ঢাকা, বুধবার 29 March 2017, ১৫ চৈত্র ১৪২৩, ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

উখিয়ায় রেজুখালের মোহনায় পাড় দখল করে চিংড়ি ঘের তৈরি

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা: উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের রেজুখালের মোহনায় সোনাইছড়ি এলাকায় খালের পাড় দখল করে চিংড়ি ঘের নির্মাণের ঘটনায় এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কক্সবাজারের সুনাম বিনষ্টকারী এক সময়ের মানবপাচারের টার্মিনাল নামে খ্যাত বাদামতলাস্থ রেজুখালের বুকে শতাধিক শ্রমিক দিয়ে রাত-দিন উপেক্ষা করে মৎস্য ঘের নির্মাণ করে যাচ্ছে একটি স্থানীয় প্রভাবশালী মহল।
প্রায় ৫ একর জায়গায় খালের বুকে ৮ফুট উচু করে বাঁধ দেওয়ার ফলে খরস্রোতা এ খালের গতিপথ পরিবর্তনের পাশাপাশি মারাত্মক ভাবে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা রয়েছে। এতে সরকারের মহৎ পরিকল্পনা রেজুর মোহনায় আন্তর্জাতিক মানের প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল নির্মাণ সহ ভেস্তে যেতে পারে পর্যটন উন্নয়ন পরিকল্পনা। এছাড়াও আগামী বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের স্রোতে শতাধিক পরিবার ঘরবাড়ি হারানোর আশংকায় রয়েছেন। 
সরেজমিন এ উপজেলার সোনাইছড়ি বাদামতলাস্থ রেজুখালের এই এলাকা ঘুরে ঘের নির্মাণ কাজে নিয়োজিত শ্রমিক নুরুল হাকিমের সাথে কথা বলে জানা গেছে ওই এলাকার হাকিম মিয়া নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি এসব ঘের নির্মাণ করে যাচ্ছে প্রায় ১মাস ধরে। খালের বুক থেকে মাটি নিয়ে বাঁধ গুলো দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ বিপর্যয়, অপরদিকে মাটির নিচে অবস্থান নেওয়া বিভিন্ন প্রকারের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
রেজুখালের মোহনায় থেকে মাত্র ১কিলোমিটার অদূরে এ ঘেরটি নির্মাণ হচ্ছে। স্থানীয় আব্দুল মোনাফ (৪৮) বলেন এই ঘেরটি নির্মাণের ফলে সরকারের আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল নির্মাণ পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে কারণ ঘেরটির কারনে পানির গতিপথ পরিবর্তন হয়ে রেজুর মোহনায় জেগে উঠা চরটিতে আগামী বর্ষা মৌসুমে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
একই অভিযোগ স্থানীয় আব্দুল সালাম(৪৫)এর। ঘের নির্মাণকারী হামিক মিয়া (৪০) বলেন, এই জায়গাটি তার পৈত্রিক সম্পত্তি। সে দীর্ঘদিন ধরে এটি ভোগ দখল করে আসছে। বৈধ কাগজপত্র আছে কিনা জানতে চাইলে সে বলেন, কাগজ আছে তবে এখন দেখানো যাবে। নাম প্রকাশ করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, হাকিম মিয়ার বৈধ কোন কাগজপত্র নেই, শুধুমাত্র প্রভাব বিস্তার করে জায়গাটি ভোগদখল করে যাচ্ছে। এব্যাপারে হাকিম মিয়া জানান, এ জায়গার জন্য আমার মাকে খুন করা হয়েছে। তাই এ জায়গা কিছুতেই আমি ছাড়তে পারি না। সরকারের পালাবদলের সাথে সাথে এ জায়গাটি দখল প্রক্রিয়ায় চলতে থাকে। যে সরকার ক্ষমতায় আসীন হয় সে সরকারের লোকজনই প্রভাব বিস্তার করে এটি দখলে রাখে। সেইভ দ্যা নেচার অব বাংলাদেশ উখিয়া উপজেলা শাখা সভাপতি ইমরান জাহেদ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, রেজু খালের বুকে মৎস্য ঘের নির্মাণ পরিবেশ ও পর্যটনের জন্য হুমকি। আগামীতে উখিয়াকে নিয়ে সরকারের যে চিন্তা-ভাবনা রয়েছে তা ব্যাহত হবে। তাই এসব পরিবেশ বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
এব্যাপারে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সর্দার শরিফুল ইসলাম জানান, নদী,খাল,বিল,পাহাড় দখল করে মাটি কাটা, বাঁধ নির্মাণ পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই নদী বা খালের বুকে মৎস্য ঘের নির্মাণ করা পরিবেশের লঙ্গনের সামিল। জায়গাটি রেজুর মোহনা থেকে একটু দুরে হওয়ায় আমাদের নজরে আসেনি। অবশ্যই দ্রুত সময়ের মধ্যে উক্ত স্থানটি পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ