ঢাকা, বুধবার 29 March 2017, ১৫ চৈত্র ১৪২৩, ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নিঃস্ব হচ্ছে শেরপুর উপজেলার অনেক সাধারণ মানুষ

শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা : দিনের পর দিন র‌্যাফেল ড্র’র নামে চলছে অবৈধ লটারির রমরমা ব্যবসা। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার লটারির টিকিট বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যে ভ্যান, অটোরিক্সা ও পিকআপ ভ্যানে। শহর ও শহরতলিসহ বিভিন্ন উপজেলার একাধিক পয়েন্টে চেয়ার টেবিল বসিয়ে অবৈধ এই লটারির টিকিট বিক্রি হচ্ছে দিনের পর দিন।

এর ব্যতিক্রম নয় বগুড়ার শেরপুরও। এর মাধ্যমে প্রতিদিন সাধারণ লোকজনের নিকট থেকে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। শুধু অবৈধভাবে লটারির টিকিট বিক্রিই নয়, তা আবার আইন লংঘন করে ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সম্প্রচার করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় লোকজনকে লোভনীয় পুরস্কারের কথা বলে টিকিট কিনতে প্রলুব্ধ করা হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নি¤œ আয়ের লোকজন। একইভাবে শিশু কিশোরদেরও লটারিতে আসক্ত করা হচ্ছে। বগুড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার নামে চলছে এই অবৈধ লটারি বিক্রির মহোৎসব! সরেজমিনে শেরপুর বাসস্ট্যান্ড ও বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি চলে এই লটারির টিকেট বিক্রি। আর আকর্ষণীয় পুরস্কারের কথায় প্রলুব্ধ হয়ে তার পিছনে ছুটছে ছাত্র ছাত্রী ও গৃহবধূ থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষ। নি¤œ আয়ের লোকজন সবচেয়ে বেশি টিকেট কিনছেন। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, দিনমুজুরীরা কাজ শেষে বিকেলে কাজের টাকা দিয়ে টিকিট ক্রয় করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন এনজিওর কর্মকর্তা বলেন, আমাদের এনজিওর কিস্তি সঠিক সময়ে দিচ্ছেনা ও নানা বয়সী লোকজন থেকে শুরু করে শিশু কিশোররা বিভিন্নভাবে টাকা সংগ্রহ করে টিকেট কেনার জন্য ছুটছেন। নিম্ম আয়ের দিনমজুর শ্রেণীর লোকজন তাদের প্রতিদিনের উপার্জিত অর্থের বেশির ভাগই ব্যয় করছেন লটারির টিকিট কেনার জন্য। প্রতিজন প্রতিদিন কিনছেন ৭/৮টি বা এর চেয়েও বেশি টিকেট। ২/৩টি টিকিট কিনছেন এমন লোকজনের সংখ্যাও কম নয়। লোকজনকে প্রলুব্ধ করতে প্রতিদিনই নানা পুরস্কারের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। 

শেরপুর উপজেলার শেরুয়া গ্রামের চাতাল শ্রমিক জিয়ারুলের স্ত্রী জানান, তার স্বামী দিনের আয়ের সব টাকা ব্যয় করে টিকেট কিনতে ছেলে-মেয়েদের খাতা কলম কেনা এমনকি দৈনিক বাজারের টাকাটাও এখন সে ব্যয় করছে এই পথে। এই লটারির টিকেট কেনা এখন তার নেশায় পরিণত হয়েছে। এ ব্যাপারে বললেই শুরু হয় সাংসারিক অশান্তি। এরকম আরো শতশত অভিযোগ অনেকেই জানিয়েছেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে। শেরপুরের শেরুয়া বটতলায় গিয়ে দেখা যায়, মানুষের ব্যাপক জটলা সবার একই উদ্দেশ্য টিকেট ক্রয় এখানে নি¤œ আয়ের মানুষের পাশাপাশি এসেছে স্কুল পড়–য়া অনেক শিক্ষার্থী। শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার ব্যবসায়ী আলহাজ্ব রিয়াজ উদ্দীনম, ব্যবসায়ী রঞ্জন কুমার সাহা, কামাল হোসেন, সোহেল চৌধুরী, আব্দুস সালাম সহ অনেকে জানান, মহাসড়কের উপর প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এই টিকেট বিক্রি, বিশেষ কৌশলে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শেরপুরের একজন ব্যবসায়ী জানান, আমার ছেলে নবম শ্রেণীর ছাত্র গত কয়েক দিন আগে আমার কাছে একটি টিকেট কিনে চাইলে দিয়েছিলাম তার পর কিনে চাইলে নিষেধ করায় সে আমাকে না বলে পকেট থেকে ৫০০ টাকা নিয়ে টিকেট কেনে, আসলে এই অবৈধ লটারি আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে বিষয়টি নিয়ে আমরা সচেতন অভিভাবকরা চিন্তিত। 

বগুড়ার বাণিজ্য মেলার অবৈধ লটারির টিকেট শেরপুরে বিক্রি সম্পর্কে জানতে চাইলে শেরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম সরোয়ার জাহান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই এবং এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ ও পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া কেবল টিভি নেটওয়ার্কে তা সম্প্রচার বেআইনি। 

এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য, বগুড়া শহীদ চান্দু ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পাশে ১ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। শুরুর দিন থেকেই এর মূল বিষয় হয়ে ওঠে র‌্যাফেল ড্র’র নামে অবৈধ ডেইলি লটারি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা নাম দেয়া হলেও এতে অন্য কোন দেশের পণ্যের কোন প্যাভিলিয়ন বা স্টল নেই। মেলায় রয়েছে ৭৮টি বিভিন্ন পন্যের স্টল। 

মেলায় সার্কাস সহ শিশুদের জন্য কয়েকটি রাইড স্থাপন করা হলেও পুরো মেলাই চলছে র‌্যাফল ড্র’র নামে লটারি কেন্দ্রীকভাবে। এর নাম দেয়া হয়েছে স্বপ্ন ছোঁয়া র‌্যাফেল ড্র। প্রতিটি টিকেট বিক্রি করা হচ্ছে ২০ টাকা করে। প্রতিদিন রাতে একজন ঘোষক মেলা মঞ্চে বিচিত্র সম্মোধনে শিশুদের ব্যবহার করে লটারির ড্র পরিচালনা করছে। এভাবেই চলছে বগুড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার নামে র‌্যাফেল ড্র’র পরিচয়ে অবৈধ লটারির কার্যক্রম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ