ঢাকা, শনিবার 08 March 2017, ২৫ চৈত্র ১৪২৩, ১০ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মাধবদীতে  চরম পরিবেশ দূষণের শিকার এলাকাবাসী

মাধবদী : মাধবদীর একটি ইটভাটা -সংগ্রাম

মাধবদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা : সারা দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। এ সময় মাধবদীবাসী চরম অস্বাস্থ্যকর এবং পরিবেশ দূষণের শিকার হয়ে উদ্বেগ উৎকন্ঠায় দিনযাপন করছেন। এ নিয়ে করো কোন দায়িত্ব রয়েছে বলে মনেই হয়না। মাধবদীতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অধিকাংশই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স এবং প্রায় সব গুলোরই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। অথচ হাসপাতাল পরিচালনায় এগুলো সরকারি ভাবে বাধ্যতামূলক। হাসপাতালে জমা হওয়া প্রতিদিনের বর্জ্য ফেলার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত রঙ্গিন ডাস্টবিন ব্যবহার করার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছেনা এখানকার কোন হাসপাতালেই।

বর্জ্য ফেলছে খোলা ম্যানহোলে অথবা পৌর শহরের মাঝখানে অবস্থিত শিল্প বর্জ্যে আর দখলে ভরে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদে। যা বাতাসের সাথে মিশে জন স্বাস্থ্যের চরম ক্ষতি করে চলেছে। অপর দিকে  পৌর এলাকার মধ্যে ও আশপাশের জনবসতি এলাকায় স্থাপিত ফিক্স চিমনির ইটভাটা ফসল এবং জনবসতির পরিবেশ দূষণ ঘটাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এমন একটি ইটভাটা মহিষাশুড়া ইউনিয়নের মাধবদী পৌরশহরের খনর্মদ্দী এলাকায় আঃ বাতেন মিয়ার মালিকানাধীন (এম বি এ) নামে ইটভাটার চার বছর যাবৎ পরিবেশের ছাড়পত্র এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইট পোড়ানোর লাইসেন্স বিহীন ইটভাটা পরিচালনা করে এক দিকে সরকারের বিপুল রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে অন্যদিকে বিস্তির্ন এলাকার ফসলী জমি বিনষ্টের পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ ঘটিয়ে জন স্বাস্থ্যের চরম ক্ষতি করে চলেছে। উল্লেখ্য প্রায় চার বছর আগে থেকেই ১২০ ফুট স্থায়ী চিমনি ৩০ জুন ১৪ইং এর পর সরকারি ঘোষণা মোতাবেক অবৈধ। গত ৮ মার্চ বুধবার নরসিংদী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আব্দুস সালাম সরকারের নেতৃত্বে নরসিংদীর নির্বাহী ম্যাজিস্টেট মোসাদ্দেক মেহেদী ইমাম ইট পোড়ানোর অনুমতি ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকায় এবং হাওয়াই চিমনির পরিবর্তে ফিক্স চিমনি ব্যবহার করায় ইটভাটাটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে ভাটার চুলা ও বাউন্ডারি স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়ে ভাটা মালিককে ২লাখ টাকা জড়িমানা অনাদায়ে ৬ মাসের কারাবাসের রায় প্রদান করেন। কিন্ত উক্ত ইটভাটার মালিক এক সপ্তাহ পর আবারও সেই পুরোনো রিতিতে আগের মতোই তার ভাটাটি পরিচালনা করতে শুরু করেন। এতে স্থানীয় অধিবাসীরা মারাত্মক পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যহানীর আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করেছেন। এ ব্যাপারে ইটভাটা মালিক আঃ বাতেনের সাথে কথা বলার সময় তিনি জানান পরিবেশের কাগজ পত্র পাওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরে টাকা দিলে ছাড়পত্র লাগেনা এবং ছাড়পত্র থাকলেও নাকি তাদেরকে বাড়তি টাকা দিতে হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের সুফল পেতে এ ব্যাপারে জরুরি ব্যবস্থা নেবেন বলে পরিবেশ দূষণের শিকার স্থানীয় অধিবাসীদের প্রত্যাশা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ