ঢাকা, বুধবার 29 March 2017, ১৫ চৈত্র ১৪২৩, ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রিজার্ভ ফেরাতে উচ্চপর্যায়ে বৈঠক চুরি যাওয়া টাকা ফিলিপাইন থেকে ফেরত আসবেই -অর্থমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে চুরি যাওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের যে টাকা ফিলিপাইনে আছে তা ফেরত পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। অর্থ ফেরত আনার ব্যাপারে দুই দেশের কার্যক্রম চলছে।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে রিজার্ভের টাকা ফেরত আনার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
বৈঠকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ফজলে কবির, অর্থ সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ইউনুসুর রহমান, এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, পুলিশের আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন।
২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাইবার জালিয়াতির মাধ্যমে চুরি হওয়া রিজার্ভের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে অর্থ ফিলিপিন্সের রিজাল ব্যাংকে যাওয়ার পর ইতিমধ্যে দেড় কোটি ডলার ফেরত এসেছে, বাকি অর্থ উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছে বাংলাদেশ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করছি চুরি হওয়া টাকা ফেরত পাব। অর্থ ফেরত আনার ব্যাপারে দুই দেশের কার্যক্রম চলছে। তারাও (ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ) আমাদের সহযোগিতা করছে। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ২০০৮ সাল থেকে যুগোপযোগী করার কাজ চলছে। ২০১৩ সালে শেষ হলেও এখনো রিপ্লেসমেন্ট করা হচ্ছে। এটা চলমান প্রক্রিয়া।
গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে অগ্নিকা- সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে ছিল। আগুনে উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষতি হয়নি।
এদিকে নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের একাউন্ট থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক কোড নম্বরের খোঁজ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা-এনএসএ এই কোড নম্বর খুঁজে পেয়েছে।
২০১৪ সালে সনি পিকচারে সাইবার হামলার সময় প্রায় এ ধরনের কোড ব্যবহৃত হয়েছিল বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমস।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির পেছনে নর্থ কোরিয়াকে সন্দেহ করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার রিজার্ভ চুরির ঘটনা ঘটে। এর বেশিরভাগই শেষ পর্যন্ত গিয়েছিল ফিলিপিন্সের বিভিন্ন ক্যাসিনোতে। নানা পদক্ষেপের পর অল্প কিছু উদ্ধার হলেও বেশির ভাগ অর্থই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় নর্থ কোরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনজীবীরা মামলা দাঁড় করাচ্ছেন। ফেডারেল আইনজীবীদের বিশ্বাস, চীনা দালালরা বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ লুট করতে পিয়ংইয়ংকে সাহায্য করেছে।
এই মামলাটি দায়ের হলে শুধু নির্দিষ্ট কয়েকজন নর্থ কোরীয় কর্মকর্তা নন, পুরো দেশটাই জড়িয়ে যাবে। এই মামলার পাশাপাশি ফেডারেল রিজার্ভ পর্যায়ে দালালি ব্যবস্থায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাও ভাবছে মার্কিন কোষাগার।
মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসএ’র উপ-পরিচালক রিচার্ড লেজেট জানান, ধারণা করা হচ্ছে রিজার্ভ চুরির সঙ্গে নর্থ কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। এরপরই এফবিআইয়ের মামলা করার পরিকল্পনাটি প্রকাশ পেল। বেসরকারি কিছু অনুসন্ধানী সংস্থাও বহুদিন ধরে দেশটির জড়িত থাকার বিষয়ে সন্দেহ করে আসছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ