ঢাকা, শুক্রবার 07 March 2017, ২৪ চৈত্র ১৪২৩, ০৯ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সড়কের পাশে করাতকল পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ

 

গাইবান্ধা সংবাদদাতা: জেলার বিভিন্ন ব্যস্ততম সড়কগুলো ঘেঁষে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে প্রায় দুই শতাধিক করাতকল। আর এসব করাতকল উচ্ছেদে কোন উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। 

ফলে যানবাহনসহ পথচারীদের চলাচল বিঘিœত হচ্ছে। এছাড়া কাঠের গুঁড়া চোখে পড়ে চোখ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। 

ফাঁকা ও জনশূন্য এলাকায় করাতকল বসানোর নিয়ম থাকলেও সে নিয়ম মানা হচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাইবান্ধার সাত উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ঘেঁষে দুই শতাধিক করাতকল রয়েছে। এরমধ্যে গাইবান্ধা-সাদুল্যাপুর সড়কের খানকাশরীফ, সাহারবাজার, গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়কের বাঁধেরমাথা, চাপাদহ, কুপতলা, লক্ষ্মীপুর, গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের তুলশীঘাট, গাইবান্ধা-সাঘাটা সড়কের ত্রিমোহিনী, বাদিয়াখালী ও বোনারপাড়া, এলাকায় করাতকলের সংখ্যা বেশি।

এছাড়া জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উপরও এসব কল বসানো হয়েছে। অথচ ফাঁকা ও জনশূন্য এলাকায় করাতকল বসানোর নিয়ম। এক শ্রেণির কাঠ ব্যবসায়ী প্রশাসনের অনুমতি না নিয়েই জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এসব করাতকল গড়ে তুলেছেন। বিশেষত জেলা শহরের সাদল্যা রোড, ব্রিজ রোড, স্টেশন রোড, ফলিয়া রোড ও গোডাউন রোডে করাতকলের ব্যবসা এখন জমজমাট। এসব সড়কের উভয়পাশ ঘেঁষে কলগুলো গড়ে ওঠায় নানাবিধ সমস্যা দেখা দিয়েছে।

ডিবি রোডের ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদ বাবু বলেন, সড়কের পাশে করাতকল থাকায় সে স্থানগুলোতে চোখ বন্ধ করে মোটরসাইকেল চালাতে হয়। কেননা কাঠের গুঁড়া চোখে পড়ে অনেকবার চোখের সমস্যায় ভুগেছি। প্রশাসনের উচিত সড়কের পাশে থেকে এসব করাতকল সরিয়ে দেয়া।

চক্ষু বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বালুর কণা জাতীয় এই গুঁড়া চোখের রেটিনার মারাত্মক ক্ষতি করে। যার ফলে অকালে চোখ নষ্ট হতে পারে। সড়কের পাশে থেকে এসব করাতকল উচ্ছেদে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সচেতন মহল।

গাইবান্ধা পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবির মিলন বলেন, শহরে অনেক করাতকলই ব্যস্ত সড়ক ও বাজার এলাকাতেই অবৈধভাবেই স্থাপন করা হয়েছে। এদেরকে উচ্ছেদ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। আমি বিষয়টি দেখবো।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলিয়া ফেরদৌস জাহান বলেন, ফাঁকা ও জনশূন্য এলাকায় করাতকল বসানোর নিয়ম থাকলেও দীর্ঘদিন আগেই নিয়ম ভঙ্গ করে এসব করাতকল স্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ