ঢাকা, শনিবার 08 March 2017, ২৫ চৈত্র ১৪২৩, ১০ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সিদ্ধিরগঞ্জ ও গৌরীপুর থেকে জেএমবি’র ৮ সদস্য গ্রেফতার

 

সিদ্ধিরগঞ্জ (নাঃগঞ্জ) সংবাদদাতা : সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এবং কুমিল্লার গৌরীপুর এলাকা থেকে আট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গ্রেফতারকৃতরা সবাই জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের সক্রিয় সদস্য এবং তাদের কাছ থেকে বিস্ফোরক ও জঙ্গিবাদী বই উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কামরুল হাসান। তিনি গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় আদমজীতে র‌্যাব-১১ এর সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদিক সম্মেলনে গ্রেফতারকৃতদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিকদের জানান।

 গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. জামাল ওরফে রাসেল জিহাদী (৪৫), খন্দকার আবু নাঈম ওরফে নাঈম জিহাদী (৪৯), নুরুল আবছার (২৭), মহসিন (৫২), জাবির হাওলাদার (২২), আক্তারুজ্জামান মারুফ (৩২), মাওলানা ওমর ফারুক (৩২) ও কাশেম মুন্সী (৩১)। তাদের বাড়ি দেশের বিভিন্ন জেলায়। সিদ্ধিরগঞ্জ, রূপগঞ্জ, ডেমরা, কদমতলী ও কুমিল্লার গৌরীপুর এলাকায় তারা বসবাস ও বিভিন্ন ব্যবসা করতেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জঙ্গি সংগঠন জেএমবি সদস্যদের গোপন বৈঠকের খবর পেয়ে তাদের একটি দল সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাইনবোর্ড এলাকায় পারিজাত মার্কেটে ‘নতুন দিগন্ত’ নামের অনলাইন মার্কেটিং ব্যবসার অফিসে অভিযান চালায়। সেখান থেকে জেএমবির তামিম-সারোয়ার গ্রুপের বর্তমান প্রধান সমন্বয়ক রাসেল জেহাদীসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। একই সাথে ওই স্থানে তল্লাশি চালিয়ে ককটেল তৈরির সরঞ্জাম, বিপুল পরিমাণ গান পাউডার, বিস্ফোরক দ্রব্য ও জঙ্গিবাদি বই উদ্ধার করা হয়। এমএলএম ব্যবসার আড়ালে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি জেএমবির একটি অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করতো গ্রেফতারকৃতরা। পরে তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী কুমিল্লা জেলার গৌরিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরো তিনজনকে আটক করা হয়।

তিনি আরো জানান, জেএমবির আটককৃত এই সদস্যরা নারায়ণগঞ্জ ছাড়াও ঢাকা, কুমিল্লা ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক বিস্তার করেছে। তাদের এই নেটওয়ার্কের আওতায় তথ্য প্রযুক্তি, জঙ্গিবাদ ও অস্ত্রচালনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী বিপুল পরিমাণ সদস্য ছড়িয়ে রয়েছে। তারা যেন কোন ধরনের নাশকতা না ঘটাতে পারে তার জন্য র‌্যাবের এই জঙ্গিবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক দাবি করেন , প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জেএমবির সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছে। গত দেড় বছর ধরে তারা একত্রিত রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতার জন্য তারা বেশ কিছু বিস্ফোরকও মজুদ রেখেছিল। তারা বিভিন্ন এলাকাতে বাসা ভাড়া নেয়ার জন্য ভুয়া জাতীয় আইডি কার্ড তৈরি করতো ও ফেসবুকে ভাইরাল আকারে উগ্র মতাদর্শ প্রচার করতো। সম্প্রতি তারা নতুন দিগন্ত নামের একটি অনলাইন ই কমার্স ব্যবসা চালু করে। আর ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্নজনকে ফেসবুক থেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে বন্ধুত্ব তৈরি করে পরে উগ্রবাদী পোস্ট প্রেরণ করতো। তারা এমএলএম ব্যবসার অন্তরালে জেএমবি সদস্য সংগ্রহ করতো। তারা থ্রিমা, ইমো, ওয়াসট এ্যাপস ব্যবহার করে সদস্য সংগ্রহ করতো। গ্রেফতারকৃত ৮ জেএমবি সদস্য তামিম ও সারোয়ার গ্রুপের সদস্য। তামিম ও সরোয়ার নিহত হওয়ার পর গ্রেফতারকৃত রাসেল জিহাদী এ গ্রুপটির মূল সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছিল। রাসেল জিহাদীর সঙ্গে জেএমবির অনেক উপর মহলের যোগাযোগ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে র‌্যাব। তাদেরকে খোঁজা হচ্ছে।

 যেসব জিহাদী বই তাদের কাছে পাওয়া গেছে সেগুলো তো দেশের ভিতরেই প্রকাশিত হচ্ছে, যারা এসব বই প্রকাশ করছে তাদের আইনের আওতায় আনার কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কি-না ? এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক বলেন, আমরা এসব বিষয়ে কাজ করছি। এসব বই প্রকাশনা বন্ধ করতে পারলে জঙ্গিবাদের প্রচার কম হবে বলে তিনি স্বীকার করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ