ঢাকা, সোমবার 03 March 2017, ২০ চৈত্র ১৪২৩, ০৫ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কোকেন আটকের মামলায় কারাগারে থাকতে হচ্ছে ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদকে

স্টাফ রিপোর্টার : চট্টগ্রাম বন্দরে বিপুল পরিমাণ তরল কোকেন আটকের মামলায় খানজাহান আলী গ্রুপের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদের জামিন খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে এই ব্যবসায়ীকে।
গতকাল রোববার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে নূর মোহাম্মদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুল বাসেত মজুমদার, এ এম আমিন উদ্দিন। সরকার পক্ষে ছিলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মাসুদ হাসান চৌধুরী।
এর আগে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ নূর মোহাম্মদের জামিন খারিজ করলে ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করেন নূর মোহাম্মদ।
২০১৫ সালের ৭ জুন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বন্দরে একটি কনটেইনার আটক করে সিলগালা করে দেয় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। বলিভিয়া থেকে মেসার্স খান জাহান আলী লিমিটেডের নামে আমদানি করা সূর্যমুখী তেলবাহী কনটেইনারটি জাহাজে তোলা হয় উরুগুয়ের মন্টেভিডিও বন্দর থেকে। সেখান থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে ওই বছরের ১২ মে পৌঁছায় চট্টগ্রাম বন্দরে। পরে আদালতের নির্দেশে কন্টেইনার খুলে ১০৭টি ড্রাম থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। বন্দরের পরীক্ষায় কোকেনের উপস্থিতি না মেলায় ঢাকার বিসিএসআইআর এবং বাংলাদেশ ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে তরলের নমুনা পুনরায় পরীক্ষা করা হয়। দুই পরীক্ষাগারেই তরল কোকেনের অস্তিত্ব ধরা পড়ে।
এ ঘটনায় ওই বছরের ২৮ জুন চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর থানায় নূর মোহাম্মদ ও তার কর্মচারী গোলাম মোস্তফা সোহেলকে আসামী করে মাদক আইনে একটি মামলা করে পুলিশ। পরে আদালত মামলাটিতে চোরাচালানের ধারা সংযোগের নির্দেশ দেয়। গত বছর ১৫ জানুয়ারি অভিযান চালিয়ে নূর মোহাম্মদকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।
গত বছর ১৯ নবেম্বর এ মামলায় আটজনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে তদন্ত কর্মকর্তা ও নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (দক্ষিণ) মো. কামরুজ্জামান। এতে ৫৮ জনকে সাক্ষী করা হয়।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করা হয় অভিযোগপত্রে। কিন্তু এজাহারভুক্ত প্রধান আসামীর নাম অভিযোগপত্রে না থাকায় চট্টগ্রামের মহানগর হাকিম রহমত আলী তা গ্রহণ না করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কমকর্তাকে দিয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য র‌্যাবকে দায়িত্ব দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ