ঢাকা, রোববার 02 March 2017, ১৯ চৈত্র ১৪২৩, ০৪ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মিয়ানমারে জনপ্রিয়তার প্রথম পরীক্ষায় সু চি

১ এপ্রিল, আল জাজিরা : অং সান সু চি’র নেতৃত্বে এনএলডি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবারের মতো উপ-নির্বাচনে ভোট দেয় মিয়ানমারের জনগণ। স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার সকাল থেকে ভোটগ্রহণ চলে। এ নির্বাচনকে ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)-এর নেত্রী অং সান সু চির জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের প্রথম পরীক্ষা বলে মনে করা হচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, ২ কোটি মানুষ দেশের আটটি রাজ্য ও অঞ্চলে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। এই উপনির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন দেশের মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশেরও কম ভোটার।
সেই আসনগুলোতে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যে আসনের নির্বাচিত সদস্য মন্ত্রিপরিষদে জায়গা নিয়েছেন। ‘অবশ্যপালনীয়’ দায়িত্ব আকারে মিয়ানমারে মন্ত্রিপরিষদ থাকায় সেখানে ওই আসনগুলোকে শূন্য বিবেচনা করে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অবশ্য জাতিগত সংঘর্ষকবলিত কিছু কিছু আসনে মূল নির্বাচনেই ভোটগ্রহণ হয়নি।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার মিয়ানমারের বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনের ভোটকেন্দ্রগুলোতে শত শত ভোটারকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে দেখা যায়। ২০১৫ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে যে ধরনের উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল, এবারের নির্বাচনেও তেমনটাই দেখা যাচ্ছে। এ উপ-নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জাতীয় ও আঞ্চলিক পার্লামেন্টের ১৯টি শূন্য আসন পূরণ করা হবে।
সশস্ত্র জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংঘাত এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীর গতির কারণে সু চি’র নেতৃত্ব নিয়ে এরইমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। আর তাই এ উপনির্বাচনকে সু চি’র জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের পরীক্ষা বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে সুচি স্বীকার করেছেন সংস্কার ও উন্নয়নে ধীর গতির কারণে মিয়ানমারের জনগণের মধ্যে হতাশা রয়েছে। তবে জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যকার সংঘাত অবসানকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
অবশ্য, উপ-নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন তা পার্লামেন্টের ভেতরকার আধিপত্যে কোনও প্রভাব ফেলবে না। কেননা, পার্লামেন্টে এনএলডি’র নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তবে মিয়ানমারে জনমত জরিপের ব্যবস্থা না থাকায় এ নির্বাচনই এনএলডি’র জনপ্রিয়তার মাপকাঠি হয়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করেছে আল জাজিরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ