ঢাকা, শনিবার 08 March 2017, ২৫ চৈত্র ১৪২৩, ১০ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ফ্লোরিডায় শি জিন পিংকে স্বাগত জানালেন ট্রাম্প

৭ এপ্রিল, সিনহুয়া/সিএনএন : চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংকে ফ্লোরিডার পাম বিচে নিজের রিসোর্ট মার-এ-লাগোতে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার রাতে পরাশক্তিধর দেশের দুই নেতা নৈশভোজে অংশ নেন। এ সময় মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ও চীনের ফার্স্ট লেডি পিং লিউয়ান, ফার্স্ট ডটার ইভানকা ট্রাম্প ও ট্রাম্পের সিনিয়র উপদেষ্টা জামাতা জ্যারোড কুশনারও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলীয় শহর ফ্লোরিডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জিন পিংকে অভার্থনা জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলার। পাম বিচের মার এ লাগোকে ট্রাম্প দ্বিতীয় হোয়াইট হাউজ বলে থাকেন। এখানেই বৈঠক করবেন বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশের দুই প্রেসিডেন্ট ।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথমবারের বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। প্রথমবারের মতো ক্ষমতাধর দুই নেতার বৈঠকটি একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে।
কারণ এমন সময় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর ইদিলিব প্রদেশে রাসায়নিক হামলার জবাবে মার্কিন বাহিনী সিরিয়ার এক বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
শি-ট্রাম্পের এই বৈঠকে দুই দেশের দ্বি-পাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ বিশেষ করে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ইস্যু ও দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তি গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ, বাণিজ্য নিয়ে কড়া কথা, দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের টহল, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রতা, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচিসহ নানা বিষয়ে দু’দেশের মধ্যে বিরোধ চলার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প-শি’র বৈঠক বিশ্ব রাজনীতিতে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে।
আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের কাজ করে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি বলে মনে করছে দেশটি। পিয়ংইয়ংয়ের উপর চাপ প্রয়োগের জন্য চীনকে বাধ্য করতে ট্রাম্প বেইজিংকে বাণিজ্য সুবিধা দেয়ার বিষয়টি হাতে রেখেছে।
২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণায় বাণিজ্য নিয়ে চীনের সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেও কয়েক বার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চীনের সঙ্গে ব্যাপক বাণিজ ঘাটতি ও চাকরি খোয়ানোর বিষয়টি মেনে নিতে পারবে না। এই পেক্ষাপটে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক সহজ হবে না বলে মনে করছেন দুই দেশের কর্মকর্তারা।
একদিকে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিতে এসেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পরিচয় এখনও তিনি রাখতে সমর্থ হননি। অন্যদিকে ৬৩ বছর বয়সী শি চীনের সবচেয়ে শক্তিশালী নেতা হিসেবে বিবেচিত। ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে বিশ্বের অনেক নেতাই বিব্রতকর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট শি এমন কোন পরিস্থিতিতে না পড়ুন এমন প্রত্যাশা বেইজিংয়ের কর্মকর্তাদের।
তবে বৃহস্পতিবারের নৈশভোজে দুই নেতাকেই হাস্যজ্জ¦ল দেখা গেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবারের মধ্যাহ্ন ভোজের মধ্য দিয়ে চীন যুক্তরাষ্টের দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা বৈঠক শেষ হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ