে আইপিইউ অ্যাসেম্বলি আয়োজনসংক্রান্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সংসদ সদস্যদের সক্রিয় সহযোগিতা, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সহযোগিতা এবং সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরলস প্রচেষ্টায় আইপিইউর এ সম্মেলন যথাযথভাবে আয়োজিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

আইপিইউর ১৩৬তম অ্যাসেম্বলি উপলক্ষে ৩১ মার্চ ২০১৭ শুক্রবার সকাল ৯টায় বিআইসিসিতে স্থাপিত মিডিয়া সেন্টারে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি, আইপিইউ প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি এবং আইপিইউ সেক্রেটারি মার্টিন চুনগুং বক্তব্য রাখবেন।

ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) ১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্বের সর্ববৃহৎ সংসদীয় সংস্থা। এর সদর দফতর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত। স্বাধীন ও সার্বভৌম পার্লামেন্ট এ সংস্থার সদস্য হতে পারে। বর্তমানে আইপিইউ-ভুক্ত সদস্যসংখ্যা ১৭০ এবং সহযোগী সদস্যসংখ্যা ১১। স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ আইপিইউর সদস্যপদ লাভ করে।

আইপিইউ সংসদীয় সংলাপে ও মানুষের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা প্রদান করে থাকে এবং গণতন্ত্রের দৃঢ় অবস্থান নিশ্চিতকল্পে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে থাকে। এ উদ্দেশ্যে সংস্থাটির পার্লামেন্টগুলো এবং পার্লামেন্টারিয়ানদের মধ্যে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়, যোগাযোগ ও সহযোগিতায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আন্তর্জাতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধানে এ সংস্থা তার মতামত প্রকাশ করে থাকে। সংসদীয় গণতন্ত্র ও উন্নয়নের স্বার্থে সংস্থাটি মানবাধিকার রক্ষণ ও উন্নয়নেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া আইপিইউ জাতিসংঘকে সমর্থন করে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংসদীয় সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আইপিইউর নীতিমালা অনুযায়ী এ সংস্থা পরিচালিত হয়।

সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক রক্ষায় আইপিইউ বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আইপিইউর বিভিন্ন অ্যাসেম্বলি, সম্মেলন, মিটিংয়ে যোগদান করে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্যরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মতবিনিময়ের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান। সংস্থাটি বিভিন্ন দেশের পার্লামেন্ট ও পার্লামেন্টারিয়ানদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্র সৃষ্টি করে। প্রতি বছর আইপিইউর দুইটি অ্যাসেম্বলি হয়। প্রথমটি মার্চ বা এপ্রিলে। এটি সাধারণত একটি সদস্য দেশ হোস্ট হিসেবে আয়োজন করে। অন্যটি অক্টোবর মাসে সংগঠনের সদর দফতর জেনেভায় অনুষ্ঠিত হয়। আইপিইউর সদস্য দেশগুলো ছয়টি জিওপলিটিক্যাল গ্রুপে বিভক্ত। বাংলাদেশ এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের দেশ। এ গ্রুপে মোট ৩১টি দেশ রয়েছে। ১৬ অক্টোবর ২০১৪ ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) ১৩১তম অ্যাসেম্বলিতে সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী আইপিইউর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ থেকে তিনিই প্রথম আইপিইউর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তার এ অর্জন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি বর্তমানে আইপিইউর হিউম্যান রাইটস কমিটি অব পার্লামেন্টারিয়ানসের সদস্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ