ঢাকা, শনিবার 01 March 2017, ১৮ চৈত্র ১৪২৩, ০৩ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

উগ্রপন্থী দলের উত্থান ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান : [দুই]
তখন বসা চক্ষু, উচু গাল, বড় কপাল ও মু-িত চুল বিশিষ্ট যুলখুওয়াইসিরা নামক এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলে: ‘হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহকে ভয় করুন, আপনি তো বে-ইনসাফি করলেন! তিনি বলেন, দুর্ভোগ তোমার! পৃথিবীর বুকে আল্লাহকে ভয় করার সবচেয়ে বড় কর্তব্য কি আমার নয়? আমি যদি আল্লাহর অবাধ্যতা করি বা বে-ইনসাফি করি তবে আল্লাহর এবং ন্যায় বিচার আর কে করবে? আল্লাহ আমাকে পৃথিবীবাসীর বিষয়ে বিশ্বস্ত বরে গণ্য করলেন, আর তোমরা আমার বিশ্বস্ত তায় আস্থা রাখতে পারছ না! এরপর লোকটি চলে গেল। তখন খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রা, বলেন হে আল্লাহর রসূল! আমি কি লোকটিকে (রসূলুল্লাহ স.- এর প্রতি অবিশ্বাস ও কুধারণা পোষণ করে ধর্মত্যাগ ও কুফরী করার অপরাধে) মৃত্যুদণ্ড প্রদান করব না? তিনি বলেন, না। হয়তোবা লোকটি সালাত আদায় করে। খালিদ রা. বলেন, কত মুসল্লিই তো আছে যে মুখে যা বলে তার অন্তরে তা নেই। তখন রসূলুল্লাহ স. বলেন, আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়নি যে, আমি মানুষের অন্তর খুঁজে দেখব বা তাদের পেট ফেঁড়ে দেখব। অত:পর তিনি গমনরত উক্ত ব্যক্তির দিকে দৃষ্টিপাত করে বলেন, এই ব্যক্তির অনুগামীদের মধ্যে এমন একদল মানুষ বের হবে যারা সদার্সবাদ সুন্দর-হৃদয়গ্রাহীভাবে কুরআন তিলাওয়াত করবে, অথচ কুরআন তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তাদের সালাত দেখে তোমাদের কেউ নিজের সালতকে তুচ্ছজ্ঞান করবে, তাদের সিয়াম দেখে কেউ নিজের সিয়ামকে তুচ্ছজ্ঞান করবে। তীর যেমন শিকারের দেহ ভেদ করে বেরিয়ে যায়, এরাও তেমনি ইসলামের মধ্যে প্রবেশ করে আবার বেরিয়ে চলে যাবে। তারা ইসলামের অনুসারীদের হত্যা করবে এবং প্রতিমা-পাথরের অনুসারীদের ছেড়ে দেবে। আমি যদি তাদেরকে পাই তবে আদ সম্প্রদায়কে যেভাবে নির্মূল করা হয়েছিল সেভাবেই তাদেরকে হত্যা করে নির্মূল করব। মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিকগণ উল্লেখ করেছেন যে, যুলখুওয়াইসিরা বা হুরকূস নামক এই ব্যক্তি খারিজীদের গুরুজনদের একজন ছিল।
এখানে এই ব্যক্তি ও তার অনুসারীদের বিভ্রান্তির মূল কারণটি প্রতিভাত হয়েছে। তা হলো, ইসলামকে বুঝার ক্ষেত্রে নিজের উপলদ্ধিকেই সঠিক মনে করা এবং এই উপলদ্ধির বিপরীত সকলকেই অন্যায়কারী মনে করা। এখানে রসূলুল্লাহ স. রাষ্ট্রীয় সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম করেছেন। তিনি সকল যোদ্ধার মধ্যে বা প্রয়োজনের ভিত্তিতে তা বণ্টন না করে অল্প কয়েকজনকে তা দিয়েছেন। এতে মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে মুমিন নিজের মনকে বুঝাতে পারেন যে, নিশ্চয় কোনো বিশেষ কারণে বা আল্লাহর বিশেষ নির্দেশেই রসূলুল্লাহ স. তা করেছেন। অথবা তিনি সরাসরি রসূলুল্লাহ স.-কে এর কারণ সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারেন। কিন্তু তিনি কখনো রসূলুল্লাহ স.-কে অন্যায়কারী বলে কল্পনা করতে পারেন না বা তাঁকে ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায় থেকে বিরত থাকার কথা বলতে পারেন না। কিন্তু এই ব্যক্তি দীনকে বুঝার ব্যাপারে নিজের জ্ঞানকেই চূড়ান্ত মনে করেছে। সে তার জ্ঞান দিয়ে অনুভব করেছে যে, রসূলুল্লাহ স. ইসলামের নির্দেশ লঙ্ঘন করেছেন এবং তৎক্ষণাৎ সে রসূলুল্লাহ স.-কে আল্লাহকে ভয় করতে ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে নির্দেশ দিয় রসূলের বিরুদ্ধাচরণ ও তাকে অবিশ্বাস করে ইসলামের সীমা লঙ্ঘন করে বেঈমান হয়ে যায় অথচ সে নিজেকে সঠিক ধর্মনিষ্ঠ মনে করে। পরবর্তীতে এর অনুসারীরা মূলত ‘মুসলিমদের’ বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করে। ‘মুরতাদ’, কাফির ইত্যাদি অভিযোগে এরা মুসলিমদেরকে হত্যা করে।
আলী রা. এবং আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রা. থেকে বিভিন্ন সহীহ সনদে বর্ণিত হাদীস রসূলুল্লাহ স. বলেন, ‘আখেরী যমানায় এমন একটি সম্প্রদায় আগমন করবে যারা হবে বয়সে তরুণ এবং তাদের বুদ্ধিজ্ঞান অপরিপক্কতা, বোকামি ও প্রগলভতায়পূর্ণ। মানুষ যত কথা বলে তন্মধ্যে সর্বোত্তম কথা তারা বলবে। তারা সত্য-ন্যায়ের কথা বলবে। কিন্তু তারা সত্য, ন্যায় ও ইসলাম থেকে তেমনি বেরিয়ে যাবে, যেমন করে তীর শিকারের দেহ ভেদ করে বেরিয়ে যায়। তাদের ঈমান তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তোমরা যখন যেখানেই তাদেরকে পাবে তখন তাদেরকে হত্যা করবে; কারণ তাদেরকে যারা হত্যা করে তাদের জন্য কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট পুরস্কার থাকবে।’
এখানে ইসলামের নামে বা সত্য, ন্যায় ও হক প্রতিষ্ঠার নামে সন্ত্রাসীকর্মে লিপ্তদের দু’টি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে: এক. এরা অপেক্ষাকৃত তরুণ বয়সের। ‘যুল খুওয়াইসিরা’র মত দু’চারজন বয়স্ক মানুষ এদের মধ্যে থাকলেও এদের নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ইত্যাদি সবই যুবক তরুণদের হাতে। সমাজের বয়স্ক ও অভিজ্ঞ আলিম ও নেতৃবৃন্দের নেতৃত্ব বা পরামর্শ এরা মূল্যায়ন করে না। দুই. এদের বুদ্ধি অপরিপক্ক ও প্রগলভতাপূর্ণ। আমরা আগেই দেখেছি যে, সকল সন্ত্রাসই মূলত রাজনৈতিক পরিবর্তন অর্জনের লক্ষে পরিচালিত হয়েছে। আর রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য অস্থিরতা ও অদূরদর্শিতা সন্ত্রাসী কর্মের অন্যতম কারণ। অপরিপক্ক বুদ্ধি, অভিজ্ঞতার অভাব ও দূরদর্শিতার কমতির সাথে নিজের জ্ঞান ও বুদ্ধির অহংকার এ সকল ধার্মিক যুবককে ইসলাম থেকে বিচ্যুত করছিল।
এদের বিদ্রোহের পরে হযরত আলী. রা. এদেরকে বুঝিয়ে রাষ্ট্রীয় আনুগত্যের মধ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা তাদের নির্বিচার হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রাখলে একপর্যায়ে আলী রা. তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। নাহরাওয়ানের যুদ্ধে তারা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় এবং অনেকে নিহত হয়। বাকিরা নতুন উদ্দীপনা নিয়ে জমায়েত হতে থাকে। একপর্যায়ে তারা একত্র হয়ে সিদ্ধান্ত নয় যে, যেহেতু আলী রা. ও মুআবিয়া রা. মুসলিম উম্মাহকে ইসলাম বিরোধিতা ও খোদাদ্রোহিতার মধ্যে নিমজ্জিত করেছেন, সেহেতু তাদেরকে গোপনে হত্যা করলেই জাতি এই রমযান মাসের ২১ তারিখে ফজরের সালাতের পূর্বে আলী রা. যখন বাড়ি থেকে বের হন, তখন বিষাক্ত তরবারী দ্বারা তাঁকে আঘাত হানে। আলী রা. এর শাহাদতের পরে তাঁর উত্তেজিত সৈন্যেরা যখন আব্দুর রহমানের হস্তপদ কর্তন করে তখন সে মোটেও কষ্ট প্রকাশ করেনি, বরং আনন্দ প্রকাশ করে। কিন্তু যখন তারা তার জিহ্বা কর্তন করতে চায় তখন সে অত্যন্ত আপত্তি ও বেদনা প্রকাশ করে। তাকে কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলে, আল্লাহর যিকির করতে করতে আমি শহীদ হতে চাই। আলী রা.- কে এভাবে গুপ্ত হত্যা করাতে আব্দুর রহমানের প্রশংসা করে তাদের এক কবি ইমরান ইবনু হিত্তান (মৃত্যু ৮৪ হি.) বলেন, ‘কত মহান ছিলেন সেই নেককার মুত্তাকি মানুষটি, যিনি সেই মহান আঘাতটি করেছিলেন! সেই আঘাতটির দ্বারা তিনি আরশের অধিপতির সন্তুষ্টি ছাড়া আর কিছুই চাননি। আমি প্রায় তাঁর স্মরণ করি এবং মনে করি, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি সাওয়াবের অধিকারী মানুষ তিনিই।’
হযরত আলী রা. ও অন্যান্য সাহাবী এদের ধর্ম নিষ্ঠার কারণে এদের প্রতি অত্যান্ত দারদ অনুভব করতেন। তাঁরা এদের উগ্রতা পরিহার করানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেন। কিন্তু সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়। তারা ইসলাম ও কুরআন সম্পর্কে তাদের নিজস্ব চিন্তা ও ব্যাখ্যা পরিত্যাগ করতে অস্বীকার করে। আলী রা.-কে প্রশ্ন করা হয়, এরা কি মুনাফিক? তিনি বলেন, এরা তো কুফরী থেকে বাঁচার জন্যই পালিয়ে বেড়াচ্ছে। বলা হয়, তবে কি তারা মুনাফিক? তিনি বলেন, মুনাফিকরা তো খুব কমই আল্লাহর যিকির করে, আর এরা তো রাতদিন আল্লাহর যিকিরে লিপ্ত। বলা হয়, তবে এরা কী? তিনি বলেন, এরা বিভ্রান্তি ও স্বমতে অবিচল থাকায় ফিতনায় নিপতিত হয়ে অন্ধ ও বধির হয়ে গিয়েছে।
ইসলামের ইতিহাসের এই প্রথম সন্ত্রাসী ঘটনা পর্যালোচনা করলে আমরা দেগখতে পাই যে, জ্ঞানের অহংকারই ছিল তাদের বিভ্রান্তির উৎস। আমরা দেখেছি যে, রসূলুল্লাহ স. এরূপ উগ্রতায় লিপ্তদের দু’টি বৈশিষ্টের কথা উল্লেখিত করেছেন: তারুণ্য এবং বুদ্ধির অপরিপক্কতা বা হঠকারিতা। তাই তারা ইসলাম বুঝার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিজেদের দৃষ্টিভংগিকেই চূড়ান্ত মনে করতো। রসূলুল্লাহ স.- এর আজীবনের সহচর ও দীন সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী সাহাবীগণের মতামতকে অবজ্ঞা করা বা তাদের পরামর্শ গ্রহণ করাকে তারা অপ্রয়োজনীয় মনে করতো। তাদের বুঝের বাইরে মত প্রকাশকারীদেরকে ঢালাওভাবে তারা অবজ্ঞা করতো।
এছাড়া তারা কুরআন বুঝার জন্য সুন্নাতের গুরুত্ব অস্বীকার করে। তারা হাদীস একবারও অস্বীকার করতো না। কখনো কখনো সাহাবীদের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে তারা হাদীস শিক্ষার জন্য গমন করতো ও প্রশ্ন করতো। কিন্তু ইসলামী জীবনব্যবস্থার ক্ষেত্রে কুরআনকেই তারা যথেষ্ট মনে করতো। রাতদিন তারা কুরআন পাঠ ও চর্চায় রত থাকতো। কুরআন বুঝার জন্য রসূলুল্লাহ স.- এর ব্যক্তিগত কর্ম, ব্যাখ্যা বা হাদীসের গুরুত্ব তারা অস্বীকার করতো। কুরআনের আয়াতের বাহ্যিক অর্থ যা তারা বুঝতো তাকেই চূড়ান্ত মনে করতো।
শুরু থেকেই সাহাবীগণ এদের বিভ্রান্তির কারণ উপলদ্ধি করেছিলেন। এজন্য তারা ‘সুন্নাত’- এর মাধ্যমে তাদের বিভ্রান্তি অপনোদনের চেষ্টা করতেন। আলী রা. আব্দুলাহ ইবনে আব্বাস রা. -কে তাদেরকে বুঝানোর জন্য পাঠানোর প্রাক্কালে বলেন, ‘তুমি তাদের কাছে যাও, তাদের সাথে আলোচনা-বিতর্কে লিপ্ত হও। তাদের সাথে কুরআন দিয়ে বির্তক করো না; কারণ কুরআন বিভিন্ন ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে। বরং তুমি সুন্নাত দিয়ে তাদের সাথে বির্তক করবে।... ইবনে আব্বাস রা. বলেন, হে আমীরুল মুমিনীন, কুরআনের জ্ঞান তাদের চেয়ে আমার বেশি, আমাদের বাড়িতেই তো কুরআন নাযিল হয়েছে। আলী রা, বলেন, তুমি সত্য বলেছ। তবে কুরআন বিভিন্ন প্রকারের অর্থ ও ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে, আমরাও কুরআনের কথা বলবো এবং তারাও কুরআনের কথা বলবে। কিন্তু তুমি সুন্নাত দিয়ে তাদের সাথে বির্তক করবে, তাহলে তারা প্রত্যাখ্যান করার কোনো পথ পাবে না।’ এ বিষয়ে উমর রা,-এর একটি ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে। তিনি বলেন: ‘অচিরেই কিছু মানুষ আসবে যারা কুরআনের অস্পষ্ট দ্ব্যর্থবোধক বক্তব্যাদি দিয়ে তোমাদের সাথে বির্তক করবে। তোমরা তাদেরকে সুন্নাত দিয়ে প্রতিরোধ করবে। কারণ সুন্নাতের জ্ঞান অভিজ্ঞ মানুষরা আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে অধিক অভিজ্ঞ।’ খারিজীদের দৃষ্টিভংগীতে কুরআন কারীমের কিছু আয়াতের আলোকে বিধানমত ফয়সালা না দেয়ার কারণে তারা আলী ও তাঁর অনুগামীদেরকে কাফির বলতো। তারা কুরআনের কিছু আয়াতের বাহ্যিক অর্থের ভিত্তিতে দাবি করে যে, মুসলিম ব্যক্তি পাপে লিপ্ত হলে ও কাফির হয়ে যায়। তাদের মতে ইসলামের অনুশাসন অনুসরণ করা ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কাজেই যে ব্যক্তি ইসলামের কোনো অনুশাসন লঙ্ঘন করে সে কাি রে পরিণত হয়। ঈমান ও কুফরের মাঝে কোনো মধ্যবর্তী অবস্থা নেই। কাজেই যার ঈমানের পূর্ণতা নষ্ট হবে সে কাফিরে পরিণত হবে।
এ ক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে, অনেক বিষয় আছে যা কুরআন-হাদীস আলোকে স্পষ্টতই পাপ। যেমন- চুরি, ডাকাতি, ব্যভিচার, মিথ্যাচার ইত্যাদি। খারিজীরা শুধু এগুলোকেই কুফরী বলে গণ্য করেনি, উপরন্তু তাদের মতের বিপরীতে রাজনৈতিক কর্ম বা সিদ্ধান্তকেও ‘পাপ’ বলে গণ্য করেছে। এরপর তারা সেই পাপকে কুফরী বলে গণ্য করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কাফির সাব্যস্ত করেছে। প্রকৃতপক্ষে খারিজীদের কাফির কথনের মূল ভিত্তি ‘পাপ’ নয়, বরং ‘রাজনৈতিক মতাদর্শ’। তারা তাদের মতাদর্শে বিশ্বাসী নয় এরূপ সকল মুসলিমকে কাফির বলতো।
আলী রা. ও তাঁর পক্ষের লোকজন এবং অন্যান্য যে সকল সাহাবী ও সাধারণ মুসলিম আলী রা.কে কাফির বা ইলামের বিধান লঙ্ঘনকারী বলে মানতে রাজি ছিলেন না, তারা চুরি, ডাকাতি, ব্যভিচার বা কুরআন নির্দেশ অনুরূপ কোনো পাপ বা অপরাধে লিপ্ত হননি। আলী. রা তাঁর রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রক্তপাত বন্ধ করতে সালিসের বা আপোসের চেষ্টা করেছেন। তাঁর কর্মের পক্ষে কুরআন ও হাদীসের সমর্থন রয়েছে। অন্য অনেকে তাঁর সাতে তার কর্মে অংশগ্রহণ না করলেও তাঁর কর্মের যৌক্তিকতা অনুভব করেছেন।
খারিজীরা তাদের মনগড়া ব্যাখ্যার ভিত্তিতে এদের সকলকেই কাফির বলে আখ্যায়িত করে এবং তাদেরকে নির্বিচারে হত্যা করে এবং তাদের ধনম্পদ লুট করে কথিত সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করে। পক্ষান্তরে তারা তাদের মধ্যকার পাপীকে কাফির মনে করতো না।’ কাউকে কাফির বলে গণ্য করা আর তাকে হত্যা করা কখনো এক বিষয় না। একমাত্র যুদ্ধেক্ষেত্রে যুদ্ধরত কাফির ছাড়া অন্য কাউকে হত্যা করার কোনো অনুমতি ইসলামে নেই।
[চলবে]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ