ঢাকা, সোমবার 03 March 2017, ২০ চৈত্র ১৪২৩, ০৫ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আওয়ামী লীগের এ আমলে বিরোধী দলের মানুষকে নির্বিচারে খুন-গুম করা হচ্ছে

চট্টগ্রাম অফিস : বাংলাদেশে এখন প্রেসনোট সাংবাদিকতা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে পিপল্স মুভমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি চট্টগ্রাম চ্যাপ্টার আয়োজিত “বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা” শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই মন্তব্য করেন। 
দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, সরকার যেভাবে প্রেসনোট দেয়, সেইভাবে পত্রিকায় সংবাদ ছাাপা হয়।  ঘটনা সম্পর্কে এর বাইরে সংবাদকর্মীদের কোনো মতামত প্রকাশ করা যায় না। ঘটনা সম্পর্কে অনুসন্ধানমূলক কোনো রিপোর্ট করা যায় না।    মাহমুদুর রহমান বলেছেন, আমাদের যেটুকু স্বাধীনতা ছিল আজ সেটুই চলে যাচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত সামরিক চুক্তির মধ্যমে।  
মাহমুদুর রহমান বলেন, যে সংবিধানের দোহায় দিয়ে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আঁকড়ে আছেন, সে সংবিধান তিনি নিজেই পদে পদে লংঘন করছেন। আমি নিজেই তার দৃষ্টান্ত।  তার দুঃশাসনের ৭ বছরে আমি দুই দফায় ৫ বছর কারাভোগ করেছি। ৩৮ দিন রিমান্ডে ছিলাম।  আমরা যদি এমন জালিম সরকাররের হাত থেকে মুক্তি পেতে চাই তাহলে আমাদের ঈমানকে মজবুত করতে হবে। তিনি গুম খুন গুপ্ত হত্যাসহ ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে মৃত্যু ভয় না করে জনগণকে রাস্তায় নামার আরমযান জানিয়েছেন।  কারণ ফ্যাসিবাদীর মোকাবেলা করতে না পারলে আজ নূরু গুম খুন হয়েছেন, কাল আপনি আমি যে কেউ এর শিকার হতে পারি।
আওয়ামী লীগের এ শাসন আমলে নির্বিচারে সরকার বিরোধী দলের মানুষ খুন ও গুম করা হচ্ছে।  গত ৮ বছরে বিএনপির প্রায় ১০ হাজার নেতা-কর্মী খুন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,   ওই ১০ হাজার মানুষ ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে রাজপথে নামতো তাহলে আওয়ামী  সরকারের পালানো জায়গা থাকতো না।  নুরুর মত নেতা-কর্মীদের খুন হতে হতো না।  আমরা আপনারা ঐক্যবদ্ধ হলে হাসিনার সরকার পালানোর পথ পাবে না। 
তিনি বলেন, গণবিচ্ছিন্ন হয়ে আন্দোলন সফল করা যায় না।  বিএনপিকে জনগণের কাছে ফিরে আসতে হবে।  জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।  বিএনপি নেতা-কর্মী খুনের মামলা পরিবারের পক্ষ থেকে ভয়ে করতে না পারা  প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমান বলেন, যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করছে তাদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে, তাদেরও পতন হবে তারই অপেক্ষায় রয়েছে জাতি।
তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ফ্যাসিস্ট চরিত্রে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দেশের বড় একটি অংশ নানা নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা-গুমের মত অমানবিক পাষবিকতার শিকার হচ্ছে।  এ সরকারের হাতে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মানুষের মৌলিক অধিকার, জনজীবনের নিরাপত্তা, দেশের অর্থনীতি সবকিছুই বন্দি হয়ে পড়েছে।  সরকার আইন করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করতে চেষ্টা করছে।  গণতন্ত্র, ব্যক্তির অধিকার ও মর্যাদা যারা হরণ করে তারা ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়।  সংবাদপত্র ও মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতার কণ্ঠরোধের চেষ্টা দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিস্ট এ সরকারের অনিবার্য পতনকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
মুখ্য আলোচনায় বিশিষ্ট সমাজচিন্তক ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহার বলেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেরাষ্ট্র টিকবে কিনা, এটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।  আমরা যারা মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম, কখনোই ভাবিনি যে রাষ্ট্্র একটি নির্যাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে।  বাংলাদেশ খুন,গুমের রাষ্ট্্ের পরিণত হবে।  বর্তমানে যেটা হচ্ছে, সেটাকে রাষ্ট্্রীয় অনাচার বলা ছাড়া অন্য কিছু বলা যাবে না।  গোটা দেশই আজ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী  সরকারের কাছে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।  শিশুদের জঙ্গি বলে হত্যা করা হচ্ছে, রাজনৈতিক নেতা-কমীদের খুন,গুম করা হচ্ছে।  সংবাদপত্রগুলোর কণ্ঠরোধ করে রাখা হয়েছে।  সরকারের জুলুম নির্যাতন এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, এখন আর প্রতিবাদ জানাতে ঘরের বাইরে বের হওয়া ছাড়া উপায় নেই।  সবাই ঐক্যবদ্ধ হলে দেশ ও দেশের মানুষকে বর্তমান অত্যাচারী সরকারের কবল থেকে মুক্ত করা সম্ভব।  তিনি বলেন, সাম্য,নাগরিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচারের জন্য আমরা  ’৭১ এর যুদ্ধে জোঠ বেঁধে ছিলাম।  যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম।  গণতন্ত্র বিপন্ন এ দেশে এখন সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার।  জনগণকে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে অন্যায়, ঝুলুমের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই করতে হবে।  
চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আজকে মানুষ গুম হয়ে যায়,অথচ পুলিশ জানে না।  খুন হলে পরিবারের লোকজন মামলা করতে ভয় পায়।  মানুষের কোন স্বাধীনতা নেই, অধিকার নেই।  গণতন্ত্র তো দূরের কথা।  দেশ ও মানুষকে বাঁচানোর সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।  জনমত সৃষ্টি করে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে লড়তে হবে। 
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আমার দেশ সম্পাদককে সময়ের লড়াকু সৈনিক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সরকারের অন্যায়, অগণতান্ত্রিক আচরণ, জুলুম নির্যাতন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মাহমুদুর রহমান যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, আমরা তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি। 
ইঞ্জিনিয়ার সেলিম জানে আলমের পরিচালনায় সভায় বিশেষ অতিথির আলোচনা রাখেন জাতীয় প্রেসক্লাবেব সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, এ্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির সহ-সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম রিজু, বিএমএ সাবেক সভাপতি ডা.খুরশীদ জামিল চৌধুরী, আমারদেশ পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান জাহিদুল করিম কচি, ইঞ্জিনিয়ার সেলিম জানে আলম, এ্যাব চট্টগ্রাম সভাপতি প্রকৌশলী কে এম আবু সুফিয়ান, নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্বদ্যিালয় শিক্ষক প্রফেসর নসরুল কাদির, এ্যাব সাবেক নেতা প্রকৌশলী আফজল হোসেন সবুজ, চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এনামূল হক, চট্টগ্রাম মহিলা দলের সভানেত্রী মনোয়ারা বেগম মনি প্রমূখ।  আলোচনা সভায় শিক্ষাবিদ, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক ও পেশাজীবীসহ বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ