ঢাকা, বুধবার 29 March 2017, ১৫ চৈত্র ১৪২৩, ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন ছাড়া শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির অবসান ঘটবে না

খুলনা অফিস: দৈনিক আমার দেশ ছাপাখানা খুলে দেয়ার দাবীতে ‘আমার দেশ পড়তে চাই, দেশের খবর জানতে চাই’ শ্লোগান নিয়ে শনিবার খুলনায় অনুষ্ঠিত সংহতি সমাবেশ বক্তারা বলেছেন, সত্য প্রকাশের অপরাধে আমার দেশ সরকারের রোষানলে পড়ে চার বছর যাবৎ বন্ধ রয়েছে।
ফ্যাসিবাদী শাসক সত্যকে ভয় পায় বলেই তাদের অনিয়ম-দুর্নীতি-দুঃশাসন-লুটপাঁ ও তাঁবেদারীর তথ্য প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশংকায় সকল মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ায় পরিণত করেছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন ছাড়া চলমান শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির অবসান ঘটবেনা। আর সে জন্য রাজনীতিবীদদের পাশাপাশি পেশাজীবীদেরকেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াইয়ে অংশ নিতে হবে। শনিবার নগরীর ইকবালনগরস্থ পূর্বাঞ্চল ডায়লগ সেন্টারে আমার দেশ পরিবারের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা এ সব কথা বলেন। সকাল ১১ টা থেকে কর্মসূচি শুরু হয়ে চলে প্রায় দুপুর ২ টা পর্যন্ত এ সমাবেশ চলে।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি ও খুলনা বারেরর সাবেক সভাপতি এডভোকেট মাসুদ হোসেন রনির সভাপতিত্বে ও বিএফইউজে’র নির্বাহী সদস্য ও দৈনিক আমার দেশের খুলনা ব্যুরো প্রধান এহতেশামুল হক শাওনের সঞ্চালনায় সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম, সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও খুলনা জেলা শাখার সভাপতি এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা, বিজেপির মহানগর সভাপতি এডভোকেট লতিফুর রহমান লাবু, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার ও সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ খুলনার আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মাজহারুল হান্নান, পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ও ড্যাব খুমেক শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. সেখ মো. আখতার উজ জামান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট গাজী আব্দুল বারী, বিএফইউজে’র সাবেক সহ-সভাপতি ড. মো. জাকির হোসেন, মংলা বন্দরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী এম কাওসার আলী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড. রেজাউল করিম, এ্যাব খুলনা শাখার সভাপতি ও কুয়েটের প্রফেসর ড. খন্দকার আফতাব হোসেন, বার কাউন্সিলের সাবেক সদস্য এডভোকেট আব্দুল মালেক, খুলনা প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ দিদারুল আলম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর রকিবউদ্দিন, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি মো. আনিসুজ্জামান, মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, মহানগর যুবদল সভাপতি শফিকুল আলম তুহিন, মহিলা দলের মহানগর সভানেত্রী সৈয়দা রেহানা ঈসা, জাসাসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান দীপু, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. এরশাদ আলী, প্রেস ক্লাবের সাবেক ট্রেজারার মো. রাশিদুল ইসলাম, দৈনিক সংগ্রামের ব্যুরো প্রধান আব্দুর রাজ্জাক রানা, ইসলামিক টেলিভিশনের খুলনা প্রতিনিধি কে এম জিয়াউস সাদাত, অধিকার খুলনার ফোকালপার্সন মুহাম্মদ নুরুজ্জামান, কলেজ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল ও এ্যাব খুলনা শাখার সেক্রেটারি প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জুয়েল প্রমুখ।
সংহতি সমাবেশ বক্তারা বলেন, আমার দেশ সত্য সাংবাদিকতা করতো, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করতো। রাস্ট্রীয় স্বার্থের পক্ষে, দেশের সম্পদ রক্ষায়, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সাহসী অবস্থান ছিল আমার দেশের। সরকার শুধু আমার দেশ নয়, অনেক মিডিয়া বন্ধ করেছে। সম্পাদক ও সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। সাংবাদিক হত্যা হচ্ছে, অথচ কোন বিচার হচ্ছেনা। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়েছে, লেখার অধিকার হরণ করা হয়েছে। সাহসী ও মজলুম সম্পাদক মাহমুদুর রহমান দুই দফায় পাঁচ বছর কারানির্যাতন সহ্য করেছেন। আইনী লড়াইয়ে তিনি মুক্ত হলেও আমার দেশ আজও মুক্ত নয়। দৈনিক আমার দেশকে নিয়েই আমাদেরকে গণতন্ত্রহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম এগিয়ে নিতে হবে।
দেশে প্রতিনিয়ত ক্রসফায়ার ও তথাকথিত জঙ্গিদের আত্মঘাতী হামলার উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফর ও বিতর্কিত প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে যখন জোরালো সমালোচনা চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে একের পর এক জঙ্গি কেন্দ্রিক অভিযানের খবর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। অথচ অনলাইন ভিত্তিক সামাজিক মিডিয়া ছাড়া দেশের প্রচলিত মিডিয়া এ নিয়ে সরকারের পছন্দসই সংবাদই কেবল পরিবেশন করছে। আর সেই মুহূর্তে পাঠকরা আমার দেশের অভাব অনুভব করছেন।
বক্তারা আমার দেশ, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি, চ্যানেল ওয়ানসহ সকল বন্ধ মিডিয়া খুলে দেয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, দেশে এক সময় সবাইকে বাকশাল করতে বাধ্য করা হয়েছিল। কিন্ত বাকশাল সরকার টেকেনি।
আজ সবাইকে আওয়ামী লীগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। কিন্ত ইতিহাস শিক্ষা দেয়, স্বৈরশাসক চিরদিন ক্ষমতার মসনদ আকড়ে থাকতে পারেনা। সাংবাদিকদের অধিকার আদায় ও রুটি-রুজির সংগ্রামে সব সাংবাদিককে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, সরকারের লেজুড়বৃত্তি ও ব্যক্তি স্বার্থ আদায়ের জন্য সমঝোতার কোন সুযোগ নেই। আজ যারা এ কাজ করছেন, ভবিষ্যত তাদের জন্য সুখকর নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ