ঢাকা, বৃহস্পতিবার 30 March 2017, ১৬ চৈত্র ১৪২৩, ০১ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সংশয়ে প্যারিস চুক্তি জলবায়ু পরিবর্তন সমস্যা মোকাবিলা নিয়ে প্রশ্ন

২৯ মে সিএনএন/গার্ডিয়ান/আল জাজিরা : ওবামার স্বাস্থ্যবিমা বাতিল করতে গিয়েও পারলেন না ট্রাম্প। তারপরও তিনি বসে থাকলেন না। গত সপ্তায় ওবামার স্বাস্থ্যবিমার বাতিল করতে ব্যর্থ হয়ে বুধবার তিনি ওবামার জ্বালানি পরিকল্পনা বাতিল করতে এক নির্বাহী আদেশ জারি করলেন।
কার্বন নিঃসরণের কারণে বেড়ে যাওয়া বৈশ্বিক উষ্ণতাকে সীমিত রাখতে ‘ক্লিন পাওয়ার প্ল্যান’ পরিকল্পনা করেছিলেন বারাক ওবামা। সেই পরিকল্পনাটি বাতিল করে ‘এনার্জি ইন্ডিপেনডেন্টস এক্সিকিউটিভ অর্ডার’ নামে নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন ট্রাম্প।
পরিবেশ বিপর্যয় রোধের চেয়ে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন অর্থনৈতিক উন্নয়ন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ব্যবসা ও চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করার পক্ষে। তিনি বলছেন, এখন থেকে উৎপাদন ও চাকরির বাজারে এক নতুন যুগের সৃষ্টি হলো। তেল, গ্যাস, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করলে খরব কমবে, তাতে অনেক শিল্প-কারখানা নতুন করে ব্যবসায় উদ্ভদ্ধ হবে আর তাতে চাকরির সুযোগ বাড়বে, সে কথা সত্য, কিন্তু, যা হবে, তাতে যে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় হয়ে যাবে ট্রাম্প সে কথা মানতে নারাজ। তার যুক্তি, আগে আমেরিকার উন্নয়ন তারপর অন্য কিছু।
কিন্তু, এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক উষ্ণতায়। এর জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশের মতো সমুদ্র উককূলবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো। যেভাবে হিমবাহ গলে যাচ্ছে তাতে অচিরেরই নিচু অঞ্চলগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা। ২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রির নিচে রাখার যে চুক্তি হয়েছিল ট্রাম্পের এ পদক্ষেপের ফলে সে লক্ষ্যও ভেস্তে যেতে পারে। তাহলে এখন সবচেয়ে জরুরী প্রশ্ন যেটা দেখা দেবে তা হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন সমস্যা মোকাবেলা করবে কে?
চীন আগেই জানিয়ে দিয়েছে তারা কার্বন নিঃসরণ কমাবে না। ভারতও এর পেছনে খুব বড় ভূমিকা রাখতে পারবে না। ব্র্রিটেন  ব্রেক্সিট নিয়ে খুবই ঝামেলার মধ্যে আছে। ফ্রান্সেও সামনে নির্বাচন। জার্মানিও আছে নানা ঝামেলায়, জঙ্গি সামলাতেই তারা নাস্তানাবুঁদ। রাশিয়াও আন্তজার্তিক সমস্যা ও নিজেদের অন্তর্গত সমস্যা নিয়ে জর্জরিত। বিশ্বের পরাক্রমশালী দেশগুলো যখন নিজেদের সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত এবং নিজেদের উন্নয়নের কথাই ভাবছে তখন এই ভয়াবহ সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসবে কে?
এদিকে প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশের এই বিপন্নতার প্রেক্ষিতে গত বছরের ডিসেম্বরে প্যারিসে কপ ২১ নামের একটি সম্মেলনে প্রথমবারের মতো একটি জলবায়ু চুক্তির ব্যাপারে সম্মত হন বিশ্বনেতারা। চুক্তির আওতায় বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধির হার ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখতে বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। গত বছর নভেম্বরে ওবামা প্রশাসন ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। শুরু থেকেই ওই প্যারিস চুক্তির বিরোধিতাকারী ট্রাম্প জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক উৎপাদন ফিরিয়ে এনেছেন। নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণসাপেক্ষেই তার সিদ্ধান্তে কার্বন নিঃসরণ বেড়ে যাবে। স্বভাবতই বৈশ্বিক উষ্ণতাও বাড়বে।
‘২১ শতকের জ্বালানি’ উৎপাদনে জড়িত একজন মার্কিন চেম্বার অব কমার্স-এর একজন সদস্যকে উদ্ধৃত করে গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এখনও সরাসরি প্যারিস চুক্তি অস্বীকার করেননি ট্রাম্প। তবে নির্বাহী আদেশের সিদ্ধান্তের পর ওই চুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি ভঙ্গ করতে বাধ্য হবে। আর যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি ভঙ্গ করলে অন্য দেশগুলোও তা মানার বাধ্যবাধকতা অনুভব করবে না। একইভাবে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে আসবে কিনা তা এখনও চূড়ান্ত করেনি ট্রাম্প প্রশাসন। তবে নতুন নির্বাহী আদেশটি জারি হলে প্যারিস জলবায়ু চুক্তির শর্ত যুক্তরাষ্ট্র আদৌ কতটা পূরণ করতে পারবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। নির্বাচনের আগে থেকেই ট্রাম্পকে জলবায়ু চুক্তিবিরোধী অবস্থানে দেখা গেছে। গত নভেম্বরে এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছিল প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বের হয়ে আসতে অঙ্গীকারবদ্ধ ট্রাম্প বিভিন্ন উপায় খুঁজছেন। চুক্তি থেকে বের হয়ে আসতে চার বছরের একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তবে চুক্তিটি সমঝোতামূলক হওয়াতে কেউ এটি না মানলে কোনও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ