ঢাকা, সোমবার 03 March 2017, ২০ চৈত্র ১৪২৩, ০৫ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে বৃহত্তর সিলেটের বোরো ক্ষেতগুলো তলিয়ে গেছে

সিলেট ব্যুরো: আজ ২০ চৈত্র ঋতুরাজ বসন্ত এখনও শেষ হয়নি। কিন্তু কালবৈশাখী যেন চৈত্র মাসে প্রবেশ করতে চাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টি আর পাহাড়ী ঢলে বৃহত্তর সিলেটের বোরো ক্ষেতগুলো তলিয়ে গেছে। অতি বৃষ্টির কারণে কৃষকের মাথায় হাত। গত ৪ দিনে ঝড়ো হাওয়া ঘন ঘন বজ্রপাত, ঝড় আর বৃষ্টি কালবৈশাখী ও আষাঢ়ের বর্ষণকে হার মানিয়েছে। দ্রুত পানি নেমে না গেলে এ অঞ্চলের প্রায় ১২ লাখ বোরোচাষির স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ী ঢলে বৃহত্তর সিলেটের প্রায় সবগুলো হাওরের বোরোক্ষেতগুলোর কোথাও আংশিক কোথাও সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। সিলেটের হাকালুকি, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের হাওরগুলোর ক্ষেত থেকে এবার আর প্রত্যাশা মতো বোরোধান ঘরে তোলার সম্ভাবনা দেখছেন না কৃষকরা।
গতকাল রোববার সকালে সিলেটে বৃষ্টিপাত না হলেও আকাশের অবস্থা এই ভালো এই খারাপ। যখন তখন শুরু হতে পারে। আর বৃষ্টিপাত হলে যেটুকু বাকি আছে তাও তলিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুনামগঞ্জ 'দেখার হাওর' এলাকার বোরো চাষি আব্দুর রহিম সিলেটে এসেছিলেন একটা জরুরি কাজে তিনি জানান  সুনামগঞ্জের কোন হাওর থেকেই এবার আর বোরোধানের আশা করা যাবে না।' অথচ দেশের বোরোধানের অন্যতম প্রধান উৎস হচ্ছে এই হাওরগুলো। একই অবস্থা এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকির। সেখানকার বেশিরভাগই তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনসাধারণ।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে গত বছর মার্চে সিলেটে ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। অথচ এ বছর একই সময়ে ৫শ' মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
এই বৃষ্টির পানি যদি  দ্রুত সরে যায়, তবে কৃষকরা কম ক্ষতির সম্মুখীন হবে। আর বৃষ্টিপাত ও ঢল অব্যাহত থাকলে কৃষকরা সবই হারাবে। এছাড়া গোয়াইনঘাটে পাহাড়ী ঢলে বোরো ধান তলিয়ে গেছে। গোয়াইনঘাটের কৃষকরা বড়ই বিপাকে পড়েছে। তাদের কান্না যেন থামছে না। একমাত্র সম্বল ছিল এই ফসল। ঘন ঘন বৃষ্টি আর পাহাড়ী ঢলে গোয়াইনঘাটের মানুষের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। সিলেট সদর উপজেলার মোগলগাও ইউনিয়নের আউশা গ্রামের এস এম নোমান আহমদ জানান, গত ৪ দিনের বৃষ্টি এই এলাকার কৃষকের জন্য অভিশাপ হিসাবে যেন নেমেছিল। অতি বৃষ্টির কারণে টুকেরবাজার, আউশা, মোগলগাও, বলাউড়া এলাকার সকল বোরো ধানের জমি তলিয়ে গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপ পরিচালক ড. মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রাথমিক তথ্য মতে, সিলেট জেলার ১ হাজার ১৯৩ হেক্টর, সুনামগঞ্জের ৬৯৫ ও মৌলভীবাজারের ২০ হেক্টর বোরো ধানের জমি ইতোমধ্যে পানির নীচে তলিয়ে গেছে।
এদিকে সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন উপজেলার ‘ফ্লাশ ফ্লাড’ বা পাহাড়ি ঢলের বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের খোঁজ নিতে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী সুরমা-কুশিয়ারা মনুসহ অন্যান্য নদীর পানি প্রবাহ এখনও বিপদ সীমার নীচে রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ