ঢাকা, বৃহস্পতিবার 30 March 2017, ১৬ চৈত্র ১৪২৩, ০১ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আ’লীগের আমলে উগ্রবাদের সূচনা হয়েছে

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-ভারত আসন্ন প্রতিরক্ষা চুক্তি : আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব কোন্ পথে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ জঙ্গিবাদের উত্থানের জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে বলেছেন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিন, জঙ্গিবাদ চলে যাবে। কারণ, গণতন্ত্রকে হরণ করার কারণেই জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটছে। 

গতকাল বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে কী কী চুক্তি করতে যাচ্ছেন- তা দেশবাসীকে আগেই জানানো উচিৎ বলে মন্ত্য করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের আমলে উগ্রবাদের সূচনা হয়েছে দাবি করে মওদুদ আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকাকালে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছে। সেসময় রমনার বটমূল, যশোরে উদীচীর অনুষ্ঠান, গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়াসহ মোট আটটি স্থানে বিরাট সন্ত্রাসী-জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু একটি ঘটনারও বিচার হয়নি। তখন মাত্র দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সুতরাং উগ্রবাদের উত্থানের জন্য আওয়ামী লীগ সরকার দায়ী।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, গণতন্ত্রকে হরণ করার কারণে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটছে। অথচ এটিকে অতিরঞ্জিত করে নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য আন্তর্জাতিক বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে আওয়ামী লীগ, সরকার, দেশসহ আমাদের সবারই ক্ষতি হবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের একার পক্ষে কিংবা শুধু র‌্যাব-পুলিশ দিয়েও জঙ্গিবাদ দমন করা সম্ভব হবে না। হয়তো কিছুটা করা যাবে, কিন্তু পুরোপুরি দমন করা যাবে না। জঙ্গিবাদ দমনের একমাত্র সমাধান, গণতন্ত্র ও দেশের মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়া।

সাবেক এই মন্ত্রী ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে বলেন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিন, জঙ্গিবাদ চলে যাবে। আমরা যদি দেশের সব রাজনৈতিক দলসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারি, তাহলে জঙ্গিবাদ কিছুতেই বিস্তার লাভ করতে পারবে না। তখন এটা দমন করা সম্ভবপর হবে। প্রধানমন্ত্রী বারবার আহ্বান জানাচ্ছেন। কিন্তু শুধু আহ্বানে কাজ হবে না। সরকার যদি জঙ্গিবাদের উত্থানকে জাতীয় সমস্যা বলে মনে করে, তাহলে জঙ্গিবাদ দমনে সবাইকে নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টির জন্য প্রধানমন্ত্রীকে উদ্যোগ নিতে হবে। সরকার যদি এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করেন, তাহলে আমরা সম্পূর্ণভাবে তাকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছি।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি প্রসঙ্গে মওদুদ আহমদ বলেন, জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী যেকোনো চুক্তির আমরা বিরোধিতা করি। তাই প্রধানমন্ত্রীকে বলব, এমন কিছু করবেন না, যাতে করে আমাদের জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়। তবে ভারত সফরে প্রধানমন্ত্রী কী করে এলেন, সেটা আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করব। তারপর আমরা ওই ব্যাপারে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরব। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর উচিত হবে, ভারত সফরে তিনি কী কী চুক্তি করতে যাচ্ছেন- তা দেশবাসীকে আগেই জানানো। জনমত সৃষ্টি করে যদি কোনো চুক্তি করা হয়, তাহলে আমাদের কিছু বলার থাকে না। কিন্তু সেটা না করে একক সিদ্ধান্তে ঝুঁকি নিয়ে চুক্তি করা হলে তা মঙ্গলজনক-গ্রহণযোগ্য হবে না। বাংলাদেশের মাটিতে মানুষ যদি ওই চুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করতে চায়, তাহলে তারা আন্দোলনের মাধ্যমেই তখন আপনাদের পরিণতি কী হবে, সে ব্যাপারটিও নিশ্চয় আপনাদের বিবেচনায় রাখা উচিৎ।

মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইসতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন-বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক কর্নেল (অব.) জয়নাল আবেদিন, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ