ঢাকা, বুধবার 29 March 2017, ১৫ চৈত্র ১৪২৩, ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মোরেলগঞ্জে যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবি ৪ নারীর লাশ উদ্ধার ॥ নিখোঁজ ৫০

শেখ আবু সাঈদ, বাগেরহাট : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে একটি যাত্রীবাহি খেয়া ট্রলার ডুবে গিয়ে অর্ধশতাধিক নিখোঁজ হয়। ৪ জন নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫০ জন। গুরুতর আহত অবস্থায় ৫ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছে আরো অর্ধশতাধিক। নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, কোষ্টগার্ড, থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে পানগুছি নদীতে এ ঘটনা ঘটে। আহত যাত্রীরা জানান, ঘটনার সময় মোরেলগঞ্জ ছোলমবাড়িয়া বাসষ্টান্ড খেয়াঘাট থেকে যাত্রীবাহী একটি ট্রলার পানগুছি নদীর অপর পাড় পুরান থানার খেয়াঘাটের প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে। এসময় নৌবাহিনীর একটি জাহাজ (পি-৩১২) দ্রুতগতিতে মংলার দিকে চালিয়ে গেলে এর ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি উল্টে যায়। ট্রলারে শতাধিক যাত্রী ছিলো। এদের মধ্যে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ৪ নারী হচ্ছেন, উপজেলার ফুলহাতা গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেনের স্ত্রী নাদিরা বেগম (১৯), কালিকাবাড়ি গ্রামের মহসিন হোসেনের স্ত্রী বিউটি বেগম (৩৮), গুয়াবাড়িয়া গ্রামের হাসেম হাওলাদারের স্ত্রী পিয়ারা বানু (৫০) ও চিংড়াখালী গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর স্ত্রী সুফিয়া বেগম(৭৫)।
এই ঘটনার খবর পেয়ে মোংলাগামী নৌবাহিনীর ওই জাহাজটি কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে ফিরে আসে। আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেবেকা খাতুন(৪৮) সেলিমাবাদ কে খাদিজা বেগম (৪০), সাবেক পুলিশ সদস্য মো. শাজাহান তালুকদার(৬৫), আবুল খায়ের খোকা(৫৫) কে খুলনায় স্থানান্তর করা হয়েছে। মোরেলগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি আছেন ফুলহাতা গ্রামের নাসিমা বেগম(৩০) ও তার ২ বছরের শিশুপুত্র।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মনির হোসেন, ফায়ার সাভিসের মোরেলগঞ্জ ষ্টেশন কর্মকর্তা মো. হায়দার আলী ও উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের নিকট থেকে পাওয়া তথ্যমতে নাজমুল (৭), নাসিমা বেগম (৪০) রাহাত (১০), আনছার হাওলাদার (৩৮), মোশারেফ হাওলাদার (৫০), সুলতান হাওলাদার (৪২), হাসিব (৬), সালমা বেগম (৩০), সাজ্জাদ (২), লাবনী আক্তকার (৭), ও ১৮ মাসের সন্তানসহ বাঁশবাড়িয়া গ্রামের সালমা বেগম ( ২০) সহ অজ্ঞাত অনেক নারী-শিশু ও বৃদ্ধ অনেক নিখোঁজ রয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত স্বজনহারাদের আর্তনাদ-আহাজারিতে পানগুছি নদীর দু’তীরের আকাশ বাতাস ভারী হয়ে আছে। নিখোঁদের সন্ধানে ভিড় জমিয়েছেন স্বজনরা। বিকেলে নেীবাহিনীর অপর একটি অত্যধুনিক ডুবুরী দল উদ্ধার কাজে যোগ দিয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা৭টা) উদ্ধার কাজ অব্যাহত আছে।
 অপরদিকে, উদ্ধার কাজ দেখতে হাজার হাজার উৎসুক জনতার ভিড় জমেছে সেখানে। এদিকে দুপুরের পর বাগেরহাট জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস এবং বাগেরহাট পুলিশ সুপার পঙ্কজ কুমার রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ