ঢাকা, বৃহস্পতিবার 30 March 2017, ১৬ চৈত্র ১৪২৩, ০১ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তের দ্বিগুণ দীর্ঘ দেয়াল দেবে ভারত

 

সংগ্রাম ডেস্ক : মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল দেয়ার ঘোষণা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কম সমালোচিত হননি। তাতে অবশ্য ভারতের কিছু যায় আসে না। তবে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তের দ্বিগুণ বড় দেয়াল দেবে। সিএনএন’এর এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি দুটি দেশের সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেয়াল তৈরির ঘোষণা দিয়েছে যা মেক্সিকোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের দ্বিগুণ। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং তার দেশের অভিপ্রায় পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন বাংলাদেশের সঙ্গে ৯০ ভাগ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেয়া হলেও বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসী ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছে। আমাদের সময়.কম।

রাজনাথ সিং বিএসএফ’এর গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠানে দিন কয়েক আগে বলেন, যত শীঘ্রই সম্ভব বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সীমান্তে এই দেয়াল তৈরির কাজ শুরু হবে। আমি জানি এ কাজে বাঁধা আসবে কারণ সীমান্তের কিছু এলাকায় পাহাড়, জঙ্গল ও নদী রয়েছে।

সিআইএ ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক অনুসারে ভারতের সঙ্গে ৬টি দেশের সীমান্ত রয়েছে ৮ হাজার ৬’শ মাইল বা ১৩ হাজার কিলোমিটার। তবে দিল্লির মাথা ব্যথা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে দেশটির সীমান্ত নিয়ে। ভারতের উত্তর সীমান্তে পাকিস্তানের সঙ্গে কাশ্মীর নিয়ে সমস্যার কারণ হচ্ছে অত্যন্ত বিতর্কিত অঞ্চল নিয়ে দুটি দেশ ১৯৪৭ সাল থেকে যুদ্ধ করে আসছে।

সিএনএন’কে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কে এস হাটওয়ালিয়া বলেন, পাকিস্তান সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর এলাকা বন্ধ করে দেবে সরকার। এছাড়া পূর্ব সীমান্তে বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটছে যা ভারতের জাতীয় সম্পদ ও নিরাপত্তার ওপর হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। এটা এখন ভারতের জন্যে বিরাট চ্যালেঞ্জ।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক সঞ্জিব ত্রিপাঠি দাবি করেন, ১৫ মিলিয়ন বাংলাদেশী অবৈধভাবে ভারতে বাস করছে। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে বাকি ১০ ভাগ সীমান্ত আগামী বছরের মধ্যে বন্ধ করার কথা জানান কে এস হাটওয়ালিয়া। বিশ্লেষকরা বলেন, ভারতের সরকার পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তে দেয়াল গড়ে তোলার কথা বললেও কাজটি অত সহজ নয়। বরং ভূখণ্ডের কারণে কাজটি প্রায় অসম্ভব। দিল্লি ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চের বিশেষজ্ঞ ভারত কার্নাড বলেন, যত আধুনিক প্রযুক্তি আমদানি করা হোক বা যত চেষ্টাই হোক এধরনের সীমান্তে যাতায়াত খুবই সহজ। পাকিস্তান সীমান্তে যখন বরফপাত হয় তখন কোনো দেয়াল কাজে আসে না, তেমনি বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্তের অনেক এলাকায় জলাভূমি ও নদী রয়েছে।

ভারতের ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্ট’এর নির্বাহী পরিচালক আজাই শাহনি বলেন, সীমান্তে যতই যাতায়াত চলুক না কেন, দেয়াল সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে অবৈধ যাতায়াত কমে আসবে। ২০০৩ সালে ভারত ও পাকিস্তান কাশ্মীর নিয়ে অস্ত্রবিরতি চুক্তি করার পর সীমান্তে অবৈধ যাতায়াত অনেক কমেছে। তারপরও অনুপ্রবেশ রয়েছে এবং তা পুরোপুরি রোধ করা অতটা সহজ নয়।

বিএসএফ’এর একজন মুখপাত্র জানান, পাকিস্তান সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর আড়াই লাখেরও বেশি সৈন্য মোতায়েন রয়েছে। যা বিএসএফকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী হিসেবে পরিণত করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ