ঢাকা, বুধবার 29 March 2017, ১৫ চৈত্র ১৪২৩, ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আতাইকুলায় মসজিদের বার্ষিক ইসলামী জলসা বন্ধ করল পুলিশ

পাবনা সংবাদদাতা : নিরাপত্তার অজুহাতে পাবনার আতাইকুলা থানার জগন্নাথপুর গ্রামে জামে মসজিদের উন্নতি কল্পে বার্ষিক ইসলামী জলসা বন্ধ করল থানা পুলিশ।
গ্রামবাসী সূত্রে জানাযায় থানার ভূলবাড়ীয়া ইউনিয়নের জগন্নাথপুর সরদার পাড়া আবু বকর সিদ্দিকিয়া জামে মসজিদের উন্নতি কল্পে বার্ষিক ইসলামী জলসার আয়োজন করেন মসজিদ ম্যানেজিং কমিটি। আজ মঙ্গলবার জলসার তারিখ নির্ধারিত হয়। প্রধান বক্তা ছিলেন কুষ্টিয়ার হাফেজ মাওঃ মোঃ আমির হামজা। প্রধান অতিথি করা হয় সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাওঃ মোঃ মোখলেছুর রহমান। ভূলবাড়ীয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল আজিজ মাস্টারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি করা হয় সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, আতাইকুলা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক, ভূলবাড়ীয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবু ইউনুস প্রাং, আর-আতাইকুলা ইউপি চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম বিশ্বাস। এদের নাম দিয়ে কয়েক দিন ধরে সাঁথিয়া, আতাইকুলাসহ আশ পাশ এলাকায় মাইকিং করা হয়। জগন্নাথপুর গ্রামের মাঠে ডেকোরেটর দিয়ে বিশাল প্যান্ডেল, গেট ও লাইটিং করে সাঁজসজ্জা করা হয়। কাকতালিয় ভাবে  সোমবার আতাইকুলা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আব্দুর রাজ্জাক জালসা প্যান্ডেলে গিয়ে প্যান্ডেল ভেঙ্গে ফেলা এবং জলসা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এলাকাবাসী কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন মাওঃ মোঃ আমির হামজা সরকার বিরোধী কথা বলেন। তাকে জলসা করতে দেওয়া যাবে না। জলসা হলে হাজার হাজার লোক সমাগম হবে। যদি কোন নাশকতা ঘটে তার দায় নিবে কে? বাধ্য হয়েই প্যান্ডেল ভেঙ্গে ফেলে এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে প্রধান অতিথির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন বিষয়টি আমার জানা নাই। মোবাইল ফোনে বিশেষ অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি  মোবাইল  ফোনে বলেন আমার কাছে এই গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান সহ কয়েক জন গ্রামবাসী এসেছিলেন। নিরাপত্তার বিষয়টি থানার ওসি দেখেন। নিরাপত্তার অভাব মনে হলে বন্ধ করতে পারেন। ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন জগন্নাথপুর গ্রামে ইসলামী জলসা বন্ধ হয়েছে প্রধান বক্তা নাকি আসবেন না তাই বলে মুঠো ফোনের সংযোগ কেটে দেন। মসজিদ কমিটির সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ মাস্টার, গ্রাম প্রধান আব্দুস সালাম সহ আরো অনেকে  ক্ষোভের সাথে বলেন বার্ষিক ইসলামী জলসার প্রস্তুতি সম্পূন্ন হওয়ায় এলাকাবাসীদের মধ্যে আনন্দ উদ্দিপনা দেখা দেয়। দূর-দূরান্ত থেকে নিকটতম আত্মীয় স্বজনরা বেড়াতে আসেন। হঠাৎ করে জলসা বন্ধ হওয়ায় সবার মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ