ঢাকা, বুধবার 29 March 2017, ১৫ চৈত্র ১৪২৩, ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় উপকূলে হতে পারে দেশের অন্যতম পর্যটন স্পট

মোঃ আবদুল জব্বার, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম): দক্ষিণ চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত উপজেলা বাঁশখালী। এ উপজেলার পূর্ব দিকে বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে সু-উচ্চ পাহাড় এবং পশ্চিম দিকে রয়েছে বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী উপকূলীয় সবুজ সমৃদ্ধ ঝাউবাগান বেষ্টিত সমুদ্র চর। এখানে রয়েছে বেশ কিছু নান্দনিক দৃশ্য। বর্তমানে ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকরা প্রতিনিয়ত কক্সবাজারের ন্যায় এখানে এসে ভিড় জমান। এখানে অবস্থিত পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে ইকোপার্ক, চা-বাগান ও উপকূলে সুবিশাল এলাকা জুড়ে ঝাউবাগান বেষ্টিত সমুদ্র সৈকত। যা প্রশাসন ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে পড়ে আছে পর্যটন গুলোর অধিকাংশ সংস্কার কাজ। অন্যান্য পর্যটন স্পট গুলোর পাশাপাশি সরকার যদি বাঁশখালীর উপকূলীয় সমুদ্র সৈকত ও ঝাউবাগানের যথাযথ তদারকি করেন তাহলে বাঁশখালীর উপকূলে হতে পারে দেশের অন্যতম পর্যটন স্পট।
বাঁশখালী উপকূলে সুদীর্ঘ ৩৭ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকত নজর কাড়ে যে কারো। কিন্তু সম্প্রতি সময় উপকূলীয় এলাকার অধিকাংশ ঝাউবাগান বিলীন হতে চললেও তা রক্ষায় প্রশাসনের কোন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নাই। সরকারের যথাযথ নজরদারির অভাবে এই সমুদ্র সৈকতকে পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে রূপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। বন বিভাগের পক্ষ থেকে বিগত দিনে বাঁশখালী উপকূলীয় সমুদ্র উপকূলকে পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে রূপ দেওয়ার জন্য অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বাঁশখালী ইকোপার্কের পক্ষ থেকে কদমরসুল বন বিশ্রামাগার ও উপকূলীয় এলাকায় বেশ কিছু শেড নির্মাণ করা হয়। কিন্তু অযতœ অবহেলায় পড়ে থাকায় বর্তমানে সেগুলোও বসার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অথচ কক্সবাজারের বিকল্প সমুদ্র সৈকত হিসাবে বাঁশখালী সমুদ্র সৈকতকে রূপায়িত করতে পারলে সরকার অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হতো তাতে কোন সন্দেহ নেই। বাঁশখালীর ছনুয়া থেকে শুরু করে গন্ডামারা, সরল, বাহারছড়া, খানখানাবাদ এলাকার বিশাল সমুদ্র সৈকতে সারি সারি ঝাউবাগান যে কারো নজর কাড়ে। কিন্তু বঙ্গোপসাগরের অথৈ জলরাশি ঢেউয়ের তোড়ে প্রতিদিন ভেঙে পড়ছে ঝাউবাগান (প্যারাবন)। তার উপর এ এলাকার কিছু অস্বাদু ব্যক্তি এই ঝাউবাগান গুলির গাছ কাটতে থাকায় বাগান যেমন উজাড় হতে চলছে তেমনি পরিবেশও চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং হারিয়ে যাচ্ছে নান্দনিক দৃশ্যাবলী।
বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকায় ঝাউবাগান ও ম্যানগ্রোভ বাগান সৃজনের জন্য দীর্ঘদিন থেকে নানা ভাবে বনবিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। ফলে বিগত দিনে সৃজিত ঝাউবাগান সে সব স্থানে রয়েছে, সেই সব স্থানের উপকূলীয় এলাকা অনেক মজবুত রয়েছে। অন্যদিকে যেসব স্থানে ঝাউবাগান সহ অন্যান্য কোন গাছ নেই সেই সব এলাকায় বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের স্রোতে বেঁড়িবাঁধ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকার লক্ষাধিক জনগণ। বিশেষ করে বাঁশখালীর খানখানাবাদ, বাহারছড়া, সরল, গন্ডামারা ও ছনুয়া এলাকার উপকূলীয় এলাকায় বনায়ন জরুরী হয়ে পড়েছে। একদিকে বনায়নের জন্য যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ না থাকা, অন্যদিকে যথাযথ তদারকির অভাবে ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার অভাবে বনায়নকৃত এলাকায় গাছ সংরক্ষণ না হওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে এই উপকূলীয় নয়নাভিরাম ঝাউবাগান। বিগত দিনে বেশ কয়েকটি ঘূর্ণিঝড়ের ফলে বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকার সৃজিত বাগান বিলীন হয়ে গেছে, অন্যদিকে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি উপকূলীয় এলাকায় নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নতুবা লবণ মাঠ অথবা চিংড়ি ঘের করার জন্য উপকূলীয় এ বাগান নিধনের অভিযোগও রয়েছে সাধারণ জনগণের। বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সারা দেশে বনায়নের গুরুত্বারোপ করলেও সেক্ষেত্রে বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকায় যথাযথ ভাবে বনায়নের জন্য বরাদ্দ পাওয়া যায় না বলে সংশ্লিষ্টরা দাবী করেন।
বাঁশখালীর পর্যটন স্পট গুলোর মধ্যে শীলকূপে অবস্থিত ইকোপার্ক, পুকুরিয়ার চা-বাগান ও উপকূলীয় এই ঝাউবাগান বেষ্টিত সমুদ্র সৈকত উল্লেখ্য যোগ্য হলেও সরকারি যথাযথ নজরদারির অভাবে সংস্কারহীন হয়ে পড়ে আছে দীর্ঘদিন। অথচ এসব পর্যটন স্পট গুলোর যথাযথ সংস্কার, তদারকি ও ভালভাবে যাতায়াত ব্যবস্থা করা হলে দেশের রাজস্ব আয়েও অন্যতম ভূমিকা রাখতে পারে এই পর্যটন স্পট গুলো। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অসংখ্য পর্যটকদের একটাই দাবী এসব পর্যটন স্পট গুলো যাতে অবিলম্বে সংস্কার করা হয়। তারা এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ