ঢাকা, বৃহস্পতিবার 30 March 2017, ১৬ চৈত্র ১৪২৩, ০১ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আগামী নির্বাচনে নৌকায় ভোট চাই -প্রধানমন্ত্রী

গতকাল বুধবার ফরিদপুর শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে জনসভায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -বাসস

ফরিদপুর সংবাদদাতা : গরিবের কল্যাণ করে আওয়ামী লীগ। আমরা বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। যার ঘর নাই তাদের বিনা পয়সায় ঘর করে দিবো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বুধবার বিকেল সোয়া ৪টায় ফরিদপুর শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে এক জনসভায় ভাষণে এসব কথা বলেন। ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো গতকাল বুধবার ফরিদপুর আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে পদ্মাপারের মানুষ আমরা চিরকাল অবহেলিত ছিলাম। এই এলাকায় যখনি আপনারা নৌকায় ভোট দিয়েছেন তখনি আপনাদের উন্নতি হয়েছে। কাজেই আমি আপনাদের কাছে ওয়াদা চাই। আগামী নির্বাচন সামনে। ২০১৯ সালে নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমরা যাতে আমাদের উন্নয়নের কাজ অব্যাহত রাখতে পারি তার জন্য আপনাদের কাছে নৌকায় ভোট চাই। আপনারা নৌকায় কি ভোট দেবেন, বলেন- হাত তুলে বলেন।’

বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে ফরিদপুর অবহেলিত থেকেছে। আমরা আজকে (বুধবার) ফরিদপুরের জন্য অনেক উপহার নিয়ে এসেছি। একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই দেশে উন্নয়ন হয়। উপহার হিসেবে আপনাদের ২০টি প্রকল্প দিয়ে গেলাম।

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহার সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপি, বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি, ডা. দীপু মনি এমপি ও আবদুর রহমান এমপি, বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দীর্ঘদিন পরে মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ফরিদপুরের শ্বশুরবাড়িতে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে বিশ্রাম ও মধ্যাহ্ন ভোজ সেরে জনসভাস্থলে যান তিনি।

ফরিদপুর থেকে বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বুধবার দেশবাসীকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এবং মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ছাত্র-ছাত্রীদের জঙ্গি, মাদকাসক্তি এবং সন্ত্রাসের পথ পরিহার করতে হবে।

সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ আমাদের পথ নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া শিখে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হবে, আমরা উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি দিচ্ছি যাতে উন্নত শিক্ষা পেতে পারে। আমরা আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষা দিচ্ছি, যাতে প্রযুক্তি শিক্ষা তারা নিতে পারে। কাজেই সে শিক্ষা নিতে হবে এবং সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সমগ্র জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে। ’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বুধবার ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অভিভাবকবৃন্দ, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, ওলামা-মাশায়েখ, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, প্রশাসনসহ সকলের কাছে আমার এই আহ্বান থাকবে- একটা ছেলে-মেয়েও যেন ঐ সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ এবং মাদকের পথে না যায়। কোন স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়ের অনুপস্থিতির হিসেব নিতে হবে। বাবা-মাকে, নিজের ছেলে-মেয়ে কার সাথে মেশে, কার সাথে বন্ধুত্ব করে, কার সাথে চলাফেরা করে তা খেয়াল রাখতে হবে।

তিনি বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলাম ধর্ম মানুষকে হত্যা করতে বলে নাই। ইসলাম ভ্রাতৃত্বের ধর্ম, সৌহাদ্যের ধর্ম, আমাদের নবী করিম (সা:) আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন যে, যে ধর্মেরই হোক সকলকে সহযোগিতা করতে। নিরীহ মানুষকে হত্যা করা আর আত্মহননের পথ বেছে নেয়া কখনো ইসলাম সমর্থন করে না।

এর আগে অপরাহ্নে একইস্থানে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং আরো ১২টি নতুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী ঢাকা বিভাগকে ভেঙ্গে ফরিদপুরসহ ৫টি জেলা নিয়ে পৃথক একটি বিভাগ গঠনে সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘ইনশাল্লাহ ঢাকা বিভাগ ভেঙ্গে আমরা নতুন আরেকটা বিভাগ করবো। ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ি, শরিয়তপুর, গোপালগঞ্জ নিয়ে আরেকটি বিভাগ আমরা করবো সেই পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে।

জাতির পিতার পদাংক অনুসরণ করে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে তাঁর সরকার নতুন নতুন বিভাগ করে দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিভাগ ভেঙ্গে ময়মনসিংহ বিভাগও আমরা ইতোমধ্যেই করে দিয়েছি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এই বিভাগ করার উদ্দেশ্য জনগণ যাতে বেশি সেবা পায়। জনগণ যাতে আরো বেশি কাজ পায় সেই সুযোগ আমরা সৃষ্টি করে দিচ্ছি।’ দক্ষিণাঞ্চল এবং পদ্মাপাড়ের মানুষ চিরদিন অবহেলিত ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্মাণাধীন পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলে এই অঞ্চলের জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করেন সেগুলো হচ্ছে- ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় নির্মাণ, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, পল্লীকবি জসিম উদ্দীন সংগ্রহশালা, ফরিদপুর ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজী, শিশু একাডেমী, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহা পরিদর্শকের কার্যালয় নির্মাণ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ফরিদপুর, ফরিদপুর ৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্লান্ট, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের একাডেমিক কাম পরীক্ষা হল নির্মাণ, সদর উপজেলাধীন চর কমলাপুর খেয়াঘাট থেকে বিলমামুদপুর স্কুল সড়কে কুমার নদীর ওপর ৯৬ মিটার আরসিসি ব্রিজ নির্মাণ, ভাংগা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ, মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নয়ন, আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস ফরিদপুর, বিএসটিআই ভবন নির্মাণ, ভাংগা থানা ভবন নির্মাণ, মধুখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মাণ, সদর উপজেলা থেকে বাখুন্ডা জিসি হয়ে রসুলপুর ভায়া চরনিখুরদি সড়ক বিসি দ্বারা উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প, ফরিদপুর সদর উপজেলাধীন ডিক্রিরচর ইউনিয়নের মুন্সীডাঙ্গী কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ এবং ৩৩/১১ কেভি হারুকান্দি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র (ক্ষমতা ২০/২৬.৬৬ এমভিএ)।

এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী কুমার নদ পুন:খনন প্রকল্প, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আলফাডাঙ্গা, ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পুলিশ হাসপাতাল, পুলিশ অফিসার্স মেস, সালথা টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের একাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, চন্দ্রপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ফরিদপুরের ছাত্রী নিবাস নির্মাণ, চীফ জুডিশ্যিয়াল ম্যাজিস্ট্রৈট আদালত নির্মাণ, ১৫০০ আসন বিশিষ্ট মাল্টিপারপাস হলরুম নির্মাণ, সালথা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, সদরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ