ঢাকা, বুধবার 05 March 2017, ২২ চৈত্র ১৪২৩, ০৭ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

১৯২০ সালের ফিলিস্তিনী ইহুদীর সংঘাত

১৯২০ সালের এই সময় ফিলিস্তিনে ইহুদীদের সঙ্গে ফিলিস্তিনের মুসলমানদের প্রত্যক্ষ সংঘাত শুরু হয়। এর অনেক আগে থেকে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইহুদীদের বসাবার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল। নীরবে এবং গোপনে ফিলিস্তিনে ইহুদীদের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। ১৮৮২ সালে ফিলিস্তিনে ইহুদীদের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের শেষ দিকে সেখানে ইহুদীদের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ালো ৩৯ হাজার। আর জাতিসংঘ এবং পশ্চিমী কিছু দেশের যোগসাজশে ফিলিস্তিন বিভক্ত হওয়ার পূর্বে ১৯৪৭ সালে ইহুদীদের সংখ্যা ৬ লাখ ৮ হাজারে উন্নীত হয়। ইহুদীরা এই সুযোগ পায় পশ্চিমী বিশেষ করে বৃটেনের বিশেষ পক্ষপাতিত্বের ফলে। ১৯১৭ সালে বৃটেনের বেলফোর ডিক্লারেশনের মাধ্যমে বৃটেন সরকার ফিলিস্তিনে ইহুদীদের জন্যে ‘জুইস ন্যাশনাল হোম’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণা দেয়ার অধিকার তাকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ী মিত্রপক্ষ দিয়েছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির সঙ্গে জার্মানির মিত্র তুরস্ককেও পরাজিত ধরা হয়। পরাজিত ওসমানীয় সা¤্রাজ্য তুরস্ক থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো কেড়ে নেয়া হয়। ১ম বিশ্বযুদ্ধের মিত্রপক্ষের সানরেমো কনফারেন্সে জর্ডান নদী থেকে ভূমধ্যসাগরের মধ্যবর্তী এলাকা এবং ইরাক তুরস্কের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে বৃটেনের হাতে তুলে দেয়া হয়। আর ফ্রান্স পায় সিরিয়া ও লেবানন। এইভাবে বৃটেন ফিলিস্তিনী এলাকার নিয়ন্ত্রণ লাভ করে তা ইহুদীদের হাতে তুলে দেয়ার পরিকল্পনা করে। বৃটেন ও পশ্চিমীদের এই সিদ্ধান্তের ফলে ফিলিস্তিনী মুসলিম ও বাইরে থেকে আসা ইহুদীদের সংঘাত শুরু হয়। ইহুদী নেতা ভাট হাটজিরিম এর নেতৃত্বে জিম জেবটিনক্সি (১ম বিশ্বযুদ্ধে বৃটিশ সেনা অফিসার) ইহুদী ডিফেন্স ফোর্স গড়ে তুলেন। ফিলিস্তিনে ইহুদীদের ব্যাপক আগমন শুরু হলে ফিলিস্তিনী মুসলমানরা এই ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করতে এগিয়ে যায়। ইহুদীদের সঙ্গে শুরু হয়ে যায় সংঘাত। সেই ১৯২০ সাল থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত আজ ২০১৭তেও চলছে। কবে থামবে কেউ বলতে পারে না।
-আবু সোহায়েল

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ