ঢাকা, বৃহস্পতিবার 30 March 2017, ১৬ চৈত্র ১৪২৩, ০১ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ফ্লাড লাইট বসছে হকি স্টেডিয়ামে

মাহাথির মোহাম্মদ কৌশিক : ফ্লাড লাইট বর্তমানে খেলাধুলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। যে খেলাতে ফ্লাড লাইট নেই সেখানে মানুষজনের আগ্রহও থাকে কময়। এবার সেই আগ্রহ তৈরি করতে সময়ের প্রয়োজন ফ্লাডলাইট স্থাপন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। দেশের তৃতীয় জনপ্রিয় খেলা হিসেবে হকি সবসময়ই থাকে আলোচনায়। সেই আলোচনাটা কখনো সাফল্য দিয়ে আবার কখনোবা কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বন্ধের কারণে। তবে এখন যেন সবকিছু মিলেমিশে গেছে। এবার একটু অন্যখবর দিয়ে শিরোনাম হয়েছে খেলাটি। আলাদা মাঠ থাকলেও এতদিন ফ্লাড লাইট ছিলনা। সে কারণে বড় কোন আসরের আয়োজন করতে পারছিলনা। সবচেয়ে বড় আসর হিসেবে হত মাসেই আয়োজন করা হয়েছে ওয়ার্ল্ড হকি লিগের দ্বিতীয় রাউন্ড। সেখানে সাফল্যের খোজে থাকলেও তা পায়নি লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। ফাইনালে খেলার লক্ষ্য নির্ধারন করলেও পঞ্চম হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে স্বাগতিক দলকে। আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের সুনাম বেশ পুরনো। সেখানে অপ্রাপ্তির চেয়ে প্রাপ্তিই বেশি। ১৯৮৫ সালে সর্বশেষ এশিয়া কাপের আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ। তারপর কেটে গেছে ৩২ বছর। এবার আবারো এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই আয়োজন করতে যাচ্ছে বর্তমানে ক্রিকেটের দেশ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ। কিন্তু সেখানেই দেখা দিয়েছিল সমস্যা। কারণ এশিয়া কাপ আয়োজন করতে সবার আগে প্রয়োজন স্টেডিয়ামে ফ্লাড লাইট বসানো। অনেক চেষ্টার পর অবশেষে মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি ষ্টেডিয়ামে বসতে যাচ্ছে ফ্লাড লাইট। তাতেই অনিশ্চয়তা কেটে গেছে এশিয়া কাপ হকি আয়োজনের।
এশিয়া কাপ আয়োজনে এশিয়ান হকি ফেডারেশনের (এএইচএফ) অন্যতম শর্ত ছিল ফ্লাড লাইট। ৯ অক্টোবরের মধ্যে ফ্লাড লাইট স্থাপন করার নিশ্চয়তা দিলে বাংলাদেশ আয়োজক হতে পারবে। যা কিছুটা হলেও ভাবনায় ফেলে দিয়েছিল ফেডারেশনটিকে। এমনিতে নিজেদের আলাদা কোন তহবিল না থাকায় স্পন্সর আর সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। এবার আর কারো অপেক্ষা করতে হবেনা। সম্প্রতি এএইচএফ’র কঠোর শর্তের চিঠি পাওয়ার পর যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল তা কেটেছে। হকি ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক আবুদস সাদেক জানিয়েছেন, ’ফ্লাড লাইট নিয়ে যতটা অনিশ্চয়তা ছিল তার অনেকটাই কেটে গেছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ফ্লাড লাইট স্থাপন করতে পারবো আমরা। ১৪-২২ অক্টোবর হবে এশিয়া কাপ হকি। সরকার থেকে নিশ্চয়তা পাওয়ার পর হাতে সময় ছিল ৬ মাস। তাই আমরা অপেক্ষায় আছি দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার’। ফ্লাড লাইট স্থাপনের ফাইল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমদোন পেয়েছে। এশিয়ার ৮ দেশ খেলবে এবারের এশিয়া কাপে। স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও অংশ নেবে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, জাপান, চীন ও ওমান। এশিয়া কাপ আয়োজন নভেম্বরে পেছানোর আবেদন করে কোন সাড়া পায়নি। আবহাওয়ার কারণে নভেম্বরে এশিয়া কাপ আয়োজন করতে চেয়েছিল। আর ফ্লাড লাইটের কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করার সময়ের জন্য আসর পেছাতে চেয়েছিলো ফেডারেশন। সর্বশেষ সেপ্টেম্বরের দিকে বাংলাদেশের কিছু খেলোয়াড় ইউরোপে খেলতে যাবে। এসব কিছু ধোপে টেকেনি। তিন দশক পর এত বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। যদিও এখনো ফ্লাডলাইট ও অবকাঠামোর সংস্কার কাজ শুরু হয়নি। খুব দ্রুতই শুরু হবে কাজ। এশিয়া কাপ হকির যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৮২ সালে পাকিস্তানের করাচি থেকে। দ্বিতীয় আসর বসেছিল ঢাকায় ১৯৮৫ সালে। সর্বশেষ ৭ বারের ৪ বারই হয়েছে মালয়েশিয়ায়। দু’বার হয়েছে ভারতের নয়াদিল্লি ও চেন্নাইয়ে। আর একবার জাপানের হিরোশিমায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের আসর। আগের নয় আসরের পাঁচটিতে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত গত আসরে আট দলের মধ্যে অষ্টম হয় জিমি-চয়নরা। ফ্লাড লাইটন স্থাপনের বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘সকল জটিলতার অবসান হয়েছে। শুধুমাত্র পরিকল্পনা মন্ত্রাণলয় একটি সভা করেই আমাদের একটি ছাড়পত্র দেবে। ছাড়পত্রটি হাতে পেলেই আমরা দরপত্র আহবান করে ফ্লাডলাইট ও স্টেডিয়াম সংস্কারের কাজে হাত দেবো। আশা করছি দ্রুতই কাজ শেষ হবে।’ এখন এটা হলেই কেবল অনেক দিনের লালিত স্বপ্নটা পূরণ হতে পারে হকিপ্রেমীদের।
আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক আগে থেকেই ধনীদের তালিকায় রাখা যায়। নিয়মিতই আয়োজন করতে চলেছে ফুটবল, ক্রিকেট, হকির মতো আসরগুলো। যা অব্যহত রয়েছে এখনো। এশিয়া কাপ আয়োজন নিয়ে শংকা দেখা দিয়েছে আরো আগেই। কারণ চাহিদামতো অর্থ না পাওয়ায় কিছুটা হতাশ ছিলেন হকি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। ওয়ার্ল্ড কাপ হকি লিগের দ্বিতীয় রাউন্ড সফলভাবে আয়োজন করলেও এশিয়া কাপ আয়োজন নিয়ে বিপাকে পড়েছিল বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। ফ্লাডলাইট স্থাপনে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় বড় এই টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ফলে সেপ্টেম্বরের টুর্নামেন্ট গড়াতে পারে অক্টোবরে, এমনটাই ভাবা হয়েছিল। তবে সেই ভাবনা এখন আর নেই। খুব দ্রুতই শুরু হবে মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে ফ্লাড লাইট বসানোর কাজ। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাদেক জানিয়েছেন, ’অনেক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে কাজ শুরু হতে যাচ্ছে স্টেডিয়ামে ফ্লাড লাইট বসানোর।
আমরা আশা ছাড়িনি, তবে শংকায় পড়ে গিয়েছিলাম। সেই শংকা এখন আর নেই। এই টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দেশটি মহাদেশীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। চারটি মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়ন দলই সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়ে থাকে। এছাড়া আরো কিছু প্রস্তুতিও করতে হবে ফেডারেশনকে। সেটা তারা করেই যাচ্ছে।
হকিতে অনেক বড় একটা সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায় বাংলাদেশের। সেই সুযোগ সব সময়ই আসেনা। তাই আবার কবে আসবে তা বলাই যাচ্ছেনা। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হকির আসর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সে কারণেই আশা-নিরাশার দোলাচলে দুলছিল বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। শেষ পর্যন্ত সেই দোদুল্যমান অবস্থানের অবসান হয়েছে। আর তা হতাশার মধ্য দিয়ে। দু’টি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট হওয়ার কথা ছিল ঢাকায়। এখন হবে একটি। অন্যটি ফ্লাডলাইট না থাকায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
ফলে গত বছরের সেপ্টেম্বরে অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপ হকি হলেও বাতিল হয়ে গেছে নভেম্বরের চ্যাম্পিয়ন্স হকি টুর্নামেন্ট। সেটি অনুষ্ঠিত হয় মালয়েশিয়ায়। গত নভেম্বরে ঢাকায় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি শুধুমাত্র ফ্লাড লাইটের কারণে, এমনটাই জানিয়েছিলেন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি খাজা রহমতউল্লাহ। প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ আসর বাতিল হওয়া প্রসঙ্গে ফেডারেশনের সাবেক এই সাধারন সম্পাদক বলেন, ‘আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন জানিয়েছে, ফ্লাড লাইট না থাকায় অনেক দেশই ঢাকায় খেলতে আগ্রহী নয়।
ফ্লাডলাইট বসানোর পরিকল্পনা অনেক আগে নেয়া হয়েছে। টাওয়ার কোথায় বসানো হবে, তা-ও ঠিক করা আছে। কিন্তু ফান্ডের অভাবে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয়ে বাজেট দিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু সেই বাজেট আমরা পাইনি। ভারত ও পাকিস্তানসহ এশিয়ার সেরা সাতটি দেশের খেলা ঢাকায় হতো। বড় ধরনের এ টুর্নামেন্ট হাতছাড়া হওয়ায় আমরা হতাশ।’ সে সময় ফ্লাডলাইট ও পূর্ণাঙ্গ পাওয়ার স্টেশন স্থাপনে প্রয়োজন প্রায় ৫ কোটি টাকা। এখন সেই অর্থ পাওয়া গেলে গত বছর পাওয়া যায়নি, আর সে কারণে হতাশ হয়েই ফিরতে হয়েছে। এবার সেই হতাশা যেন পেয়ে না বসে সেই চেষ্টায়ই করে যাচ্ছে খেলাটির সাথে সংশ্লিষ্টরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ