ঢাকা, শুক্রবার 07 March 2017, ২৪ চৈত্র ১৪২৩, ০৯ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনার সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা

আব্দুর রাজ্জকা রানা : (গত সংখ্যার পর) এডভোকেট আব্দুল হালিম স্মৃতি পরিষদ ঃ ২০০৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি খুলনার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্যোগে নগরীর শামসুর রোডে ‘এডভোকেট আব্দুল হালিম স্মৃতি পরিষদ’ প্রতিষ্ঠিত হয়। এডভোকেট এনায়েত আলীকে  সভাপতি ও ড. মো. মাসুম আলীমকে সাধারণ সম্পাদক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড করে যাচ্ছেন। এ সংগঠনটি প্রতিবছর গুণীজন সম্মাননা দিয়ে আসছেন। 

দক্ষিণ বাংলা লেখক ফোরাম: ২০০২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার শাহপুর গ্রামের অধ্যক্ষ খান আকতার হোসেন নিজ উদ্যোগে ‘দক্ষিণ বাংলা লেখক ফোরাম’ নামের একটি সাহিত্য সংগঠন খুলনা মহানগরীর খালিশপুরে প্রতিষ্ঠা করেন। এ সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি খন্দকার জাকির হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ। 

খুলনা লেখক শিবির: ১৯৭৭ সালের দিকে খুলনা লেখক শিবিরের জন্মলাভ হয়। জন্মভূমির সম্পাদক হুমায়ূন কবির বালুর বাসভবনে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ শিবিরের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এডভোকেট ফিরোজ আহমেদ, সাংবাদিক আনোয়ার আহমেদ,  অধ্যাপক এনায়েত আলী বিশ্বাস ও সরদার আবদুস সাত্তার প্রমূখ। খুলনা লেখক শিবির নতুন সাহিত্যিক সৃষ্টি প্রয়াসে কিছু কাজ করেছিল। 

সংস্কৃতি ও কল্যাণ সংঘ: ১৯৭৮ সালে খুলনার খান জাহান আলী রোডে সংস্কৃতি ও কল্যাণ সংঘ গঠিত হয়। এই সংগঠনের প্রধান কাজ সেবামূলক হলেও এরা বেশ সংস্কৃতি সেবীও বটে। জনকল্যাণ মূলক কাজের ফাঁকে ফাঁকে এরা বিভিন্ন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। এ সংঘের সভাপতি ছিলেন এডভোকেট নুরুল ইসলাম ও সম্পাদিকা মমতাজ বেগম।

প্রতিভা সংসদ: ১৯৭৯ সালে খুলনা মহানগরীর পূর্ব বানিয়া খামারে ‘প্রতিভা সংসদ’ নামে একটি সাহিত্য সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। এদের উল্লেখযোগ্য অবদানের মধ্যে হলো-১৯৭৯ সালে ইলিয়াস হোসেনকে ও ১৯৮০ সালে আহম্মদ আলী খান এবং ফাইজুল কবীরকে সংবর্ধনা দেয়া। এ সংসদের সভাপতি ছিলেন আবদুর রহমান আবদার। আর সহ-সভাপতি ছিলেন সৈয়দ আলী হাকিম ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আ. শ.ম. শওকত হোসেন। তাছাড়া প্রতিভা সংসদের কয়েকটি শাখাও গঠিত হয়।

গণসংস্কৃতি পরিষদ: গণ সংস্কৃতি পরিষদের কেন্দ্রিয় কার্যালয় ঢাকায় অবস্থিত। ১৯৮০ সালে খুলনার দোলখোলাতে এর একটি শাখা গঠিত হয়। এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন শেখ ইলিয়াস।

মাওলানা আহমদ আলী স্মৃতি সংসদ ঃ খুলনা মহানগরীর ২৯৮ খানজাহান আলী রোডে নূর মঞ্জিলে ১৯৮০ সালের ১০ অক্টোবর ‘মাওলানা আহমদ আলী স্মৃতি সংসদ’ নামে একটি সাহিত্য সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন খন্দকার আবুল হাশিম ও সাধারণ সম্পাদক এম. হেফজুর রহমান। পরবর্তীকালে এম. হেফজুর রহমান সভাপতি হন। এর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন মমতাজ উদ্দিন আহমদ। এর আসর বসে শুক্রবার বিকেলে। 

খুলনা লেখিকা সংঘ: ১৯৮১ সালে নগরীর খানজাহান আলী রোডে হাতে গোনা কয়েকজন নারী সাহিত্য কর্মীকে নিয়ে যাত্রা শুরু করে ‘খুলনা লেখিকা সংঘ’। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন অধ্যাপিকা মাজেদা আলী। বর্তমানে এ সংগঠন প্রতি ইংরেজী মাসের প্রথম মঙ্গলবার সাহিত্য আসর বসে। বর্তমানে এর সভাপতি অধ্যাপিকা মাজেদা আলী ও সম্পাদিকা শামীমা সুলতানা শীলু। খুলনা সাহিত্যাঙ্গনে সাহিত্য সাময়ীকি প্রকাশে খুলনা লেখিকা সংঘ অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। 

নূর সাহিত্য মাহফিল: ১৯৮৫ সালের ১০ অক্টোবর খানজাহান রোডে নূর সাহিত্য মাহফিল প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সভাপতি ছিলেন এম. হেফজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মঞ্জুরুল হক। এর সাহিত্য আসর বসতো শুক্রবার।    আলীজ একাডেমি: ১৯৮৮ সালে পয়লা মহররম খুলনা মহানগরীর সৈয়দ লেনে আলীজ একাডেমি নামে একটি সাহিত্য ও সামাজিক সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। ঐ লেনের সাতজন ব্যক্তি যাদের নামের সাথে ‘আলী’ শব্দটি ছিল তারা একত্রে হয়ে এই আলীজ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সৈয়দ আলী হাকিম। যার বর্তমান সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন হাফেজ মাওলানা সৈয়দ আলী হাবিব। এ সংগঠনটি সাহিত্য, শিক্ষা ও সমাজ কল্যাণমূলক কাজ করে থাকে। পাশাপাশি তারা গুনীজনদের সম্মাননা প্রদান করেন।  প্রতি রোববার মাগরিববাদ এখানে সাহিত্যপাঠ অনুষ্ঠিত হয়।

রজনীগন্ধা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী: ১৯৮৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে ‘রজনীগন্ধা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক গোষ্টী’ নামে একটি সাহিত্য সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সভাপতি ছিলেন এম. হেফজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন কেএম আমিনুর রহমান। এ সংগঠনের সাপ্তাহিক আসর বসতো শনিবার। 

ইক্রা ইসলামী পাঠাগার: ১৯৯০ সালে খুলনা মহানগরীর পূর্ব-বানিয়া খামারে ডা. সৈয়দ আবেদ আলীর উদ্যোগে ‘ইকরা ইসলামী পাঠাগার’ নামে একটি ইসলামী পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ পাঠাগারের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল সর্বসাধারণের জন্য পত্র-পত্রিকা ও ইসলামী সাহিত্য চর্চার ব্যবস্থা করা। বর্তমানে এ সংগঠনটির উদ্যোগে প্রতি বছর বিভিন্ন জাতীয় ও ইসলামী দিবসসমূহ পালন করা হয়। বর্তমানে এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন হাফেজ মাওলানা সৈয়দ আলী হাবিব। 

রাইটার্স ক্লাব: ১৯৯১ সালে নগরীর খানজাহান আলী রোডে রাইটার্স ক্লাব নামে একটি সাহিত্য সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতায় ডি কে মন্ডল, কামরুজ্জামান লিটন, আবুল কালাম মহিউদ্দিন, বেদুইন সামাদ, বিমল কৃষ্ণ রায়, সঞ্জীব হাউলী প্রমুখ। বর্তমানে এর সভাপতি সুশীল কুমার রায় ও সাধারণ সম্পাদক শেখ হিরা। এ সংগঠন বিভিন্ন দিবসে প্রকাশনা প্রকাশ করে থাকে। তারা ‘রাইটার্স’ একটি প্রকাশনা বের করে থাকে। সংগঠনটি দুই বাংলার কবিতা উৎসব করে থাকে। এ ছাড়াও দেশের গুণীজনদের রাইটার্স পদক প্রদান করা হয়। 

লাল বাউল খেলা ঘর: ১৯৯৫ সালে নগরীর খানজাহান আলী রোডে লাল বাউল খেলাঘর প্রতিষ্ঠা হয়। এর প্রতিষ্ঠায় ছিলেন উজ্জ্বল ঘোষ, মোজাম্মেল হক, সালেহ মো. শহিদুল্লাহ, ঋত্বিক রাহা প্রমুখ। বর্তমান এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন শহিদুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক ফাহিম অভি। 

রেনেসাঁ সাহিত্য সংসদ: ১৯৯৮ সালের প্রথম দিকে রেনেসাঁ সাহিত্য সংসদ নামে একটি সাহিত্য সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। এর কার্যালয় ছিল খানজাহান আলী রোডে। যার সভাপতি ছিলেন কাজী রিয়াজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আবু বকর সিদ্দিক (শাহ সিদ্দিক)। এর সাহিত্য আসর বসতো শুক্রবার।

লাফিং ক্লাব: ১৯৯৮ সালে নগরীর খানজাহান আলী রোডে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ডি কে মন্ডল। এ সংগঠনটি বিভিন্ন স্থানে হাসির অনুষ্ঠান করে থাকে।   

খুলনা সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংস্থা: ’৯০ এর দশকে  ‘খুলনা সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংস্থা’ নামে একটি সাহিত্য সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। এর জন্ম তারিখ জানা না গেলেও সভাপতি ছিলেন সিরাজুল ইসলাম ও জেনারেল সেক্রেটারী ছিলেন মনু ইসলাম। এ সংগঠনটি অনেক দিন কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর ২০০০ সালে স ম হাফিজুল ইসলামের উদ্যোগে পুনরায় তার কার্যক্রম শুরু করে। যার বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন শেখ ইউসুফ আলী চিশতি ও  আসাদুজ্জামান মিথুন।

খুলনা সংস্কৃতিকেন্দ্র: পাশ্চাত্য আর আকাশ সংস্কৃতির রাহুগ্রাস থেকে বের হয়ে সুন্দর ও সুস্থ ধারার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে খানজাহানের স্মৃতিবিজড়িত খুলনায় ১৯৯৯ সালে এক জমকালো নজরুল জন্মশত বার্ষিকী উদযাপনের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় ‘খুলনা সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্রে’র পথচলা। নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে রবিউল আউয়াল মাসে নবী দিবসের বইমেলা, সাংস্কৃতিক উৎসবসহ খুলনা সংস্কৃতি অঙ্গনে অল্প সময়ে পরিচিত হয়ে ওঠে এ সংগঠনটি। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সংস্কৃতি কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে ২০০৪ সালে বিভাগীয় শহর খুলনায় গঠিত হয় খুলনা সংস্কৃতিকেন্দ্র। যার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সেক্রেটারি করা হয় খুলনার দুই পরিচিত মুখ সাংবাদিক শেখ বেলাল উদ্দীন আর মাকসুদুর রহমান মিলনকে। জাতীয় দিবস, নজরুল-ফররুখ, সিরাতুন্নী (সাঃ), পলাশী দিবস, সেমিনারসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে দ্রুত নজর কাড়ে খুলনা সংস্কৃতিকেন্দ্র। ২০০৫ সালে শেখ বেলাল উদ্দীনের শাহাদাত বরণের পর মুহাম্মদ শাহ আলমকে আহবায়ক ও মাকসুদুর রহমান মিলনকে সদস্য সচিব করে চলতে থাকে কার্যক্রম। ২০০৬ সালে মুহাম্মদ শাহ আলমকে সভাপতি এবং শেখ শামসুদ্দীন দোহা সেক্রেটারি, নাজমুল কবীরকে সমন্বয়ক, পরবর্তীতে এস এম মাহবুবুর রহমানকে সমন্বয় কর্মকর্তা করে সাহিত্যিক, সাংবাদিক, গীতিকার ও সুরকারদের নিয়ে গঠন করা হয় সংস্কৃতিকেন্দ্রের নতুন কমিটি। উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীতে সাপ্তাহিক কবিতা পাঠের আসর, বিভিন্ন দিবস পালন, বৈশাখী ও সাংস্কৃতিক উৎসবসহ শিল্পী-সাহিত্যিক ও গবেষকদের সমৃদ্ধ লেখা নিয়ে বের করে নিয়মিত সংকলণ ‘প্রেরণা’। এছাড়া রয়েছে নাট্য, সংগীত ও তুলি বিভাগ। মাঝেমধ্যে কবিতা পাঠের আসরের ফাঁকে চলে পিঠা ও ফল উৎসব।  সংকলনগুলোতে যাদের লেখা প্রকাশিত হয় তারা হলেন-এডভোকেট মো. এনায়েত আলী, সরদার আব্দুস সাত্তার, ড. মো. জাকির হোসেন, এরশাদ আলী, রাশিদুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক রানা, মিনু মমতাজ, আব্দুল্লাহ হোসেন বাচ্চু, এম হেফজুর রহমান, সৈয়দ আলী হাকিম, রুহুল আমিন সিদ্দিকী, শামীমা সুলনাতা শিলু, কওসারী জাহান মঞ্জু, সেখ মনিরুল ইসলাম, আবু বকর সিদ্দীক, সিরাজুল ইসলাম, শওকত আলম, স.ম. হাফিজুল ইসলাম, এস এম মুকুল, আব্দুল হান্নান, আব্দুল্লাহ আল কাফি, আবুল হাসান জারজিস প্রমুখ।      

নজরুল গবেষণা পরিষদ: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি অনুরক্ত হয়ে ২০০০ সালের প্রথম দিকে সৈয়দ আলী হাকিম ‘নজরুল গবেষণা পরিষদ খুলনা’ নামে নজরুল চর্চা ও গবেষণাধর্মী একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। যেখানে রয়েছে নজরুল রচিত প্রায় সকল গ্রন্থসমূহ, বিভিন্ন নজরুল গবেষকদের লেখা তিন শতাধিক বই, প্রায় তিন হাজার নজরুল বিষয়ক গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ, দুই শতাধিক নজরুল বিষয়ক ঐতিহাসিক ছবি। এ সংগঠনটি প্রতিবছর কবি নজরুলের জন্ম-মৃত্যু দিবস বিস্তারিত কর্মসূচির মধ্যদিয়ে পালন করে আসছে। এ ছাড়া সংগঠনের পক্ষ থেকে গুণীজন সম্মাননা দেয়া ও নজরুল বিষয়ক স্মারক গ্রন্থ প্রকাশ করা হয়।    

কৃষ্ণ চন্দ্র ইনষ্টিটিউট:  সুপ্রসিদ্ধ কবি কৃষ্ণ চন্দ্র মজুম দারের নামানুসারে সেনহাটিতে কৃষ্ণ চন্দ্র ইনস্টিটিউট আছে। এখানেও বেশকিছু সংখ্যক পুস্তকাদি রয়েছে। এখানে থেকে ও বই ধার দেওয়া হয়। তাছাড়া এ ইনষ্টিটিউট বিভিন্ন সময়ে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করে থাকে।

নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠচক্র: ২০০০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর খুলনা মহানগরীর বসুপাড়াস্থ রেহেনা আক্তার আলেয়ার বাসভবনে ‘নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠচক্র’ শুরু হয়। এ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সুলতানা রিজিয়া, ফিরোজা মেরী, লিলি হক, আক্তারুন নাহার আলো ও শামসুয জাহান নূরের উপস্থিতিতে মাজেদা হককে সভাপতি ও রেহেনা আক্তার আলেয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট ‘খুলনা জেলা’ কমিটি গঠিত হয়। পরবর্তীতে এই সংগঠনটি অধ্যাপিকা মিনু মমতাজ ও মুর্শিদা আক্তার রনি, সুরাইয়া বেগম, সিস্টার মেরী, সেলিনা বুলবুলসহ বিভিন্ন নন্দিনীর অক্রান্ত পরিশ্রম ও বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে ‘নন্দীনী সাহিত্য ও পাঠচক্র’র ২৭ টি শাখার মধ্যে ‘খুলনা  জেলা শাখা’ শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। উল্লেখ্য, এই নন্দিনীদের নেতৃত্বেই খুলনার জাতী সংঘ শিশু পার্কে পরপর তিন বছর পক্ষকালব্যাপী একুশে বই মেলা অত্যন্ত সফলতার সাথে অনুষ্ঠিত হয়। যা নারীর ক্ষমতায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।  এ সংগঠন ‘মাসিক নন্দিনী’ প্রকাশ করে থাকে। প্রতি বছর একুশে বই মেলায় তারা স্টল বরাদ্দ নেয়।

সৃজনী সঙ্গিত একাডেমি: ২০০০ সালে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার মিকশিমিল গ্রামে সৃজনী সঙ্গিত একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সুবীর বসু। বর্তমানে এর সভাপতি সুবীর বসু ও সাধারণ সম্পাদক রমা সাহা। সংগঠনটির বর্তমান কার্যালয় খুলনা মহাগরীর ২৫ বাগমারায়। এ সংগঠনটি বিভিন্ন গণসঙ্গিত প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন দিবসে বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্রে অনুষ্ঠান করে থাকে। 

আন্তরিক কালচারাল একাডেমি: ২০০১ সালের ৫ জানুয়ারি নগরীর শেখপাড়ায় ‘আন্তরিক কালচারাল একাডেমি’ নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মো. কবির আহমদ। প্রতি বৃহস্পতিবার এর আসর বসে। 

সপ্তর্ষি: ২০০১ সালের ১২ রবিউল আউয়াল ‘সপ্তর্ষি’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এটি ইসলামী দর্শন চর্চা, দেশজ মূল্যবোধ সংরক্ষণ ও সমাজ কল্যাণমূলক সংগঠন। হোসেনেয়ারা মাহমুদ লিলি, ফজিলাতুন্নেসা, রীনা নাসরিন, মিনু মমতাজ, মনোয়ারা বেগম, কাজী শামীমা মীতা, মাহমুদা হোসেন মীতা নামের সাতজন সমাজকর্মীর উদ্যোগে এ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সংগঠন ‘উল্কা’ নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ করে থাকে। 

মোহনা সাহিত্য ও সমাজ কল্যাণ সংগঠন ঃ ২০০২ সালে ৭ জুন নগরীর দৌলতপুরে মোহনা সাহিত্য ও সমাজ কল্যাণ সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন মো. দেলোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সেলিম হোসেন সীমান্ত। প্রতি শুক্রবার বিকেলে এ সংগঠনের আসর বসে। 

তন্ময় প্রকাশনী খুলনা: ২০০২ সালে নগরীর গগণ বাবু রোডস্থ মিনু মমতাজের বাড়িতে ‘তন্ময় প্রকাশনী’ তার কাজ শুরু করে। এ প্রকাশনী থেকে ইতোমধ্যে জীবনী গ্রন্থ ‘সন্ধ্যা রাত’ ও প্রজন্মের পাথেয়, নন্দিনী সুলতানার স্বপ্নসহ ৩৯টি বই প্রকাশিত হয়েছে। তন্ময় প্রকাশনী’র মাধ্যমে নারীরা তাদের প্রকাশনা প্রকাশ করে থাকে। যা খুলনার নারীদের লেখা প্রকাশায় অগ্রণী ভুমিকা পালন করছে। খুলনার নারীদের মধ্যে মিনু মমতাজ একজন অন্যতম প্রতিষ্ঠিত নারী প্রকাশক। তিনি ২০১১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ‘অবিনশ্বর সাহিত্য পত্রিকা’র খুলনা প্রতিনিধি হিসাবে কর্মরত রয়েছেন।

কথাকলি একাডেমি: ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নগরীর খালিশপুরের হালদারপাড়ায় কথাকলি একাডেমি নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জাবের আহমেদ পলাশ। এ সংগঠনের সাথে ছিলেন শেখ আব্দুস সালাম, ছবি দাস প্রমুখ। পরবর্তীকালে এর সভাপতি ছবি দাস  ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন কে এম আমিনূর রহমান। প্রতি শুক্রবার এখানে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক চর্চা হয়। 

নজরুল সঙ্গীত শিল্পী পরিষদ: ২০০৬ সালের ৫ জুলাই নগরীর শান্তিধাম মোড়ে ‘নজরুল সঙ্গিত শিল্পী পরিষদ বিভাগীয় শাখা খুলনা’ গঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ আলী আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক তরুণ কুমার মজুমদার ও যুগ্ম সম্পাদক নাজমুন নাহার মুন। বর্তমান সভাপতি গণেশ চন্দ্র ম-ল ও সাধারণ সম্পাদক সুবীর কুমার বসু। এ সংগঠনটি ‘জাগরণ’ নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা বের করে থাকে। 

বাংলাদেশ রবীন্দ্র সঙ্গিত শিল্পী সংস্থা খুলনা ঃ ২০০৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে নগরীর আহসান আহমেদ রোডে ‘ বাংলাদেশ রবীন্দ্র সঙ্গিত শিল্পী সংস্থা’ খুলনা বিভাগীয় কমিটি গঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতায় ছিলেন উজ্জ্বল ঘোষ, এডভোকেট রকিবা খান লুবা, ভারতী বসু. অনিতা দাস প্রমুখ। বর্তমানে আহবায়ক স্বাগতা দাস ও সদস্য এডভোকেট রকিবা খান লুবা। এ সংগঠন বিভিন্ন দিবসে প্রকাশনা বের করে থাকে।  

বনলতা সাহিত্য পরিষদ খুলনা: ২০০৭ সালের ২৫ মে ‘বনলতা সাহিত্য পরিষদ’ খুলনায় একটি অস্থায়ী কমিটি ঘোষণা করে। পুনরায় ২০০৮ সালের ২০ জানুয়ারি নগরীর সাউথ সেন্ট্রাল রোডস্থ মিনু মমতাজের বাসভবনে তার নিজ উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কমিটির তৎকালীন কোষাধ্যক্ষ নাজমা আরেফিন উপস্থিতিতে ২১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়। যার সভাপতি নির্বাচিত হন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সাহিত্যিক শেখ দিদারুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মিনু মমতাজ। এ সংগঠনটি নিয়মিত সাহিত্য আসর, সাহিত্য পত্রিকা, গুনীজন সংবর্ধনা ও সম্মেলন আয়োজন করে থাকে। এ ছাড়া তারা ত্রৈমাসিক বনলতা প্রকাশ করে থাকে।  

পোয়েটস ক্লাব: ২০০৮ সালের ১৪ জুন নগরীর শান্তিধাম মোড়ে পোয়েটস ক্লাব নামে একটি সাহিত্য সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জামাল উদ্দিন খান। এ সংগঠনের দীর্ঘকালীন সভাপতি ছিলেন এম হেফজুর রহমান। বর্তমানে সভাপতি সৈয়দ জীবন ও সাধারণ সম্পাদক শংকর চন্দ্র শীল। এ সংগঠন থেকে ‘ঝিলিক’ নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এর বর্তমান কার্যক্রম চলছে বেগম রোকেয়া স্মৃতি পাঠাগারে। 

খুলনা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী: ২০০৮ সালের অক্টোবরে নগরীর আহসান আহমেদ রোডে খুলনা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী’ নামে একটি সাহিত্য সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এডভোকেট মনিরুল ইসলাম পান্না ও সাধারণ সম্পাদক এম. হেফজুর রহমান। প্রতি বৃহস্পতিবার এর সাপ্তাহিক আসর বসতো। এ সংগঠনের উদ্যোগে একাধিক প্রকাশনা বের হয়েছে। বর্তমানে এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন এডভোকেট মনিরুল ইসলাম পান্না ও শওকত আলম।

জোহরা খাতুন সাহিত্য পরিষদ: ২০০৯ সালে নগরীর দৌলতপুর বিএল কলেজ রোডে জোহরা খাতুন সাহিত্য পরিষদ নামে একটি সাহিত্য সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন মো. শামীম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক এ কে আজাদ। বর্তমানে এর সভাপতি নাছিমা খান। এ সংগঠনের সাহিত্য আসর বসে প্রতি বৃহস্পতিবার বিকেলে। 

প্রজন্ম বিকাশ: মূলত শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র হিসেবে ২০১১ সালে নগরীর বয়রা এলাকায় ‘প্রজন্ম বিকাশ’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক কে এম আমিনূর রহমান। এ সংগঠনটি বিভিন্ন প্রকাশনা বের করে থাকে। এ সংগঠনটি ‘আবেশি কণ্ঠা ভরণ’ নামে এস এম আজওয়াদ আহনাফ অলিন্দ এর একটি আবৃতি সিডি প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দিবসে সাহিত্য সংকলন, কবিতা পত্র ইত্যাদি প্রকাশ করে।  (চলবে)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ