ঢাকা, শনিবার 08 March 2017, ২৫ চৈত্র ১৪২৩, ১০ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

‘প্রতিরক্ষা চুক্তি বা সমঝোতা’ কোনোটিই জনগণ মানবে না

স্টাফ রিপোর্টার: সরকারের দাবি অনুযায়ী ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সত্যিই যদি উচ্চতম পর্যায়ে পৌঁছে থাকে, তাহলে প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রয়োজন হচ্ছে কেন- সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ভারতের সঙ্গে ‘প্রতিরক্ষা সমঝোতা’ বা ‘প্রতিরক্ষা চুক্তি’র কোনোটিই জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। গতকাল শুক্রবার সদ্য কারামুক্ত দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলকে সঙ্গে নিয়ে শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। 

জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারতের সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, হাবিবুর রহমান হাবিব, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আজিজুল বারী হেলাল, মহানগরের কাজী আবুল বাশার, ইউনুস মৃধা, মো. মোহন, যুব দলের সাইফুল ইসলাম নীরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের আকরামুল হাসান দলের মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন। বিএনপির ঢাকা মহানগর কমিটির সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলকে নাশকতার একটি মামলায় গত বছরের ৯ অক্টোবর কারাগারে পাঠিয়ে ছিল আদালত। গত ২৩ মার্চ তিনি উচ্চ আদালতে জামিনে মুক্তি পান।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার বলেছেন যে, ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক উচ্চতম পর্যায়ে রয়েছে। সম্পর্ক উচ্চতম পর্যায়ে যদি থাকে, তাহলে এ ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক সই করার কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি না। শুধুমাত্র ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি বা সমঝোতা কোনোটাই বাংলাদেশের মানুষের কাছে গ্রহণ যোগ্য হবে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্র বিরোধী কোনো চুক্তি বা সমঝোতা দেশের জনগণ মেনে নেবে না।

চারদিনের সফরে শুক্রবার দুপুরে নয়া দিল্লী পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সফরে ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে আলোচনা। এ সফরে সাইবার নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, পরমাণু বিদ্যুৎ, বিজ্ঞান ও প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিন ডজন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে সরকারের পক্ষ থেকে আভাস দেয়া হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অন্যতম ‘অমীমাংসিত ইস্যু’ তিস্তা। সেই তিস্তা চুক্তি না করে প্রতিরক্ষা চুক্তি বা সমঝোতা ভালো ফল বয়ে আনবে না। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর উপলক্ষে ইতিমধ্যে আমাদের বক্তব্য খুব স্পষ্ট করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়েছি। আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশের সমস্যাগুলোর মধ্যে প্রধান হচ্ছে তিস্তা নদীর পানির ন্যায্যা হিস্যা পাওয়া, ৫৮টি অভিন্ন নদীর ন্যায্য হিস্যা পাওয়া।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশের নাগরিকদের হত্যা করা হচ্ছে তার নিরসন হওয়া, ট্যারিফ-নন-ট্যারিফ বিষয়ে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে বাধা রয়েছে, সেগুলো অপসারিত করা- এগুলো বাংলাদেশের এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সমস্যা। এই সমস্যাগুলোর যদি সমাধান না হয়, তাহলে শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা চুক্তি অথবা সমঝোতা কোনোটাই বাংলাদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। 

ভারতসহ গণতান্ত্রিক বিশ্বের সকল সদস্য ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে’ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করে সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সবসময় কেবল প্রতিবেশী দেশের কাছে নয়, সমগ্র গণতান্ত্রিক বিশ্বের কাছে প্রত্যাশা করে যে, গণতন্ত্রকে এখানে ফলপ্রসূ করতে, জনগণের অধিকারকে ফিরিয়ে দিতে, জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে গণতান্ত্রিক বিশ্ব তার ভূমিকা পালন করবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিশ্বের সব গণতান্ত্রিক দেশ চায়, বাংলাদেশের জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য ভূমিকা রাখতে। তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে আমাদের আন্দোলন চলমান। জনগণের সেই অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে আজ আমরা শহীদ জিয়ার সমাধিতে এসে নতুন করে শপথ গ্রহণ করেছি।

নিন্দা ও প্রতিবাদ: এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও ছাতক উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরীর বাসায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের শতাধিক নেতাকর্মী পুুলিশের উপস্থিতিতে হামলা চালিয়ে গুলীবর্ষণ ও বোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বাসায় অবস্থিত দুটি পাজেরো জীপ ও বাসার মূল্যবান জিনিসপত্র ভাংচুর, দুটি মটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ভস্মীভূত এবং বাসার দারোয়ান ও গাড়িচালককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতি ও নিষ্ঠুর দমন-পীড়নে দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা এখন দূর্বিষহ জীবনযাপন করছে। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীদের ভীতসন্ত্রস্ত করতে ও দমিয়ে রাখতে সরকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ ছাত্রলীগ-যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়েছে। রাষ্ট্রক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে সরকার অব্যাহত গতিতে এধরনের ন্যক্কারজনক ও অমানবিক কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে। গুম, খুন, অপহরণ, হামলা-মামলা, গ্রেফতার, কারান্তরীণ ছাড়াও বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সশস্ত্র হামলা যেন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরীর সিলেটের বাসায় পুুলিশের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগ-যুবলীগের শতাধিক নেতাকর্মীর ন্যক্কারজনক তা-বের ঘটনায় নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। আমি অবিলম্বে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরীর বাসভবনে সংঘটিত সন্ত্রাসী ঘটনার সাথে জড়িত দুষ্কৃতকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ