ঢাকা, শুক্রবার 07 March 2017, ২৪ চৈত্র ১৪২৩, ০৯ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অলিম্পিক ভিলেজ হতে যাচ্ছে শিবচরের পদ্মার পাড়ে

কামরুজ্জামান হিরু : অলিম্পিক ভিলেজ না থাকায় দক্ষিণ এশিয়ান গেমস ছাড়া আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির অনুমোদিত (অলিম্পিক গেমস,কমনওয়েলথ গেমস,এশিয়ান গেমস, ইসলামী সলিডারিটি গেমস) কোন গেমসের আয়োজক হওয়ার দাবি তুলতে পারে না বাংলাদেশ। অথচ এই গেমসগুলোতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়মিত। আয়োজক হতে না পারার দুঃখ ক্রীড়া সংগঠকদের দীর্ঘ দিনের। ক্রিকেট বিশ্বকাপ, ৩৯ দেশের অংশগ্রহণে রোলবল বিশ্বকাপ, আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়ার প্রীতি ম্যাচ,ওয়ার্ল্ড হকি লিগের খেলাগুলোর সফল আয়োজন করে আন্তর্জাতিক মহলে সাংগঠনিক দক্ষতার সাক্ষর রেখেছে বাংলাদেশ। সংগঠকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা মেটাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মার পাড়ে অলিম্পিক ভিলেজ  তৈরী করতে সংশ্লিষ্টদের অনেক আগেই নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন।  তবে কোন পাড়ে হবে দেশের বৃহত্তম এ ক্রীড়া অবকাঠামো ? তা নির্ধারণ করতেই কেটে গেছে বেশ সময়। স্থান নির্ধারণ করতে বেশি সময় নেয়ার কারণ পদ্মা ব্রীজ। এ ব্রীজ নির্মানের পর পদ্মার গতিপথ কেমন হতে পারে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে সে মতামত নিয়েই নির্ধারণ করা হয়েছে অলিম্পিক ভিলেজের জায়গা।

গত বছর ১২ নভেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা শিবচরের পদ্মার পাড়ে যে জায়গা পরিদর্শন করেছিলেন সেখানেই নির্মান করা হবে এ ভিলেজ। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস বলেছেন,‘অলিম্পিক ভিলেজ নির্মান সরকারের বিশাল প্রকল্প। 

এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে আমরা কোনো তাড়াহুড়া করিনি। মুান্সিগঞ্জ, শরিয়তপুর ও নরসিংদীতেও আমরা জায়গা দেখেছিলাম। শেষ পর্যন্ত মাদারীপুরের শিবচরের পদ্মার পাড়ের জায়গাটা নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই পাড়েই নতুন বিমানবন্দর নির্মানের পরিকল্পনা আছে সরকারের। যে কারণে নদী শাসনের বিষয়টা বিবেচনা করেই ওই ১২০০ একর জায়গাইে বেছে নেয়া হয়েছে।’

এ ব্যাপারে অগ্রগতি সম্পর্কে সচিব বললেন,এর আগে অন্য একটি জায়গার উপর ভিত্তি করে প্রশাসনিক আদেশ হয়েছিল। ওই আদেশ বাতিল করে শিবচরে নির্ধারিত নতুন জায়গার জন্য প্রশাসনিক আদেশের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) কে প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন(বিওএ)। এনএসসি ওই প্রস্তাব ইতিমধ্যে উপস্থাপন করেছে পরিষদের চেয়ারম্যান এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদারের কাছে। চেয়ারম্যান সেটা অনুমোদন দিলেই পাঠানো হবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে।

জায়গাতো নির্ধারণ হলো। এর পরের প্রক্রিয়া কি? ‘প্রথমতো এই জায়গা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মালিকানায় আসা। পুরো জায়গা যদি খাস হয় তা বন্দোবস্ত করতে হবে। যদি সেখানে ব্যক্তি মালিকানার জায়গা থাকে তা অধিগ্রহণ করতে হবে। মাদারীপুর জেলা প্রশাসন এসব প্রক্রিয়া শেষ করে নথিপত্র পাঠাবে ভূমি মন্ত্রণালয়ে। ওই মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন হলে সংশ্লিষ্ট সব দফতর হয়ে আসবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে। মালিকানা পাওয়ার পর অলিম্পিক ভিলেজ তৈরীর জন্য মাস্টার প্লান করা হবে’-বলেছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ