ঢাকা, বুধবার 29 March 2017, ১৫ চৈত্র ১৪২৩, ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

২৩ পদে ৪০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা

খুলনা অফিস : চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন নিয়ে খুলনার ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে চলছে নানা নাটকীয়তা। এতদিন নির্বাচনে দুটি প্যানেল অংশ নেয়ার তোড়জোড় থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। গত রোববার ২৩টি পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৪০ জন। এর মধ্যে বর্তমান সভাপতি কাজি আমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন প্যানেল থেকেই জমা দিয়েছেন ২৬ জন। বাকি ১৩ জন অন্য প্যানেলের প্রার্থী। এ অবস্থায় নির্বাচন পাশ কাটিয়ে বাণিজ্যিক ও সাধারণ শ্রেণীর ১৮টি পরিচালক পদে সমঝোতার সম্ভাবনাই জোরালো হয়েছে। ভোট হচ্ছে শুধু সহযোগী শ্রেণীর ৬টি পদে।
চেম্বার সূত্রে জানা গেছে, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল, বাছাই ও প্রাথমিক তালিকা প্রকাশের শেষ দিন ছিল ২৬ মার্চ। আগামী ৪ এপ্রিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার এবং ২৬ এপ্রিল ভোট হওয়ার কথা। নির্বাচনে বাণিজ্যিক দলে ৩টি, সাধারণ শ্রেণীতে ১৫টি এবং সহযোগী শ্রেণীতে ৬টি পরিচালকের পদ রয়েছে। ভোটার রয়েছেন বাণিজ্যিক দলে ৫জন, সাধারণ শ্রেণীতে ২ হাজার ৬১৪ জন এবং সহযোগীতে ১ হাজার ৪০৪ জন। অর্থ্যাৎ ২৩টি পরিচালক পদে মোট ভোটার ৪ হাজার ২৩ জন।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনের ৭/৮ মাস আগে থেকেই এবার চেম্বার নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়। চেম্বারের বর্তমান সহ-সভাপতি ও সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ আগে থেকেই প্রচারণা শুরু করে। দুই পক্ষই সমানভাবে ভোটার তৈরি করা শুরু করে। এ জন্য বিগত বছরের তুলনায় ভোটার বেড়েছে প্রায় দ্বিগুনের মতো। প্রচার-প্রচারণার একপর্যায়ে গত তিন মেয়াদে সভাপতির দায়িত্বে থাকা কাজি আমিনুল হকের অনুসারীরা কিছুটা কোনঠাসা হয়ে পড়ে। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে চেম্বার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। এখন কাজি আমিনুল হকের অনুসারিরাই শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচনে প্রায় অর্ধকোটি টাকা খরচ করে ভোটার তৈরির পরও সমঝোতা কেন-এই প্রশ্নই এখন  সবখানে।
জানা গেছে, সাধারণ শ্রেণীর ১৫টি পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ২৩ জন। এর মধ্যে ১৭ জনই কাজি আমিনুল হকের অনুসারি হিসেবে পরিচিত। অন্য ৬ জন মো. সাইফুল ইসলামের প্যানেলের প্রার্থী। সহযোগী শ্রেণীতে ৬টি পদে ১৩ জন প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে ৭ জন কাজি আমিনুল হক নেতৃত্বাধীন প্যানেলে, বাকি ৬টি অন্য প্যানেলের। বাণিজ্যিক দলের ৩টি পদে ৪ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে মো. সাইফুল ইসলাম ছাড়া অন্য তিন জন কাজি আমিনুল হক প্যানেলের। সাধারণ ও বাণিজ্যিক গ্রুপের ১৮টি পরিচালক পদে সমঝোতার সম্ভাবনাই বেশি। এজন্য এই দুই গ্রুপে কোন ৯ জন বাদ পড়ছেন সেটাই এখন আলোচনা হচ্ছে বেশি।
সাধারণ গ্রুপ থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ক্রমানুসারে সড়ক বিভাগ ঠিকাদান কল্যাণ সমিতি ও সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বুলু বিশ্বাস, শপিং কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমিতির একাধিকবার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল হাসান, স্টেশনারী ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ আল্লামা ইকবাল তুহিন, চেম্বারের সাবেক পরিচালক কাজী মাসুদুল ইসলাম, বর্তমান পরিচালক বদরুল আলম মার্কিন, এম এ মতিন পান্না, মো. মোশাররফ হোসেন, সিরাজুল হক, ক্যাবল ব্যবসায়ী হায়দার আলী খোকন, শরীফ মো. বদরুজ্জামান, ক্যাবল অপারেটরদের সভাপতি ফকির মো. সাইফুল ইসলাম, বর্তমান পরিচালক মো. মফিদুল ইসলাম টুটুল, ব্যবসায়ী জোবায়ের আহমেদ খান জবা, চেম্বারের সাবেক সহ-সভাপতি ওমর ফারুক মিঠু, সাবেক পরিচালক হাফিজুল ইসলাম চন্দন, মীর বরকত আলী, মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক জেড এ মাহমুদ ডন, শাজাহান মুরাদ, চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ আছাদুর রহমান, পরিচালক এস এম ওবায়দুল্লাহ, বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি শরীফ আতিয়ার রহমান, খুরশিদ আলম কাগজী ও মোস্তফা কামাল পাশা।
বাণিজ্যিক গ্রুপে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সিমেন্ট আমদানিকারক মালিক গ্রুপ থেকে গোপী কৃষাণ মুন্ধড়া, জেলা হোটেল মালিক গ্রুপ থেকে সৈয়দ হাফিজুর রহমান, জেলা আমদানিক গ্রুপ থেকে কাজি আমিনুল হক এবং বিভাগীয় নৌ পরিবহন মালিক গ্রুপ থেকে মো. সাইফুল ইসলাম।
সহযোগী শ্রেণীর পদে ভোট মোটামুটি চূড়ান্ত। এই গ্রুপের ৬টি পরিচালক পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ১৩ জন। এর মধ্যে নির্বাচনী মাঠে থাকবেন ১২ জন। প্রার্থীরা হচ্ছেন দীপক কুমার দাস, শেখ মনিরুল ইসলাম, মোস্তফা জেসান ভুট্টো ও তার ভাই¡ সনোয়ার এহসান জিয়া, খান সাইফুল ইসলাম, নিজারুল আলম জুয়েল, মো. মাহবুব আলম, মো. আলী আকবর টিপু, এস এম সামসুদ্দিন আহমেদ, চৌধুরী মিনহাজ-উজ-জামান সজল, মো. মাসুক উল হুদা ও শেখ মো. গাউসুল আযম। এর মধ্যে দুই ভাইয়ের মধ্যে একজন প্রত্যাহার করবেন বলে জানা গেছে।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বাণিজ্যিক ও সাধারণ শ্রেণীর ১৮টি পদে সমঝোতা হয়েছে। এসব পদে আমাদের ১০ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৬টি পরিচালক পদ দেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এই পদে নির্বাচন হবে না। তবে সহযোগী শ্রেণীর ৬টি পদে আলোচনা ফলপ্রসু হয়নি। এই ৬ পদে নির্বাচন হবে।
তবে চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি কাজি আমিনুল হক বলেন, অনেক কথা হচ্ছে-সময়ই বলে দেবে কোনটা সঠিক। তবে ব্যবসায়ীরা ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করতে চাচ্ছে।#

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ