ঢাকা, মঙ্গলবার 04 March 2017, ২১ চৈত্র ১৪২৩, ০৬ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

উগ্রপন্থী দলের উত্থান ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান : [পাঁচ]
অনেক হাদীস বিশৃঙ্খলা, ফিতনা বা হানাহানির সময়ে, আদেশ, নিষেধ, দাওয়াত ও জিহাদ পরিত্যাগের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। অন্যত্র পিতামাতার খেদমত বা আনুষঙ্গিক প্রয়োজনের জন্য জিহাদ পরিত্যাগ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বস্তুত, রাষ্ট্র, সমাজ ও অন্য মানুষের জীবনে দীন প্রতিষ্ঠাকে নিজের ব্যক্তি জীভনে দীন প্রতিষ্ঠার মত একই পর্যায়ের ইবাদত বলে মনে করা, অথবা তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা উগ্রতার কারণ। এই উগ্রতা বিভিন্ন বিভ্রান্তির পথে পরিচালিত করে। যেমন অন্যান্য মুমিনের বা রাষ্ট্রের অন্যায় দূর করতে ব্যর্থ হয়ে তাদেরকে কাফির বলা, সমাজের মানুষদেরকে ঘৃণা করা, জোর করে মানুষদেরকে সংশোধনের চেষ্টা করা, নিজের জীবনে ইবাদত বা তাহাজ্জুল, যিকর, ক্রন্দন ইত্যাদিতে অবহেলা করা।
ইসলাম ধর্ম ও ইসলামী সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অংশ সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা। ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্বকে নিয়ে ইসলাম একটি সামগ্রিক জীবন ব্যবস্থা। তবে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের মধ্যে স্বাভাবিক পার্থক্য রক্ষা করা হয়েছে ইসলামে। রাষ্ট্র ব্যবস্থাসহ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা ছাড়া সকল দেশের সকল সমাজের মানুষের জন্য প্রশস্ততা রয়েছে ইসলামে। মুসলিম-অমুসলিম সকল দেশ ও সমাজে সববাস করে একজন মুসলিম তার ধর্ম পালন করতে পারেন। রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে তার ধর্ম পালনের জন্য শর্ত বা মূল স্তম্ভ বলে গণ্য করা হয়নি। রাষ্ট্র ব্যবস্থা ইসরামের একটি অংশ। ইসলামে রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় বিধিবিধান আছে। তবে ইসলাম শুধু রাষ্ট্র ব্যবস্থার নাম নয়। মুমিন ব্যক্তি আরকানে ইসরামসহ অন্যান্য ফরয, নফল ইবাদত পালনের মাধ্যমে নিজের জীবনে পূর্ণতমভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবেন। পাশাপাশি ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র যে কোনো ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যবস্থা লঙ্ঘিত হলে সুযোগ ও সাধ্যমত কুরআন নির্দেশিত উত্তম আচরণ দ্বারা খারাপ আচরণের প্রতিরোধ’ উত্তম পদ্ধতিতে দাওয়াত, ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধের মাধ্যমে তা সংশোধন ও পরবর্তনের চেষ্টা করবেন। তবে এই চেষ্টা সফল না হলে মুমিনের দীন পালন ব্যাহত হয় বা সমাজ ও রাষ্ট্রের পাপের কারণে মুমিন ব্যক্তি পাপী হন এরুপ চিন্তা বিভ্রান্তিকর। মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমাদের উপরে শুধু তোমাদের নিজেদেরই দায়িত্ব। তোমরা যদি সৎ পথে পরিচালিত হও তাহলে যে পথভ্রষ্ট হয়েচে সে তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। কাজেই পরিবর্তনের আগ্রহে কোনো মানুষের জান, মাল, সম্মান ইত্যাদি ক্ষতি করা বা অন্য কোনো ইসলাম নিষিদ্ধ পাপের মধ্যে নিপতিত হওয়া চরম বিভ্রান্তি ছাড়া কিছুই নয়। ইবনে উমর রা. নিজেও কাফির রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মুসলিম রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় জিহাদে অংশগ্রহণ করতেন। তবে জিহাদের অনেক শর্ত রয়েছে। সেগুলোর অন্যতম হলো জিহাদ শুধু যুদ্ধরত কাফিরের বিরুদ্ধেই হবে। মুসলিম রাষ্টপ্রধান কর্তৃক মসলিম বিদ্রোহীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ যদিও বৈধ করা হয়েছে, কিন্তু ইবনে উমর রা. ও অন্যান্য অধিকাংশ সাহাবী এক্ষেত্রে দূরে থাকই পছন্দ করতেন।
তৃতীয়ত, ফিতনা দূরীকরণ ও আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তারা মুসলিমের দীন পালনের নিরাপত্তাটিই মূল বলে মনে করেছেন। মুসলিম যতক্ষণ দীন পালনের নিরাপত্তা ভোগ করেছে ততক্ষণ ফিতনা দূরীভূত করার নামে যুদ্ধ করার সুযোগ নেই। বরং দাওয়াত, আদেশ, নিষেধ, ইত্যাদির মাধ্যমে সমস্যা দূর করার চেষ্টা করতে হবে। যে সকল সাহাবী খারিজীদের বুঝাতে চেষ্টা তাঁদের একজন জুনদুব ইবনু আব্দুল্লাহ রা.। একবার তিনি খারিজীদের কতিপয় নেতাকে ডেকে বলেন, রসূলল্লাহ বলেছেন, ‘যে বক্তি কাঠিন্যের পথ অবলম্বন করবে আল্লাহও তার জন্য কাঠিন্যের পথ অবলম্বন করেন। কেউ যুদি কোন মানুষের হাতের তালুতে রাখার মত সামান্য রক্তও প্রবাহিত করে তবে সেই রক্ত তার ও জান্নাতের মধ্যে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে। কাজেই যদি কেউ পারে এইরূপ রক্তপাত থেকে আত্মরক্ষা করতে তবে সে যেন করে।’ এ কথা শুনে উপস্থিত লোকগুরো খুব ক্রন্দন করতে লাগল। তখণ জুনদুব রা. বলেন, এরা যদি সত্যবাদী হয়ে তবে এরা মুক্তি পেয়ে যাবে। কিন্তু পরে আবার তারা উগ্রতার পথে ফিরে যায়। এখানে জুনদুব রা. দু’টি বিষয়ের প্রতি তাদের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।
প্রথমত, উগ্রতার। উগ্রতার দু’টি দিক রয়েছে। এক. নিজের ব্যক্তিগত জীবনে দীন পালনের জন্য নফল-মুস্তাহাব ইত্যাদি বিষয়ে অতি কষ্টদায়ক রীতি অনুসরণ করা। দুই. অন্য মানুষদের ভুলভ্রান্তি সংশোধনকে নিজের অন্যতম বোঝা বলে গ্রহণ করা এবং সেজন্য উগ্রপন্থ অবলম্বন করা। দু’টি বিষয়ই সুন্নাতের পরিপন্থী যা মুমিনরে জীবনে দীন পালনকে কঠিন করে তোলে। দ্বিতীয় তিনি সুন্নাতের আলোকে জিহাদ বানম হত্যার ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন এবং জিহাদের নামে রক্তপাতের ভয়ঙ্কর পরিণতি সম্পর্কে তাদের আকর্ষণ করেছেন।
৬০ হিজরীতে মু’আবিয়ার রা. মৃত্যুর পরে তার পুত্র ইয়াযিদ খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মক্কা, মদীনা ও কুফার অধিকাংশ মানুষ তার খিলাফতের বিরুদ্ধে ছিলেন। মক্কায় আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইর ইয়াযিদের খিলাফত অস্বীকার করেন এবং এক পর্যায়ে নিজ খিলাফতের দাবি করেন। ৬৪ হিজরীতে ইয়াডিদের মৃত্যুর পরে মু’আবিয়াকে খলীফা হিসেবে বাইয়াত গ্রহণ করেন। অপরদিকে সিরিয়ায় ইয়াযিদের পুত্র মু’আবিয়াকে খলীফা ঘোষণা করা হয়। মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ এলাকা ইবনু যুবাইরকেই খলীফা হিসেবে গ্রহণ করে। একপর্যায়ে সিরিয়ার কিছু এলাকা ছাড়া মুসলিম বিশ্বের সর্বত্র ইবুন যুবাইরের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু সংঘাত চলতে থাকে। একপর্যায়ে ৭৩ হিজরীতে উমাইয়া শাসক আব্দুল মালিকের সেনাবাহিনীর হাতে ইবনু যুবাইর পরাজিত ও নিহত হন।
এই দীর্ঘ প্রায় ১০ বছরের সংঘাতের সময়ে অধিকাংশ মুসলিম ইবনু যুবাইরের শাসনকেই ইসলামী শাসন ও ন্যায়বিচারের পক্ষে মনে করেছেন। ইয়াযিদ ও তার বংশকে তারা ইসলামী শাসনের বিরোধী বলে গণ্য করেছেন। তবে তৎকালীন জীবিত সাহাবীগণ সরাসরি সংঘাতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থেকেছেন। কারণ যে ব্যক্তি নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করেন তার প্রাণ, সম্পদ বা মর্যাদার কোনোরূপ ক্ষতি করা ইসলামে কঠিনভাবে হারাম। বিভিন্ন হাদীসের আলোকে দেখা যায় যে, তারা মনে করতেন, যারা সংঘাতে লিপ্ত তারা তাদের উদ্দেশ্য ও কর্মের আলোকে ভাল বা মন্দ বলে গণ্য হবেন। কিন্তু ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে রাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়া জরুরি নয়।
কিন্তু হারাম থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। পক্ষান্তরে খারিজীগণ এবং তাদের মত আবেগীগণ মনে করত, এই সংঘাতের মধ্যেই ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে কাজেই ইসলাম প্রতিষ্ঠার’ এই মহান উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য কিছু মানুষ হত্যা করা কোনো ব্যাপার নয়। বিশেষত যারা ইসলাম প্রতিষ্ঠার পথে বাধা হয়েছে তাদেরকে কাফির ঘোষণা করে হত্যা করতে অসুবিধা কী?
৭৩ হিজরীতে হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ যখন মক্কা অবরোধ করে ইবনু যুবাইরের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক আক্রমণ চালাতে থাকেন, তখন দুই ব্যক্তি আব্দুল্লাহ ইবনু উমর রা.- এর নিকট এসে বলে, ‘মানুষেরা ফিতনা-ফাসাদে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, আপনি ইবনু উমর, রাসূলুল্লাহ স.- এর সাহাবী, আপনি কেন বেরিয়ে যুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন না? তিনি বলেন, কারণ আল্লাহ আমার ভাইয়ের রক্ত হারাম করেছেন। তারা বলে, আল্লাহ কি বলেননি, ‘এবং তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাবকে, যাবৎ ফিতনা দূরীভূত না হয় এবং আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠিত না হয়’? তখন তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধ করেছিলাম এবং ফিতনা দূরীভূত হয়েছিল এবং আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আর তোমরা চাচ্ছ যে, তোমরা যুদ্ধ করবে যেন ফিতনা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং দীন আল্লাহ ছাড়া অন্যের জন্য প্রতিষ্ঠিত হর।
একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কুরআন শরীফে জিহাদকে সব সময় ‘জিহাদ’ ফি সাবিলিল্লাহ বলা হয়েছে। ফি সাবিলিল্লাহ ছাড়া জিহাদ বৈধ হয় না। জিহাদ যদি আল্লাহর জন্যে হয়, শরিয়তের সব শর্ত মেনে হয়, তাহলেই সেটা জিহাদ। আব্দুল্লাহ ইবনু উমর রা. প্রথমত, জিহাদের আদেশ ও হত্যার নিষেধাজ্ঞা মধ্যে তুলনা করেছেন। ইসলামের মূলনীতি হলো, আদেশ পালনের চেয়ে নিষেধ বর্জন অগ্রগণ্য। বিশেষত এ ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ কর্মটি কুরআন- হাদীসে বারংবার ভয়ঙ্করতম কবীরা গুনাহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পক্ষন্তরে বারংবার জিহাদের আদেশ করা হলেও তার জন্য অনেক শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে, তাকে ফরযে আইন বলে কোথাও উল্লেখ করা হয়নি এবং তা পরিত্যাগের অনুমতি দেয়া হয়েছে। কাজেই পরিত্যাগযোগ্য একটি কর্ম পালনের জন্য মুমিন কখনোই ভয়ঙ্করতম একটি হারামে লিপ্ত হতে পারে না।
দ্বিতীয়ত, তিনি ‘জিহাদ’ ও ‘ফিতনা’র মধ্যে পার্থক্যের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেছেন, সাহাবীগণ যে জিহাদ করেছিলেন তা ছিল ফিতনা রোধ করতে। আর খারিজীগণ যে জিহাদ করছে তা ফিতনা প্রতিষ্ঠার জন্য। তিনি উভয়ের মধ্যে পার্থক্যের কারণ উল্লেখ করেননি। ইসলামের দৃষ্টিতে জিহাদ ও ফিতনার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য হলো, জিহাদ রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত যুদ্ধ এবং ফিতনা ব্যক্তি বা গোষ্ঠী পরিচালিত যুদ্ধ। কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসারে রাষ্ট্রপ্রধানের নির্দেশ ও নেতৃত্বেই জিহাদ পরিচালিত হবে।
খারিজীগণ বিষয়টিকে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত পর্যায়ে নিয়ে এসে বিশৃঙ্খলার জন্ম দেয়। বস্তুতঃ, হত্যা, বিচার, শক্তিপ্রয়োগ ইত্যাদি যদি রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত না হয় তবে তা ফিতনার মহাদ্বার উন্মোচন করে। পৃথিবীতে প্রত্যেক মানুষই অন্য কোনো না কোনো মানুষের দৃষ্টিতে অন্যায়কারী ও অপরাধী। প্রত্যেক ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি নিজের বিবেচনা অনুযায়ী বিচার, যুদ্ধ ও শক্তিপ্রয়োগ করতে থাকে তবে তার চেয়ে বড় ফিতনা আর কিছুই হতে পারে না।তাবিয়ী সাফওয়ান ইবনু মুহরিয বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইয়ের ফিতনার সময়ে সাহাবী জুনদুব ইবনু আব্দুল্লাহ বাজালী রা. এ সকল সংঘাতের বিষয়ে আগ্রহী কতিপয় ব্যক্তিকে ডেকে একত্র করে তাদেরকে সর্বাবস্থায় ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ পাঠকারী ঈমানের দাবিদার কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করার পরিণতি থেকে সাবধান করার জন্য বলেন, রসূলুল্লাহ স. কাফিরদের বিরুদ্ধে একটি বাহিনী প্রেরণ করেন। যুদ্ধের মাঠে এক কাফির সৈনিক দুর্দমনীয় বীরত্ব প্রদর্শন করে এবং মুসলিম বাহিনীর  অনেক সৈনিককে হত্যা করে। এক পর্যায়ে উসামা ইবনু যায়েদ রা. উক্ত কাফির সৈনিককে আক্রমণ করেন। তিনি যখন তাকে হত্যা করতে উদ্যত হন তখন সে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলে। উসামা সেই অবস্থাতেই তাকে হত্যা করেন। রসূলুল্লাহ স. তা জানতে পেরে উসামাকে বলেন, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলার পরও তুমি তাকে হত্যা করলে? তিনি বলেন, সে মুসলিম বাহিনীকে অনেক কষ্ট দিয়েছে, অমুক অমুককে হত্যা করেছে। সে তরবারির ভয়ে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলেছে। রসূলুল্লাহ স. বলেন তুমি তার হৃদয় চিরে দেখে নিলে না কেন! কিয়ামতের দিন যখন এই ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ উপস্থিত হবে তখন তুমি কি করবে? এভাবে তিনি বারবারই বলতে লাগলেন। এখানেও জুনদুব রা. ঈমানদার ব্যক্তিকে কাফির বলা ও তাকে হত্যা করার কঠিন পরিণতি সম্পর্কে এদেরকে সাবধান করেছেন।
উসামা বিন যায়েদ রা. স্বয়ং এই ঘটন বর্ণনা করে এরূপ আবেগী যুবকদের বুঝাতে চেষ্টা করতেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ স. যখন এভাবে বারং বার ব্যাকুল চিত্তে আফসোস করতে লাগলেন, তখন তিনি কামনা করতে লাগলেন যে, হায় যদি আমি আজই মুসলাম হতাম। তখন সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস বলেন, আমি কখনো কোনো মুসলিমকে হত্যা করবো না। তখন উপস্থিত একজন বলল, কেন আল্লাহ বলেননি, এবং তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে, যাবৎ ফিতনা দূরীভূত না হয় এবং আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠিত না হয়। সা’দ বলেন, আমরা তো যুদ্ধ করেছিলাম ফিতনা দূরীভূত করতে, আর তুমি এবং তোমার সাথীরা যুদ্ধ করতে চাও ফিতনা সৃষ্টি করতে. [চলবে]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ