ঢাকা, শনিবার 01 March 2017, ১৮ চৈত্র ১৪২৩, ০৩ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মৌলভীবাজারে অপারেশন স্থগিত কোটবাড়ীর আস্তানায় জঙ্গি নেই

কবির আহমদ ও আজাদুর রহমান আজাদ, মৌলভীবাজার থেকে : গতকাল শুক্রবার মৌলভীবাজার পৌরসভার বড়হাটে ‘জঙ্গি আস্তানায়’ সকাল ৯টা ৫২ মিনিট থেকে শুরু হওয়া অপারেশন ম্যাক্সিমাস স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রেস ব্রিফিংয়ে অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আজ শনিবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ফের অভিযান শুরু করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। 

প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি আরো বলেন, বড়হাটের বিশাল এই বাড়িটিতে অনেকগুলো কামরা রয়েছে। এগুলোতে প্রচুর বিস্ফোরক রয়েছে। ভেতরে বোম্ব এক্সপার্ট রয়েছে বলেও আইনশঙ্খলা বাহিনী ধারণা করছে। পরিস্থিতি জটিল থাকায় অভিযানে সময় লাগছে। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে বড়হাটের ওই বাড়ির সামনে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়। পৌনে ৮টার দিকে সিটিটিসি'র সোয়াট টিমের সদস্যরা সেখানে এসে পৌঁছান। রাতে অভিযান চালানো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে সকালে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজারের সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের সরকার বাজার এলাকার নাসিরপুর গ্রামে একটি জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সোয়াট টিমের ‘অপারেশন হিট ব্যাক’ এর সমাপ্তি ঘটে। এই অভিযানে এক পুরুষ, দুই নারী ও চার শিশু মারা যায়। গতকাল শুক্রবার এই ৭ জনের ময়না তদন্ত মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে শেষ হয়। তাদের লাশ এখনো মর্গে পড়ে আছে। 

এর আগে গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টা ৫২ মিনিটে বড়হাটের এই বাড়িতে ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’ শুরু করে সোয়াট। এ অভিযান চলাকালে প্রচণ্ড গোলাগুলীর শব্দ পাওয়া যায়। বিকেল ৪টা থেকে ৪টা ৩৬ মিনিট পর্যন্ত একটানা গোলাগুলীর প্রচণ্ড শব্দ শোনা যায়। এ সময়ে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায়। 

গত মঙ্গলবার রাত থেকে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে মৌলভীবাজার পৌরসভার বড়হাট এলাকায় একটি বাড়ি এবং খলিলপুর ইউনিয়নের সরকার বাজার এলাকার নাসিরপুর গ্রামের একটি বাড়ি ঘিরে রাখে পুলিশ ও সিটিটিসি। গত বুধবার সন্ধ্যায় নাসিরপুরের আস্তানায় হিটব্যাক অভিযান শুরু করে সোয়াট। আলোর স্বল্পতার কারণে রাতে অভিযান স্থগিত রাখা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পরে আবার অভিযান শুরু করে সোয়াট। বিকালে অভিযান শেষ হয়। 

এদিকে, গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টা ৫২ মিনিটে বড়হাটের ওই বাড়িতে 'অপারেশন ম্যাক্সিমাস' শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযান চলাকালে জঙ্গি আস্তানার বাইরে এক সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে মনিরুল বলেন, ‘ভেতরের পরিস্থিতি খুবই জটিল। বাড়ির ভেতর একাধিক কামরায় চার থেকে পাঁচ জঙ্গি রয়েছে। তার মধ্যে একজন বোম্ব এক্সপার্ট রয়েছে বলেও আমাদের ধারণা। 

অভিযানের নাম কেন ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’ এই প্রশ্নের জবাবে মনিরুল বলেন, ‘সার্বিক পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে জটিলতার ব্যাপকতা বোঝাতে এই নাম রাখা হয়েছে। ’ বড়হাটের এই বাড়ির জানালার গ্লাসগুলো শক্তিশালী কাঁচের তৈরি বলেও জানান মনিরুল। কারণ সোয়াটের ছোড়া গুলীতে কাঁচ ভাঙছে না। শুক্রবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে বিস্ফোরণে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঘটনাস্থল থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মৌলভীবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রোকনুজ্জামান জানান, আহত পুলিশ সদস্য একজন কনস্টেবল, তার নাম কয়সর। বিস্ফোরণের সময় ভাঙা কাঁচ গায়ে বিদ্ধ হয়ে তিনি আহত হয়েছেন। অবস্থা মারাত্মক কিছু নয়, চিকিৎসা চলছে। 

এছাড়া মৌলভীবাজারের নাসিরপুর জঙ্গি আস্তানায় হিটব্যাক অভিযানে উদ্ধার করা ৭টি লাশ হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে। এখনও লাশগুলোর ময়নাতদন্ত হয়নি। সুরতহাল রিপোর্ট করার পর ময়নাতদন্ত শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট এক সূত্রে জানা যায়। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌণে ১০টার দিকে ‘সোয়াত’র অপারেশন ‘হিটব্যাক’ শেষে লাশগুলো উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। এদের মধ্যে ১ জন পুরুষ, ২ জন মহিলা ও ৪ জন শিশু। লাশগুলোর বিস্তারিত পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। 

কুমিল্লার কোটবাড়ীর আস্তানায় জঙ্গি নেই ॥ আজ আবারো অভিযান শুরু

কমিল্লা অফিস : কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকায় আস্তানায় কোনো জঙ্গি নেই, তবে বিস্ফোরক রয়েছে বলে ধারণা করে জানিয়েছেন কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো শাহ আবিদ হোসেন। 

প্রায় ৬ ঘণ্টা পর শেষ হলো কুমিল্লা মহানগরীর সদর দক্ষিণের কোটবাড়ি এলাকায় গন্ধমতি গ্রামে জঙ্গি আস্তানার অভিযান ‘অপারেশন স্ট্রাইক আউট’। গতকাল শনিবার আবারো অভিজান শুরু করবে টেরোরিজম ইউনিট ও সোয়াট টিমের সদস্যসহ যৌথ বাহিনী। 

 গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে অভিযানস্থল থেকে বের হয়ে যায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও সোয়াট টিমের সদস্যসহ যৌথ বাহিনী। 

তবে ওই আস্তানা থেকে উদ্ধার করা বিস্ফোরক ও ‘শক্তিশালী’ বোমা নিস্ক্রিয় করার কাজ করছে ডিসপোজাল ইউনিট। 

পুলিশ সুপার জানান, জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে যে কক্ষটি ঘিরে রাখা হয়েছিল সেটির ভেতর কোনো জঙ্গি নেই, তবে অনেক বিস্ফোরক ও বোমা রয়েছে। 

এর আগে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলী ছুঁড়ছে। রুমের ভেতর আগে গ্যাস দেয়া হয়েছে, এখন পানি দেয়া হচ্ছে। ভেতরে বোমা থাকার আশঙ্কাতেই পানি দেয়া হচ্ছে। 

কুমিল্লায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের কারণে কোটবাড়ী-গন্ধমতি এলাকায় গ্যাস বিদ্্ুযৎ ও পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। কুমিল্লার কোটবাড়ী সড়কে যানবাহন চলাচল ও দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছে। মিডিয়ার লোকজন ছাড়া আশপাশের সড়কে জনসাধারণের চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। 

এ অভিযানকে কেন্দ্র করে ওই বাড়ির চারদিকে এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে র‌্যাব-পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। ওই বাড়িতে জঙ্গিদের অবস্থান থাকায় স্থানীয় এলাকার লোকজনকে বাড়ি সংলগ্ন সড়কে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। 

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো.শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুরো অভিযানের দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ