ঢাকা, সোমবার 03 March 2017, ২০ চৈত্র ১৪২৩, ০৫ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিতর্কিত ইস্যুতে নিয়ন্ত্রণ হারানোর পথে হোয়াইট হাউস

২ এপ্রিল সিএনএন : মার্কিন নির্বাচনে রুশ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের রুশ সংশ্লিষ্টতা, হাউস ফ্রিডম ককাসের সঙ্গে ট্রাম্পের দ্বন্দ্ব বিষয়ক বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারানোর পথে চলে যাচ্ছে হোয়াইট হাউস।
সিএনএন-এর রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ডেভিড জারগেন বলেন, প্রেসিডেন্টের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে একের পর এক এই ধরনের অভিযোগ তার জন্য বিরক্ত ও ক্ষতির কারণ।
৩১ই মার্চ প্রকাশিত বিবৃতিতে রাশিয়া টুডে ও রুশ কোম্পানি ভলগা- নেপর এয়ারলাইন থেকে অর্থ নেয়ার কথা প্রকাশ করেন ফ্লিন। তবে এর আগে হোয়াইট হাউসে দেয়া আর্থিক বিবরণীতে এই তথ্য গোপন করেন ফ্লিন। কংগ্রেস ও এফবিআইয়ের তদন্ত থেকে অব্যাহতির প্রতিশ্রুতির পর এই তথ্য জানান তিনি। জারগেন বলেন, ফ্লিন যদি নির্দোষই হন তাহলে তিনি অব্যাহতি চাইবেন কেন? তবে ট্রাম্প তার এই সাবেক নিরাপত্তা পরামর্শকের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে টুইটারে বলেন, তিনি সঠিক কাজটিই করেছেন।
রিপাবলিকান হাউস ফ্রিডম ককাসে’র বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। ওবামাকেয়ার বাতিল করার পর ও নিজের প্রণীত স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়নে বাধা দেয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ক্ষেপেছেন ট্রাম্প। ককাসের প্রধান মার্ক মিডোসকে দেখে নিবেন বলেও হুমকি দেন তিনি। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে হোয়াইট হাউস গত তিনমাস ধরেই নানা সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে। ওয়েস্ট উইংয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে গুজব, মার্কিন প্রশাসনে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ, ১০০ দিন অতিবাহিত হওয়ার আগেই নিরাপত্তা উপদেষ্টা ফ্লিনের পদত্যাগের মত বিষয়গুলো এখন তাড়া করে বেড়াচ্ছে ট্রাম্পকে।
 এত সব বেড়াজালের বাহিরে গিয়ে অন্য কোন কাজে মনোযোগ দেয়া ট্রাম্পের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ট্রাম্প যেভাবে ফ্লিনকে সমর্থন দিচ্ছেন তদন্তে তিনিও রাশিয়ার সঙ্গে আতাঁতে ফেঁসে যেতে পারেন। আবার ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে একের পর এক অভিযোগ দানা বাঁধলেও নতুন প্রশাসনে মস্কো-ওয়াশিংটন সম্পর্কও ভাল যাচ্ছে না। পুতিন রাশিয়ান গণমাধ্যমে ট্রাম্পের প্রতি সুনজর কমানোর আদেশ দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। রাশিয়ান আইনজীবি অ্যালেক্সি পুশকোভ টুইটারে বলেন, ‘নতুন মার্কিন প্রশাসন পুরো আগের প্রশাসনের মত। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাট্রিস সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এ্যাস. কার্টার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন ‘ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন’ বিষয়ক সমালোচনায় ব্যস্ত। বারাক ওবামা এবং হিলারি ক্লিনটন নতুন প্রশাসনের এই দৃষ্টিভঙ্গিতে খুব খুশী হবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ