ঢাকা, সোমবার 03 March 2017, ২০ চৈত্র ১৪২৩, ০৫ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অরুণাচলে সফর প্রশ্নে চীনের আপত্তি কানে তুলতে নারাজ ভারত

০২ এপ্রিল, পার্স টুডে/আসাম ট্রিবিউন/ দৈনিক আকাশবাণী : দালাইলামা তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা। নোবেলজয়ী দালাইলামার অরুণাচল প্রদেশ সফর নিয়ে চীনের আপত্তি কানে তুলতে নারাজ ভারত সরকার। ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরণ রিজেজু সাংবাদিকদের সাফ জানিয়ে দেন, ‘দালাইলামা ভারতের সম্মানিত অতিথি। তিনি দেশের যেকোনো প্রান্তেই যেতে পারেন। এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কারও নাক গলানো উচিত নয়।’ দালাইলামার আগামী মঙ্গলবার থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত অরুণাচল সফর করার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে তিনি আসামের রাজধানী গুয়াহাটি এসে পৌঁছেছেন। ১৯৫৯ সালের ১৭ মার্চ অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন বৌদ্ধধর্মগুরু দালাই লামা। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু তাঁকে অতিথির মর্যাদা দিয়ে তিব্বতে ‘চীনা সেনার অত্যাচার থেকে রক্ষা করেন’।
 গত শনিবার গুয়াহাটিতে এক অনুষ্ঠানে শান্তির জন্য নোবেলজয়ী ধর্মগুরু বলেন, ‘উত্তর-পূর্ব ভারতে এলেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। কারণ, চীনা সেনার অত্যাচার থেকে মুক্ত হয় জীবনে প্রথম স্বাধীনতার মর্ম বুঝতে পারি তাওয়াংয়ে ভারতীয় মাটি স্পর্শ করার পর।’
গতকাল দালাই লামা গুয়াহাটি পৌঁছে আসাম ট্রিবিউন ও দৈনিক অসম বাণী পত্রিকার অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘কোনো ধর্মাবলম্বীদের গায়ে জঙ্গি তকমা লাগানো ভুল। যেমন মুসলিম জঙ্গি লেখেন আপনারা, এটা ঠিক নয়। সামান্য কয়েকজনের জন্য গোটা সম্প্রদায় দায়ী হতে পারে না। বহু মুসলিম আছেন, যাঁরা নিষ্ঠাভরে ইসলাম ধর্মের অনুশাসন পালন করে চলেছেন। বৌদ্ধধর্মের ক্ষেত্রেও ঠিক তা-ই। মিয়ানমারে দু-একজনের কৃতকর্মের ভাগ গোটা সম্প্রদায়ের হতে পারে না।’ তিনি বিশ্বশান্তির পক্ষে কথা বলেন।
দলাই লামার অরুণাচল প্রদেশ সফরের পাশাপাশি আসাম সফর ঘিরেও এবার বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার পরেশ বডুয়া গোষ্ঠীর তরফ থেকে আগাম বিবৃতি দিয়ে দালাই লামাকে আসামের মাটিতে দাঁড়িয়ে চীনবিরোধী বিবৃতি বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। অভিজিৎ অসম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আসামে দাঁডেিয় সরকারি বা বেসরকারি কোনো অনুষ্ঠানেই দালাই লামার চীনবিরোধী কথাবার্তা বরদাশত করা হবে না।’
অন্যদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়েছে, দালাই লামার অরুণাচল প্রদেশ সফর ভারতের সঙ্গে তাঁদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি ঘটাবে। কিন্তু ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে দাবি করে অরুণাচল প্রদেশ থেকেই নির্বাচিত জাতীয় সংসদের সদস্য কিরণ রিজেজু চীনের আপত্তি উড়িয়ে দিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ