ঢাকা, বুধবার 29 March 2017, ১৫ চৈত্র ১৪২৩, ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ঋণ খেলাপী হয়েও মনোনয়নপত্র বৈধ

খুলনা অফিস: খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে ঋণ খেলাপী আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে ১১ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ খেলাপির অভিযোগ থাকলেও নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক ভূমিকায় মননোনয় বৈধ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান স ম আব্দুল কাউয়ুমের আকষ্মিক মৃত্যুর কারণে শূন্য পদে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সম্প্রতি নির্বাচনী তফসীল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন পরিচালনার জন্য ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে রিটার্নিং অফিসার নিযুক্ত করা হয়েছে। গত ২০ মার্চ মনোনয়নপত্র জমা দানের শেষ দিনে ৫ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন। এরা হলেন-আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী এডভোকেট প্রতাপ কুমার রায়, বিএপি মনোনিত প্রার্থী মো. দৌলত হোসেন সরদার, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএপি নেতা শেখ বদরুজ্জামান তসলিম, আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ এবিএম শফিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ হেলাল উদ্দিন। মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী অধ্যক্ষ এবি এম শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অগ্রণী ব্যাংকের চুকনগর শাখায় প্রায় ১১ লাখ টাকার খেলাপি ঋণ থাকলেও তার মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার। নির্বাচন কর্মকর্তা ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক ভূমিকায় এমনটি মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. জাহিদুর রহমানের অভিযোগ অস্বীকার করে অগ্রণী ব্যাংক চুকনগর শাখার প্রিন্সিপ্যাল অফিসার প্রবীর রায় চৌধুরী বলেন, এবি এম শফিকুল ইসলামের কাছে আমাদের ব্যাংক শাখায় সর্বসাকুল্যে প্রায় ১১ লাখ টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় থেকে প্রার্থীদের খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত তথ্য বা অভিযোগ থাকলে জানাতে বলা হয়েছে। চিঠিতে কোন নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করা হয়নি। আমরা আমাদের ব্যাংকের ঋণ সংক্রান্ত তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে গেলে তিনি তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। দুপুর ২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর তিনি অফিসে আসা মাত্র আমরা আমাদের অভিযোগ জমা দিতে গেলে নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন; এখন অভিযোগ দিয়ে কি হবে? অনেক আগেই মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ করে ফলাফল জানিয়ে দেয়া হয়েছে। যদিও নির্বাচন কর্মকর্তা ব্যাংকের অভিযোগপত্র বুঝে পেয়ে তার সিদ্ধান্তের বিষয়ে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে জেলা নির্বাচন অফিসারের কাছে আপীল দায়ের করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ