ঢাকা, মঙ্গলবার 04 March 2017, ২১ চৈত্র ১৪২৩, ০৬ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

১৯৭৯ সালের ৪ এপ্রিল ভূট্টোর ফাঁসি হয়

আজ ৪ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজনীতি এবং সে দেশের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভূট্টোর ফাঁসি হয়। তিনি ১৯২৮ সালের ৫ জানুয়ারি পাকিস্তানের লারকানায় জন্মগ্রহণ করেন। তার রাজনৈতিক জীবন সফল ও বিতর্ক দুয়েরই সমাহার। তার সফল রাজনৈতিক জীবনের শুরু আইয়ুব খানের ক্যাবিনেটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে। ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর পাকিস্তানে যে সংকট সৃষ্টি হয় তার মূলহোতা তিনি। যার ফলে বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের মোট আসনের তিনটি ছাড়া সবগুলোতেই জয়লাভ করে। অন্যদিকে পশ্চিম পাকিস্তানে ভূট্টোর দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। সবমিলে জাতীয় পরিষদে শেখ মুজিবুর রহমানের দল নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করায় সরকার গঠনের অধিকার লাভ করে। কিন্তু ভূট্টো ক্ষমতার বাইরে থাকতে রাজি ছিলেন না। তিনি পাঞ্জাবি কিছু জেনারেলসহ একটি মহলের যোগসাজসে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের অধিকার হরণের জন্য শক্তি প্রয়োগের এক জঘন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। ফলে স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ ছিলো না বাংলাদেশের মানুষের। রক্তাক্ত সেই যুদ্ধের মধ্যদিয়েই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। অন্যদিকে জুলফিকার আলী ভূট্টো পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হয়ে বসেন। পরবর্তী নির্বাচনে পার্লামেন্টারি সিস্টেম প্রবর্তনের মাধ্যমে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিনি হন জননন্দিত এবং জননিন্দিতও। পাকিস্তানের রাজনৈতিক প্রভাবশালী কাসুরি পরিবারের মাহমুদ আলী কাসুরির পিতাকে হত্যার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ক্ষমতায় থাকার কারণে তখন তার কিছু হয়নি। কিন্তু ক্ষমতা হারানোর পরে তার বিরুদ্ধে এই মামলা নতুন করে শুরু হয় এবং সকল আইনী প্রক্রিয়া শেষে সুপ্রিমকোর্টের রায়ে জুলফিকার আলী ভূট্টোর ফাঁসি হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ