ঢাকা, মঙ্গলবার 19 November 2019, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

সংকট উত্তরণ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় বিশিষ্ট নাগরিকদের আহ্বান

 

 

 

স্টাফ রিপোর্টার : বিদ্যমান সংকট উত্তরণ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার জন্য জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকগন। গতকাল বুধবার দেয়া যুক্ত বিবৃতিতে তারা এ আহ্বান জানান। 

বিবৃতিতে তারা বলেন, আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ আজ কঠিন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত গণতন্ত্র আজ নির্বাসিত। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নেই। গুম-খুন-অপহরণ-ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং হত্যা দেশের মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে। জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের ব্যর্থতার কারণেই জনগণ আজ আতঙ্কগ্রস্ত। দেশের এ সংকটকালে জাতীয় ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। 

তারা বলেন, আমরা আরও লক্ষ্য করছি যে, ৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে প্রতিরক্ষা চুক্তি কিংবা সমঝোতা স্মারকসহ নানা বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সাথে বাংলাদেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান না হওয়ায় জনগণ উদ্বিগ্ন ও হতাশ। আমাদের পররাষ্ট্র নীতি অনুযায়ী দুই দেশের মধ্যে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চুক্তি হতে পারে। তবে ভারতের সাথে অতীতের চুক্তির অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। ১৯৭৪ সালে তিন বিঘা করিডোরের বিনিময়ে বাংলাদেশ ভারতকে বেরুবাড়ি দিয়ে দেয়। কিন্তু ৪৩ বছর পার হলেও ভারত বাংলাদেশকে চুক্তি অনুযায়ী তিনবিঘা করিডোর হস্তান্তর করেনি। ফারাক্কাসহ ভারত-বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীর উপরে বাঁধ দিয়ে ভারত বাংলাদেশকে প্রাপ্য পানির ন্যায্য হিস্সা থেকে বঞ্চিত করছে। 

তারা বলেন, বাংলাদেশের পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলে ভারত, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সীমান্তের অল্প অংশে মিয়ানমার এবং বঙ্গোপসাগর। তিন দিকের সীমান্তে বন্ধু রাষ্ট্র ভারত থাকার কারণে অন্য কোন দেশের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নিরাপত্তার ঝুঁকি নেই। তাই বাংলাদেশের জনগণ মনে করে ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি কিংবা সমঝোতা স্মারকের প্রয়োজন নেই। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে বাংলাদেশের জনগণ তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন চুক্তি, সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যা বন্ধ, বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস প্রভৃতির উপর গুরুত্ব দিয়ে দ্বি-পাক্ষিক বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর ও কার্যকর দেখতে চায়। 

তারা বলেন, আমরা মনে করি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি কিংবা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যাবে এবং স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়বে। তাই দেশবাসীর সাথে আমরাও আশা করি বর্তমান সরকার ও সরকার প্রধান জনগণকে অন্ধকারে রেখে ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি কিংবা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী যে কোন চুক্তি কিংবা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকবেন। এর ব্যতিক্রম হলে জনমনে ক্ষোভ বৃদ্ধি পাবে। সরকার দেশ ও জাতির স্বার্থে কাজ করলে জনগণ সরকারকে সহযোগিতা করবে। অন্যথায় দেশের স্বার্থ বিরোধী চুক্তিসহ যে কোন দায়-দায়িত্ব সরকারের উপর বর্তাবে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাষ্টী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, দৈনিক আমার দেশ এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, কবি আল মাহমুদ, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতি সাবেক সভাপতি এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোঃ ইব্রাহিম বীর প্রতীক, দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদ, দৈনিক নয়াদিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিষ্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ভাষা সৈনিক মোঃ আবদুল গফুর, সর্ব ধর্মীয় সম্প্রীতি সভা এর কো-চেয়ারম্যান সুকোমল বড়–য়া, ঢাকা আইনজীবী সমিতি সভাপতি এডভোকেট মোঃ খোরশেদ আলম, বিএফইউজে এর সভাপতি শওকত মাহমুদ, বিএফইউজে সাবেক সভাপতি রুহুল আমীন গাজী, কলামিষ্ট এরশাদ মজুমদার, বিএফইউজে সহ-সভাপতি মুন্সী আবদুল মান্নান, বিএফইউজে সাবেক মহাসচিব এমএ আজিজ, দৈনিক ইনকিলাব সিনিয়র সহকারী সম্পাদক আবদুল আওয়াল ঠাকুর, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, ডিইউজে এর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, বিএফইউজে সহকারী মহাসচিব মোদাব্বের হোসেন, কবি মোশাররফ হোসেন খান। 

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ