ঢাকা, বৃহস্পতিবার 30 March 2017, ১৬ চৈত্র ১৪২৩, ০১ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আশুলিয়ায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১॥ আহত ২০

 

সাভার সংবাদদাতা : আশুলিয়ার পাথালিয়ায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একজন নিহত এবং আহত হয়েছে ২০জন। গতকাল বুধবার বিকেলে আশুলিয়ার নয়ারহাট বাজার এলাকায় পাথালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পারভেজ দেওয়ান ও ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেমের গ্রুপের মধ্যে এ ঘটনা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের নাম আব্দুর রহিম (৪৫)। সে আওয়ামী লীগ কর্মী ও পাথালিয়ার চাকলগ্রামের মৃত মনোয়ার হোসেনের ছেলে।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানায়, আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ দেওয়ান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেমের সাথে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে র্দীঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এছাড়াও নয়ারহাট এলাকার ডেনিম নামের একটি কারখানার ঝুট ব্যবসা দখলকে কেন্দ্র করেও তাদের মধ্যে বিরোধ চলছে। এরই সুত্র ধরে বুধবার বিকেলে পারভেজ চেয়ারম্যানের নির্দেশে শরিফ, হালিম, ফারুক, সজিব ও হাবিবের নেতৃত্বে একদল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নয়ারহাট বাজার এলাকায় মোয়াজ্জেমের অফিসে হামলা চালায়। এসময় পাল্টা জবাবে মোয়াজ্জেমের লোকজনও হামলা চালালে শুরু হয়ে যায় দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে চেয়ারম্যানের লোকজন আব্দুর রহিম নামের এক আওয়ামী লীগ কর্মীর মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে প্রকাশ্যে গুলী করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে এ ঘটনার পর ওই এলাকা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নয়ারহাট এলাকায় প্রায় এক হাজার দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা।

এবিষয়ে পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ দেওয়ান বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেমের লোকজন তার অফিস ভাঙচুর করায় চেয়ারম্যানের সমর্থনকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে পাথালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আধিপাত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পারভেজ চেয়ারম্যানের লোকজন তার নেতা কর্মীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। গুলী করার পরে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা অফিস ভাংচুর করে।

এব্যাপারে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়াও এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ