ঢাকা, বুধবার 29 March 2017, ১৫ চৈত্র ১৪২৩, ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সোনাগাজীতে শিক্ষা কর্মকর্তা নেই দুই বছর

ফেনী সংবাদদাতা : ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পদটি দুই বছর ধরে শূন্য রয়েছে। এতে করে কার্যালয়ের দাপ্তরিক কাজসহ নানা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ২৪ মার্চ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মেরাজ উদ্দিন অন্যত্র বদলী হয়ে যাওয়ায় পদটি শূন্য হয়। এ পদে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নুর নবীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি দাপ্তরিক সব কাজ করতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন।
সূত্র আরও জানায়, সোনাগাজী উপজেলা শিক্ষা অফিসে শিক্ষা কর্মকর্তাসহ ১২টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে আছেন চারজন। দুইজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা, একজন হিসাব রক্ষক কাম উচ্চমান সহকারী, অপরজন হিসাব সহকারী। এছাড়া তিনটি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ ৪ বছর, দুইটি অফিস সহকারী, একটি কম্পিউটার অপারেটর পদ ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে শূন্য। দীর্ঘদিন ধরে পিয়নের পদটিও শূন্য রয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পদটি শূন্য থাকায় শিক্ষকদের বেতন ভাতা,টাইম স্কেল,বদলী ও মেরামতসহ অন্যান্য ফাইলে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বাক্ষর করলেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাগজপত্রসহ দাপ্তরিক অনেক কাজে তিনি সিদ্ধান্ত নিতে হিমশিম খেয়ে থাকেন। এতে কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষক সমিতির একাংশের সভাপতি ও আরএম হাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরীয়ত উল্যাহ বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় আমরা অনেক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। অফিসে কাজের অতিরিক্ত চাপ থাকায় কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতে কষ্ট হয়। দ্রুত একজন শিক্ষা কর্মকর্তা দেয়ার জন্য তিনি কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ জানান।
সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ওয়াহিদুর রহমান জানান, বিশাল এ উপজেলায় মাত্র দুইজন কর্মকর্তা দিয়ে শিক্ষা অফিসের কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়।
জানতে চাইলে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নুর নবী বলেন, এ কার্যালয়ে বেশির ভাগ পদ শূন্য। কাজকর্মও অনেক বেশি। কাজের চাপের কারণে বিদ্যালয়গুলো ঠিকমত পরিদর্শন করতে পারছিনা। তারপরও চেষ্টা করছি সব কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, মেরাজ উদ্দিনের বদলীর পর ওই পদে আর কোনো কর্মকর্তা যোগদান করেননি। সহকারী একজন শিক্ষা কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই কার্যালয়ের বেশির ভাগ পদ শূন্য থাকায় কাজকর্ম স্বাভাবিক ভাবে সম্পন্ন হচ্ছে না।
উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জেডএম কামরুল আনাম বলেন, দ্রুত কর্মকর্তার পদটি পূরণ করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ