ঢাকা, বুধবার 29 March 2017, ১৫ চৈত্র ১৪২৩, ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মূল্যায়ন বিবেচনার নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশে মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর টাওয়ার থেকে নিঃসৃত রেডিয়েশনের (বিকিরণ) মাত্রা এবং ক্ষয়ক্ষতি নির্ণয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থাসহ (আইএইএ) তিনটি সংস্থার বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন বিবেচনা করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে হাইকোর্টে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. সেলিম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার খন্দকার রেজা-ই-রাকিব।
এর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী রেডিয়েশন নিঃসরণ বন্ধের বিষয়ে বিটিআরসি কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা-ও প্রতিবেদন আকারে দাখিল করতে বলেন। গত ২২ মার্চ সরকার পক্ষে হাইকোর্টে মৌখিকভাবে জানায়, বাংলাদেশে মোবাইল ফোন কোম্পানির টাওয়ার থেকে নিঃসৃত রেডিয়েশনের (বিকিরণ) মাত্রা উচ্চ পর্যায়ের, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
সারা দেশে ছয়টি টাওয়ার পরীক্ষা করে একটিতে উচ্চমাত্রার বিকিরণ পাওয়া গেছে। তাই এই রেডিয়েশনের মাত্রা কমাতে বিটিআরসিকে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। সে বিষয়টি সরকার পক্ষ হাইকোর্টকে জানিয়েছে। ওই দিন আদালত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনটি ২৮ মার্চের মধ্যে হলফনামা আকারে জমা দিতে নির্দেশ দেন। এ ছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বিটিআরসি কী পদক্ষেপ নিয়েছে সেটিও এর মধ্যে আদালতকে জানাতে বলা হয়।
এর আগে সেলফোন টাওয়ারের রেডিয়েশন নিঃসরণ নিয়ে ২০১২ সালে হাইকোর্টে রিট করে পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ। ওই রিটের প্রেক্ষিতে মোবাইলের ট্রাওয়ারের রেডিয়েশনের মাত্রা এবং এর স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত প্রভাব খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যানকে বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির কয়েকটি মোবাইল ফোন টাওয়ার পরিদর্শন করে রেডিয়েশন বিষয়ে আদালতে একটি প্রতিবেদন দিতে বলেন। এ ছাড়া সাতদিনের মধ্যে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি করতে স্বাস্থ্যসচিবকে নির্দেশ দেয়া হয়।
এই কমিটিতে বিজ্ঞানি, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অধ্যাপক, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং আণবিক শক্তি কমিশনের প্রতিনিধিরা থাকবেন। এই কমিটিকে মোবাইল টাওয়ার থেকে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশগত প্রভাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। মোবাইল কোম্পানির টাওয়ারগুলো থেকে নিঃসৃত রেডিয়েশন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছিলেন হাইকোর্ট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ