ঢাকা, সোমবার 03 March 2017, ২০ চৈত্র ১৪২৩, ০৫ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সরকারি কৃমিনাশক ওষুধ খেয়ে ১২৫ শিশু শিক্ষার্থী হাসপাতালে

স্টাফ রিপোর্টার: সরকারিভাবে সরবরাহ করা কৃমিনাশক ওষুধ (ট্যাবলেট) খেয়ে এবার মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও গোপালগঞ্জে প্রায় ১২৫ শিশু শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে। গতকাল রোববার অসুস্থদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে গত শনিবার এই কৃমিনাশক ওষুধ খেয়ে কুষ্টিয়া, গাজীপুরের কালীগঞ্জ ও পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার দেড় শতাধিক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের স্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী কৃমিনাশক ওষুধ (মেবেন্ডাজল ৫০০ মিলিগ্রাম) খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো কার্পাসডাঙ্গা বালিকা মাদ্রাসা, পীরপুরকুল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে, কার্পাসডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড় বলদিয়া জামিয়া মাদ্রাসা ও গোবিন্দহুদা ব্র্যাক প্রাথমিক বিদ্যালয়।
 দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল জানান, সকালে খবর পাওয়ার পর তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম কার্পাসডাঙ্গা এলাকায় পাঠানো হয়। এলাকায় তাঁরা গণরোষের মুখে পড়লে তিনি নিজে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। পরে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার গাড়াডোব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কৃমিনাশক ওষুধ খেয়ে অন্তত ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অসুস্থদের মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গাড়াডোব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান জানান, স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্কুল কর্তৃপক্ষ মিলে সকাল ৮টার সময় স্কুলের শিক্ষার্থীদের কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানো হয়। দুই ঘণ্টা পর এক দুজন করে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়। পরে তাদের দ্রুত মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শামিমা ইয়াসমিন জানান, শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা অনেটাই সুস্থ রয়েছে। এতে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. অলোক কুমার দাস বলেন,প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে এটা মানসিক কারণে হয়েছে। ভয় থেকে এটা হয়। এখন পর্যন্ত কারো অবস্থা গুরুতর নয়।
গোপালগঞ্জ জেলার কৃমিনাশক ওষুধ খেয়ে অসুস্থ হওয়া অন্তত ২৫ শিক্ষার্থীকে গোপালগঞ্জে সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার বৌলতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওষুধ খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে যায় শিক্ষার্থীরা।
বৌলতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অপর্ণা বিশ্বাস জানান, দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানো হয়। খাওয়ার পরপরই শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাথা ঘোরা, পেট ব্যথা, বমিভাবসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়। এতে স্কুলের ২৫ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে।
অপর্ণা বিশ্বাস আরো জানান, পরে স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবকেরা খবর পেয়ে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরই মধ্যে ১৩ জনকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় স্কুল ছুটি দেওয়া হয়। গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. শফিকুল আলম চৌধুরী বলেন, ওই বিদ্যালয়ে ১৭৪ শিক্ষার্থীকে ওষুধ খাওয়ানো হয়। তার মধ্যে ২৫ শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে মেডিকেল টিম পাঠানো হয়। সিভিল সার্জন আরো বলেন, খালি পেটে কৃমির ওষুধ সেবন ও অসচেতনতার কারণে সাময়িক এ ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ