ঢাকা, শনিবার 08 March 2017, ২৫ চৈত্র ১৪২৩, ১০ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রথা ভেঙে শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানালেন নরেন্দ্র মোদি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল শুক্রবার দিল্লীর পালাম বিমান বন্দরে পৌঁছলে ভারতীতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে অভ্যর্থনা জানান -পিআইডি

# আজ দুই নেতার শীর্ষ বৈঠক

সামছুল আরেফীন : ঐতিহাসিক সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন ভারতে। চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গতকাল শুক্রবার দিল্লী পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরে দেয়া হয় লালগালিচা সংবর্ধনা। প্রথা ভেঙ্গে তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর মধ্য দিয়ে দ্বিপাক্ষিক এই সফরকে উচ্চ মাত্রায় নিয়ে যাওয়া হলো। সোয়া সাত বছর পর এই প্রথম কোনও দ্বিপাক্ষিক সফরে ভারতে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- আর তাকে স্বাগত জানাতে যথারীতি হোর্ডিং, জাতীয় পতাকা আর ব্যানারে সেজে উঠছে দিল্লীর রাজপথ। তবে এটা যে বিদেশী সরকারপ্রধানদের আর পাঁচটা রুটিন সফরের মতো একেবারেই নয়- নয়াদিল্লীর প্রস্তুতি আর সাজ সাজ রব তারই বার্তা বহন করে। সফরের দ্বিতীয় দিনে আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শীর্ষ বৈঠক এবং বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে।

গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৭৭ আকাশ প্রদীপে সফর সঙ্গীদের নিয়ে রওনা হয়েছিলেন শেখ হাসিনা। ভারতের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে দিল্লীতে অবতরণ করেন তিনি। এ সময় প্রটোকল ভেঙে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শেখ হাসিনা দিল্লীতে পৌঁছানোর পর তাকে স্বাগত জানিয়ে দু’টি টুইট করেছেন মোদি। টুইটে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। 

বিকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর সন্ধ্যায় দিল্লীস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রধানমন্ত্রীকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দেয়া হয়। সংবর্ধনায় কূটনীতিক, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। 

সফরের দ্বিতীয় দিন আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্রপতি ভবনে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। পরে প্রধানমন্ত্রী ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর সমাধিসৌধ পরিদর্শনে গিয়ে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান এই নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। আজ হায়দ্রাবাদ হাউজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় দুই নেতা একান্তেও কিছু সময় অতিবাহিত করবেন। আলোচনার পর দুই নেতার উপস্থিতিতে একগুচ্ছ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। এ সময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনীর হিন্দি সংস্করণ উন্মোচন করবেন দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী। 

সেখানে কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে সাড়ে ৩টার দিকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যেসব ভারতীয় সেনাসদস্য মারা গেছেন তাদের মরণোত্তর ‘মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ প্রদান করবেন প্রধনামন্ত্রী। পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে সাতজনের নিকটাত্মীয়দের হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা পদক’ এবং সম্মাননাপত্র তুলে দেবেন। এ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উপস্থিত থাকবেন এবং বক্তৃতা দেবেন। প্রাথমিকভাবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এক হাজার ৬৬১ জনকে মরণোত্তর সম্মাননা দেয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে যোগদানের পর আবারও রাষ্ট্রপতি ভবনে ফিরে আসবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ হামিদ আনসারির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে তার বাসভবনে যাবেন। বৈঠক শেষে সাড়ে ৬টায় রাষ্ট্রপতি ভবনে ফিরে আসবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

৯ এপ্রিল সকালে প্রধানমন্ত্রী আজমীর শরীফ যাবেন। সেখানে খাজা মঈনউদ্দিন চিশতি (রহঃ)-এর দরগাহ শরীফ জিয়ারত করবেন। একইদিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সাথে দেখা করবেন। পরে তিনি রাষ্ট্রপতি প্রদত্ত এক নৈশভোজে যোগ দেবেন। এদিন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

১০ এপ্রিল সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাজমহল হোটেলে বাংলাদেশ ও ভারতের শীর্ষ শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের এক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। বিকেলে তিনি ঢাকার উদ্দেশে দিল্লী ত্যাগ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের দিল্লী সফরের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতিগুলোর অন্যতম হবে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার রূপরেখা। ভারতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহল তাদের প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ‘যথেষ্ট গুরুত্ব’ দেয়ার কথা বলছে বারবার। এবার প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কম-বেশি ৩৩টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে যাচ্ছে। তৃতীয় দফায় বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন করে ৫০০ কোটি ডলার দিতে যাচ্ছে ভারত। এর মধ্যে নতুন মাত্রা হচ্ছে ভারতের কাছ থেকে ৫০ কোটি ডলারের ঋণে সমরাস্ত্র কেনাকাটা। এই সফরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য ভারতের সশস্ত্র বাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শহীদদের মরণোত্তর সম্মাননা দেয়া। 

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মত ক্ষমতায় আসার পর এটাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম ভারত সফর। এর আগে ২০১০ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফর করেন এবং ২০১৫ সালের জুন মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে আসেন।

লালগালিচা সংবর্ধনা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে লালগালিচা সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে ৪ দিনের এক সরকারি সফরে অপরাহ্নে নয়াদিল্লী পৌঁছলে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এই সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ বিমানের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে ভারতীয় বিমানবাহিনীর পালাম স্টেশন বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

প্রটোকল অনুসারে ভারতের ভারি শিল্প প্রতিমন্ত্রী বাঙালি গায়ক বাবুল সুপ্রিয়র শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানানোর কথা ছিল। বাবুল সুপ্রিয় বিমানবন্দরে উপস্থিতও ছিলেন। তবে পরে প্রটোকল ভেঙে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান নরেন্দ্র মোদি নিজেই। 

পালাম স্টেশন থেকে প্রধানমন্ত্রীকে একটি সুসজ্জিত মোটর শোভাযাত্রা সহকারে রাষ্ট্রপতি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী সেখানে অবস্থান করবেন।

দিল্লীর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ: এর আগে নয়াদিল্লীর উদ্দেশে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ত্যাগ করে। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ এ এস এম ফিরোজ, তিনবাহিনীর প্রধানগণ, কূটনৈতিক কোরের ডিন এবং বেসামরিক ও সামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ বিমান বন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।

 শেখ হাসিনা-সুষমা স্বরাজ সাক্ষাৎ: নয়াদিল্লী সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। এর মধ্যদিয়ে শুরু হলো প্রধানমন্ত্রীর চারদিনের দ্বিপাক্ষিক সফরের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি। গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টায় নয়াদিল্লীর রাইসিনা হিলে রাষ্ট্রপতি ভবনের দক্ষিণ ড্রইংরুমে সাক্ষাতে বসেন হাসিনা ও সুষমা। এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ হাইকমিশনে এক সংবর্ধনা: গতকাল সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে দিল্লীতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এক সংবর্ধনার আয়োজন করে। ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দিল্লীতে কর্মরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, গণ্যমান্য ভারতীয় ব্যক্তি ও দেশী-বিদেশী সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লীতে আসছেন বলে শুনেছি। তার সঙ্গে আলাদা করে কথা বলার অপেক্ষায় আছি। দেখি আগামীকাল রাতে হয় কিনা?

গঙ্গা ব্যারাজ-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এটা করতে চাই। দুই বাংলার জনগণের স্বার্থে এবং ভারতের সঙ্গে আলোচনা করেই করতে চাই।’ তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় আশাবাদী। দেখি কী হয়।’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রটোকল ভেঙে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, এ ঘটনায় তিনি অভিভূত। তিনি বলেন, এত বড় দেশের প্রধানমন্ত্রী, এত ব্যস্ততা তার। তারপরেও তিনি গেছেন। এতে প্রমাণ হয়, দু’দেশের সম্পর্ক কোন পর্যায়ে।

শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানিয়ে মোদির টুইট: দিল্লীতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর স্টেশন পালামে অবতরণের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

গতকাল সকাল ১০টায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৭৭ আকাশ প্রদীপে সফর সঙ্গীদের নিয়ে রওনা হয়েছিলেন শেখ হাসিনা।

ভারতের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে দিল্লীতে অবতরণ করেন তিনি। সাত বছর পর এটি শেখ হাসিনার প্রথম দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর।

 শেখ হাসিনা দিল্লীতে পৌঁছানোর পর দু’টি টুইট করেছেন মোদি। এক টুইট বার্তায় মোদি বলেন, ভারতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাষ্ট্রীয় সফরে তাকে স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত।

আরো একটি টুইট বার্তায় মোদি বলেছেন, বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যকার সম্পর্ককে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আমি বদ্ধপরিকর।

নয়াদিল্লীতে সাজ সাজ রব: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর উপলক্ষে রাজধানী নয়াদিল্লীতে এখন সাজ সাজ রব। দু’দিন বাকি থাকলেও ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রাষ্ট্রপতি ভবন পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশ শোভিত হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের পতাকায়।

দিল্লীর রাজপথে শোভা পাচ্ছে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি সম্বলিত বিশালাকায় সব ফেস্টুন, বিলবোর্ড, প্ল্যাকার্ড।

 শেখ হাসিনার সম্মানে দেয়া রাষ্ট্রপতির নৈশভোজে শেষ মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগদানের খবরে নয়াদিল্লীর কূটনৈতিক পাড়া ও সংবাদমাধ্যমগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে নতুন উদ্দীপনা।

সফরে ৩০ কেজি ইলিশ নিয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী: চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উঠেছেন বাংলাদেশের নড়াইলের জামাই ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির দিল্লীর রাষ্ট্রপতি ভবনে। বাংলাদেশের বিখ্যাত ইলিশ ভারতীয়দের খুব প্রিয়। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ইলিশের নাম শুনলেই জিভে পানি চলে আসে। তাই তো শেখ হাসিনা তার প্রিয় প্রণবদার জন্য ৩০ কেজি ইলিশ উপহার হিসেবে নিয়ে গেছেন। 

রাষ্ট্রপতির জন্য শুধু ইলিশ নয় ধুতি ও পাঞ্জাবীও নিয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রণবপতœী শুভ্রা যতদিন ছিলেন, প্রতিবারই তার জন্য জামদানি শাড়ি নিয়ে যেতেন। বাংলাদেশের মেয়ে শুভ্রার প্রয়াণের পর শ্রদ্ধা জানাতে দিল্লী ছুটে যান শেখ হাসিনা। এবার মেয়ে প্রিয় শুভ্রা দি নেই তাই প্রণবকন্যা শর্মিষ্ঠার জন্য নিয়ে গেছেন রাজশাহী সিল্কের শাড়ি। জামদানি ছেড়ে রাজশাহী সিল্ক এবারই প্রথম। আরো অছে নানা রকমের বিখ্যাত বাঙ্গালি মিস্টি। 

শুধুমাত্র প্রণব মুখার্জি ও তার পরিবারের জন্য উপহার নিয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী তা কিন্তু নয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার পরিবার, বিরোধীদলীয় নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও তার পরিবারের জন্যও বিশেষ বিশেষ উপহার আছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তালিকায়।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী যারা: এবার প্রধানমন্ত্রীর ৩৫০ জন সফরসঙ্গীর মধ্যে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতির নেতৃত্বে ২৫৭ সদস্যের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এবং পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক আগেই দিল্লী গেছেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মসিউর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো.শাহরিয়ার আলম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লীতে পৌঁছেন। 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ছাড়াও সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মো.আমিনুল ইসলাম, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব জাফর আহমেদ খান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপ্যাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, রেলপথ সচিব মো. ফিরোজ সালাহ উদ্দিন, তথ্য সচিব মরতুজা আহমদ, বিদ্যুৎ সচিব আহমদ কায়কাউস, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো.সিরাজুল হক খান, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব কামাল উদ্দিন আহমেদ, নৌ-পরিবহন সচিব অশোক মাধব রায়, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো.মাহমুদ রেজা খান, জ্বালানি সচিব নাজিমউদ্দিন চৌধুরী, আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো.জহিরুল হক, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আখতার হোসেন ভূইয়া, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব কাজী শফিকুল আলম এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব শুভাশীষ বসু।

২৫৭ ব্যবসায়ীর মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ, প্রথম সহ-সভাপতি শফিউল আহমাদ, চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক শেখ ফজলে ফাহিম এবং মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি নিহাদ কবীর প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছেন।

রাজনীতিবিদের মধ্যে সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহও রয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ