ঢাকা, বুধবার 29 March 2017, ১৫ চৈত্র ১৪২৩, ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রতিরোধের পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঘৃণা সৃষ্টি করতে হবে -সংস্কৃতি মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : দুর্নীতির বিরুদ্ধে যেমন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে তেমনি এর বিরুদ্ধে ঘৃণার মনোভাব জাগাতে হবে। ঘৃণা সৃষ্টির বড় একটি উপায় হতে পারে পাঠ্যপুস্তকে দুর্নীতি বিরোধী পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা। শিশুদের মনে যদি শুরু থেকে দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব সৃষ্টি করা যায় এতে তৃণমূল থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শুরু হবে। তবেই আমরা পাবো দুর্নীতিমুক্ত ও সুন্দর একটি দেশ বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।
গতকাল মঙ্গলবার বিকালে দুর্নীতি বিরোধী সপ্তাহ উপলক্ষে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুদক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। এসময় দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম, সচিব আবু মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, মিডিয়া এ্যাওয়ার্ডের জুরী বোর্ডের সদস্য বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, পিআইবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলমগীর ও একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু উপস্থিত ছিলেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে যত বাধা আছে তার মধ্যে বড় বাধা হলো দুর্নীতি। এটা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয় উন্নত দেশগুলোরও সমস্যা। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতিকে দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়েছে।
তিনি বলেন, আগে দেখা যেত দুর্নীতির তদন্ত হয়না, আবার তদন্ত হলেও শাস্তি হয়না। এখন আর সে অবস্থা নেই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে দদক আগের চেয়ে তৎপর, অনেক বেশী সক্রিয়। দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূলে দুদক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্নীতির প্রতিরোধ এককভাবে দুদকের পক্ষে করা সম্ভব নয়। প্রত্যেকের দায়িত্ব রয়েছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার।
সভাপতির বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে গণমাধ্যম সহায়ক শক্তি। গণমাধ্যমকে উৎসাহিত করতে দুদক মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়ে থাকে। আশা করি এ্যাওয়ার্ড প্রদানের মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরো বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্য প্রমাণ নির্ভর রিপোর্ট করবে গণমাধ্যমগুলো। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম আমরা করে যাচ্ছি গণমাধ্যম পাশে থাকলো তা ফলপ্রসু হবে।
দুদক মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড : প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া ক্যাটাগরিতে দুদক মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড তুলে দেন প্রধান অতিথি সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। ইলেকট্রনিক মিডিয়া ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন মাছরাঙ্গা টিভির স্টাফ রিপোর্টার ওবায়দুল কবির, একাত্তর টিভির স্টাফ রিপোর্টার জেমসন মাহবুব পেয়েছেন দ্বিতীয় পুরস্কার, একুশে টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি এম এম সেকান্দার হয়েছেন তৃতীয়, আর মাছরাঙ্গা টিভির বিশেষ প্রতিনিধি বদরুদ্দোজা বাবু পেয়েছেন বিশেষ সম্মাননা। প্রিন্ট মিডিয়া ক্যাটাগরিতে সমকালের স্টাফ রিপোর্টার আবু সালেহ রনি প্রথম পুরস্কার এবং প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার ফখরুল ইসলাম পেয়েছেন দ্বিতীয় পুরস্কার। পুরস্কারের মধ্যে ছিল একটি সনদ, ক্রেস্ট ও নগদ আর্থিক সম্মাননা।
মানববন্ধন : এর আগে সকালে দুদকের মানববন্ধনে চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, বিদেশে পালিয়ে থাকা বড় দুর্নীতিবাজদের ধরার চেষ্টা চলছে। তাদের ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনা হবে। বড় দুর্নীতিবাজদের কতজন দেশের বাইরে পালিয়ে আছেন, কিভাবে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে শিগগির দুদকের সভায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দুদক আয়োজিত দুর্নীতিবিরোধী মানববন্ধনে দুদকের চেয়ারম্যান এ কথা বলেন। দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহের তৃতীয় দিন এ কর্মসূচির আয়োজন করে দুদক। মানববন্ধনে অংশ নেন দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম, সচিব আবু মোহাম্মদ মোস্তফা কামালসহ শিক্ষার্থী ও দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আজকে যে মানববন্ধন হচ্ছে এর উদ্দেশ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে দুর্নীতি বিরোধী চেতনা জাগ্রত করা। দুদকের একার পক্ষে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে নিয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে হবে। এর আগে দরকার জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো। তারই অংশ হিসেবে আমরা দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ পালন করছি।
দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দুদকের কার্যক্রম শিথিল হয়ে পড়েছে কিনা সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের কার্যক্রম শিথিল হয়নি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকায় আছি। আমরা দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম শুরু করেছি। কয়েকটি চার্জশীট হয়েছে, দুর্নীতিবাজরা গ্রেফতার হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধেও আমরা যুদ্ধ শুরু করেছি। এরইমধ্যে কয়েকজন মাদক স¤্রাটের সম্পদের হিসেবে তলব করে পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে তদন্ত সাপেক্ষে। দুর্নীতিবাজদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না।
তিনি বলেন, দুদকের কাজ কাউকে গ্রেফতার করা নয়। দুদক তখনই কাউকে গ্রেফতার করে, যখন তিনি আইন ভঙ্গ করেন কিংবা আদালতের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখান।
মাদকের কুফল প্রসঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে সতর্ক করে তিনি বলেন মাদকের কুফল সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানাতে হবে। মাদক একটি ভয়াবহ ব্যাধি। এটি পরিবার ও সমাজ ধ্বংস করে দেয়। তাই দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে দুদকের সংগ্রাম চলবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ