ঢাকা, শনিবার 08 March 2017, ২৫ চৈত্র ১৪২৩, ১০ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ঢাবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ ॥ দেশীয় অস্ত্রের মহড়া

 

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার: বাংলাদেশ-শ্রীলংকা টি-টুয়েন্টি খেলা দেখা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই গ্রুপের প্রায় ১০ কর্মী আহত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার মধ্যকার টি-২০ ম্যাচ চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে। আহত কর্মীদের রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এদিকে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শোডাউন কারার অফিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, হলের টেলিভিশন কক্ষে টি-টোয়েন্টি খেলা দেখার পাশাপাশি মোবাইলেও ধারাভাষ্য শুনছিলেন কেউ কেউ। সাধারণত টেলিভিশনে দেখার আগেই ধারাভাষ্যের মাধ্যমে জানা যায় পরবর্তী বলে কী হতে যাচ্ছে। খেলার শেষ দিকে মোস্তাফিজের পরপর দুই উইকেট নেওয়ার সময় টেলিভিশনে বল দেখার আগেই কেউ কেউ ‘আউট’ বলে চেঁচিয়ে উঠেন। 

আর এ নিয়ে একাধিকবার হল ছাত্রলীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান তুষারের অনুসারীদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় গ্রুপের প্রায় ১০ কর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়া হলের ৪২১, ৩০৪ এবং ৩০৬ নম্বর কক্ষ ভাঙচুর ছাড়াও একটি ল্যাপটপ ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় সংঘর্ষে আহত বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সাইফুল ইসলাম, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের রাজিব, সমাজকল্যাণ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের আপেল, একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের আফজাল এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের আফছারকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। এরমধ্যে সাইফুলের অবস্থা গুরুতর। 

হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘ খেলা দেখছি, বাংলাদেশ জয় পেয়েছে। কিন্তু তারা (ছাত্রলীগ) যেভাবে মারামারি শুরু করে এক পর্যায়ে মনে হয় রুমে থাকাও রিস্ক। তখন বিজয়ে উল্লাস আর হয়নি। খেলাও দেখা হয়নি।’

সংঘর্ষের নেতৃত্ব দেন-সময় বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র রাজু আহমেদ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তৃতীয় রকিব হাসান ও সাজু, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের তৃতীয় বর্ষের রাশেদ রাজন, হলের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মনজুর আহমেদ রানা। তারা সবাই হল ছাত্রলীগের সভাপতি হাফিজুর রহমানের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

এ বিষয়ে হল ছাত্রলীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার সময়ে আমি বাইরে ছিলাম। হল সাধারণ সম্পাদক ঢাকার বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি ফিরলেই জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই কথা জানালেন সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান তুষারও। 

হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, সংঘর্ষের সময় আমি বাইরে ছিলাম। তোমরা যেভাবে এসে দেখছো, আমিও সেভাবে এসে দেখছি। এখানে মন্তব্য করার কিছু নেই। তদন্ত কমিটি হবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কি করবো সেটা আমরা দেখবো। তোমরা সত্য ঘটনা লেখো, আমি সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

এদিকে হাফিজ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও তুষার সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। তবে বিষয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ