ঢাকা, বৃহস্পতিবার 30 March 2017, ১৬ চৈত্র ১৪২৩, ০১ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রধানমন্ত্রী দেশে জঙ্গিবাদ ঘটাচ্ছেন কি-না জনমনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে -ড. মোশাররফ হোসেন

স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে জঙ্গিবাদের ঘটনা ঘটাচ্ছেন কিনা এ নিয়ে জনমনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, রাজধানীর গুলশানে হলিআর্টিজনে জঙ্গি হামলার পর প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমরা জঙ্গি নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছি। এখন প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, তাহলে সম্প্রতি দেশে জঙ্গিবাদের একটি ঘটনা শেষ হতে না হতেই আরেকটি ঘটনা কিভাবে শুরু হচ্ছে। সরকারের এতো গোয়েন্দা বাহিনী আছে, এত শক্তি আছে তাহলে আবার কি করে জঙ্গিবাদের ঘটনা ঘটছে। এর সঠিক কারণ দেশের জনগণ জানতে চায়। শুধু তাই নয়, জনগণ বলাবলি শুরু করেছে যে, ভারত সফরকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী (জঙ্গিবাদ) এগুলো করছেন। এ নিয়ে অনেকে আজকে সন্দেহের চোখে দেখছে। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর কচি কাঁচার মেলা মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও প্রামাণ্য চিত্র প্রর্দশনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংগঠনের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবকদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল প্রমুখ।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৩ তলায় লাগা আগুন নিয়ে প্রশ্ন তুলে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ওপরেও নয়, নিচেও নয়, যে ১৩ তলায় বৈদেশিকমুদ্রার লেনদেন কার্যক্রম হয় সেই ১৩ তলায় আগুন লেগেছে। কেন ১৩ তলায় আগুন?-এমন প্রশ্ন তুলে বিএনপির এ নেতা বলেন, সবাই জানে বাংলাদেশে ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়েছে। আপনারা (বর্তমান সরকার) বলেছিলেন, চুরি যাওয়া রিজার্ভের অর্থ ফিরিয়ে আনবেন। যারা এ কাজে জড়িত তাদের চিহ্নিত করবেন। কিন্তু রিপোর্ট হয়েছে, তা গোপন রেখেছেন। কারণ আপনাদের অনেকেই সেখানে জড়িত হয়ে যাবে। বাংলাদেশের ব্যাংকের অনেক বড় বড় কর্মকর্তা আপনাদের সহযোগিতা করার জন্য দায়ি হয়ে যাবে। মোশাররফ হোসেন বলেন, বিদেশীরা বলছে ওই রিপোর্ট যদি প্রকাশ না করা হয় তাহলে এই টাকার ফেরৎ দেওয়া হবে না। এখন আবার সরকারের পক্ষে থেকে বলা হচ্ছে নতুন করে তদন্ত করা হবে। কিন্তু তার আগেই ব্যাংকের ১৩ তলায় আগুন লাগলো। এখন বলবে বাংলাদেশ ব্যাংকে আগুন লাগায় সকল প্রমাণাদি, যত রকমের ডকুমেন্ট আছে সব জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন আর কিছু করার নেই।
বিএনপির সিনিয়র এই নেতা অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৩ তলার আগুন নিয়ে যখন মানুষের দৃষ্টি ছিল তখন তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে জঙ্গির দিকে। জঙ্গি একটা শেষ হচ্ছে, আরেকটা শুরু হচ্ছে। আমরা এর কারণ জানতে চাই। আপনাদের গোয়েন্দা আছে, সরকারের এত শক্তি আছে, এত বাহিনী আছে। আপনারা জঙ্গি নির্মূল করে থাকেন, কেন আবার জঙ্গি আপনার খোঁজে পাচ্ছেন?
বিএনপির এই নেতা বলেন, ভারত আমাদের ভ্রাতৃপ্রতিমদেশ। আমাদের তিন দিকে থেকে ভারত। কোন দিক থেকে প্রতিরক্ষা হুমকি আছে, তা কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বলেননি। তা না হলে যদি প্রতিরক্ষার হুমকি না থাকেতাহলে কেন চুক্তি প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমাদের বাঁচার মরার সম্পর্ক পানি। সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে ন্যায্য পানির হিস্যা আদায় করতে পারছি না। আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার নয়, তাই তাদরে দ্বারা এটা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, দেশের চলমান সংকটের সমাধানসহ জনগণের ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচকালীন সরকারের জন্য একটি রুপ রেখে দিবেন খালেদা জিয়া। যার আলোকে বিএনপি নির্বাচনকালীন সরকার কায়েম করে নির্বাচনে যেতে চায়। এবং সেই নির্বাচনে দেশের জনগণ খালেদা জিয়াকে সরকার প্রতিষ্ঠা করতে ভোট দেবেন। আর এটাই হচ্ছে আওয়ামী লীগের ভয়। তাই আওয়ামী লীগ চেষ্টা করছেন জনগণের ভোট ছাড়া কিভাবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি মতো আরেকটি এক তরফা নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকা যায়।
বিএনপির রাজনীতিকে আওয়ামী লীগের বিকল্প রাজনীতি হিসেবে দেশের জনগণ গ্রহণ করেছে দাবি করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান প্রথমে নিজে এই দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ঘোষণা করেন। অথচ আজকে এই সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে ইতিহাস বিকৃত করে জাতিকে বিভ্রান্তির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। তারা দুর্বল তাই আজকে তাদের বিদেশী শক্তিগুলো যেভাবে ধাক্কা দিচ্ছে সেই ধাক্কার ফলে শেখ হাসিনার অনেক নৌকায় পা দেওয়ার দুরত্ব বেড়েই যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ