ঢাকা, বৃহস্পতিবার 30 March 2017, ১৬ চৈত্র ১৪২৩, ০১ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নানান সমস্যায় জর্জরিত মাধবদী থানা পুলিশ

মোঃ আল আমিন, মাধবদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা : শিল্পাঞ্চল মাধবদীতে থানা আছে, কাজ আছে, আছে জনবলও। শুধু নেই থানার নিজস্ব কার্যালয়। কয়েক মাসের জন্য অস্থায়ীভাবে মাধবদী তদন্ত কেন্দ্র (পুলিশ ফাঁড়িতে) থানার কার্যক্রম শুরু হলেও ১ বছরেরও বেশী সময় পেরিয়ে গেলেও নিজস্ব কোন ভবন পাওয়া যায়নি। ফলে নানা সমস্যার মধ্যেই কর্মকাণ্ড চালাতে হচ্ছে এখানকার পুলিশ সদস্যদের। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বাসিন্দাদের নিরাপত্তার গুরুত্ব অনুধাবন করে গত বছরের ২০১৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) এর সভায় সরকারের পক্ষ থেকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। মাধবদীবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি ও স্বপ্ন ছিল মাধবদীতে পূর্ণাঙ্গ থানা বাস্তবায়ন করার। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী লেঃ কর্ণেল নজরুল ইসলাম হিরু বীর প্রতীক এমপি মাধবদীকে পূর্ণাঙ্গ থানা করার পেছনে বিশেষ অবদান রাখেন। ২০১৬ সালের ১ জুন বুধবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, পুলিশের আইজি মহোদয় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার সুধীমহলের লোকজনদের নিয়ে এক অনুষ্ঠানের মধ্যে মাধবদী থানার কার্যক্রম উদ্বোধন করার কথা থাকলেও তা যে কোন কারণবশত অনুষ্ঠানটি করা হয়নি পরে সে দিনই সকাল ১০ টায় নরসিংদী পুলিশ সুপার আমেনা বেগম (বিপিএম) মহোদয় মাধবদী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কার্যালয়ে মাধবদী থানার প্রশাসনিক কার্যক্রমের শুভ সূচনা ঘোষণা করেন। এ সময় পুলিশ সুপার আমেনা বেগম (বিপিএম) বলেন আমরা অতিশীগ্রই উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নিয়ে মাধবদী থানার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবো। মাধবদী পৌরসভা সহ নুরালাপুর, কাঁঠালিয়া, মহিষাশুড়া, মেহেরপাড়া, পাচঁদোনা, আমদিয়া, পাইকারচর ও চরদিঘলদী ইউনিয়ন নিয়ে মাধবদী থানার শুভ সুচনা করলেও এ থানার কোন নিজস্ব জমি ও ভবন না থাকায়, কয়েক মাসের জন্য অস্থায়ী ভাবে মাধবদী তদন্ত কেন্দ্র (পুলিশ ফাঁড়ির) ভবনে যাত্রা শুরু হয় মাধবদী থানার কার্যক্রমের। এ অবস্থায় বছর পেরিয়ে গেলেও আজও জরার্জিন পুরাতন টিনের চালার নিচে মাধবদী তদন্ত কেন্দ্রর কার্যালয়ে থানার কার্যক্রম চলছে। সে সময় পুলিশ সুপার আমেনা বেগম (বিপিএম) মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইলিয়াছকে মাধবদী থানার আওতাধিন ১টি পৌরসভা ও ৮ টি ইউনিয়নের দ্বায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। সূত্র আরো জানায় মাধবদী থানা এলাকায় কমপক্ষে ৫ লক্ষাধিক ও অন্যান্য জেলা থেকে আসা শ্রমজীবী ও ব্যবসায়ী আরো কমপক্ষে ১ থেকে দেড় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। এ অবস্থায় এ অঞ্চলে থানার গুরুত্ব বাড়ায় এখানে থানার অনুমোদন দেয়া হয় এ অবস্থায় থানায় দায়িত্ব পালন করছেন ১২ জন এস আই, ১০ জন এ এস আই, ৪ জন মহিলা পুলিশ সদস্য (কনস্টেবল) এবং ৩৫ জন পুরুষ কনস্টেবল সদস্য। পুরাতন জরার্জিন টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে পুলিশ ব্যারাক। রোদ, বৃষ্টি আর শীত এ ব্যারাকে থাকা পুলিশের নিত্যসঙ্গী। বৃষ্টির পানি পড়ে ভিজে নষ্ট হয় পুলিশের পোশাক-পরিচ্ছদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। ব্যারাকে জায়গা স্বল্পতা থাকায় ১৫/২০ জন পুলিশ সদস্যকে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। থানার অধিকাংশ সদস্যকেই মাধবদীর বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে। এছাড়া খাওয়া ও গোসলের জন্য রয়েছে নানা বিড়ম্বনা। বিশেষ করে নারী পুলিশ সদস্যদের পড়তে হয় নানা সমস্যায়। তাছাড়া নেই পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা হাজতখানা, ৪/৫ হাতের ছোট্ট একটি হাজত খানা যেখানে দু’জন আসামী রাখলেই দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হয়। একটু বৃস্টি হলেই হাজত খানায় ও তার সামনে হাঁটু পানি জমে থাকে। একই টয়লেট ব্যবহার করে পুলিশ ও আসামিরা। পর্যাপ্ত জনবল থাকার পরও সুযোগ-সুবিধা না থাকার কারণে পুলিশ, আসামি ও থানায় আসা সাধারণ মানুষকে পড়তে হচ্ছে নানা বিড়ম্বনায়। মাধবদী থানার ওসি মোঃ ইলিয়াছ জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতায় এ থানার কোন নিজস্ব কার্যালয় বা পুলিশ ব্যারাক নেই। যে কারণে তিনি নিজেও অন্যত্র থাকেন। থানার অন্যান্য অফিসাররাও বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাড়িতে থাকেন। ফলে থানার স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছুটা হলেও বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। তিনি বলেন, মাধবদী থানা ভবন ও ব্যারাকের জন্য প্রাথমিক ভাবে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন জমি অধিগ্রহণ করার জন্য পুলিশ সুপার মহোদয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। খুব শ্রীগ্রই আমরা কাজ শুরু করতে পারব বলে আশা করছি। থানা ভবন নির্মাণের জন্য এখনো কোন সরকারী অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ