ঢাকা, শনিবার 08 March 2017, ২৫ চৈত্র ১৪২৩, ১০ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সেবা বঞ্চিত রোগীরা

খুলনা অফিস : চিকিৎসক ও জনবল সংকট সহ বিভিন্ন কারণে খুলনার তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহাল দশা। এতে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের প্রায় দুই লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র সরকারি এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বছরের পর বছর। 

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, এই হাসপাতালে চিকিৎসকের ১৬টি পদের মধ্যে জুনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন একজন, জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারি একজন, ডেন্টাল সার্জন একজন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার একজন, ইউনানী মেডিকেল অফিসার একজন, সহকারী সার্জন ৬টি এ সকল পদই শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন যাবৎ। এর মধ্যে বিশেষ প্রয়োজনীয় ফার্মাসিস্ট, ক্যাশিয়ার, প্রধান সহকারী স্টোর কিপার, পরিসংখ্যানবিদ, ল্যাবটেকনিশিয়ান, এক্স-রে ম্যান পদ শূন্য রয়েছে। যেখানে সরকার স্বাস্থ্য সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বদ্ধ পরিকর সেখানে তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি  ডাক্তার সংকট ও জনবল সংকটে জোড়াতালি দিয়ে চলছে। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০০ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। কিন্তু ডাক্তার সংকটের কারণে বহিরবিভাগ ও আউটডোরে আসা রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আর হতদরিদ্র তৃণমূলের বিশাল গোষ্ঠি এখনো ভুগছে চিকিৎসা সেবাহীনতায়।

দ্বিতীয় শ্রেণির (সেবিকা) ১১টি পদের ৬টি, তৃতীয় শ্রেণির ৮৬টি পদের ৩৩টি এবং চতুর্থ শ্রেণির ২০টি পদের চারটি শূন্য। এর মধ্যে সুইপারের তিনটি পদে কেউ নেই। সব মিলিয়ে এখন ৫৬ টি পদশূন্য। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার পারখালী এলাকার শাহাজান, সদরের শামীম ও সুজনসহ বেশ কয়েকজন রোগী বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের লোকদের কম খরচে চিকিৎসার একমাত্র ভরসা। কিন্তু এখানে চিকিৎসক সহ জনবল সংকট প্রকট অনেক বছর ধরে। যে কয়জন আছে তাদেরও নিয়মিত পাওয়া যায় না। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা বিরাজ করছে। ফলে তাদের মত এলাকার গরীব লোকজন সরকারের কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নতি করার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ২০১৩ সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনটি উদ্ভোধন করা হয়। কিন্তু আজও ৫০ শয্যার কার্যক্রমের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন মেলেনি। পুরানো জরাজীর্ণ ভবনেই বেশিরভাগ কার্যক্রম চলছে। হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় বিভিন্ন কক্ষের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে খসে পড়ছে। বড় রড বেরিয়ে হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোর অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ। হাসপাতালের অবেদনবিদ (অ্যানেসথেটিস্ট) না থাকায় হাসপাতালে বছর দশেক ধরে জটিল প্রসূতি সেবাসহ সব ধরনের অস্ত্রোপাচার বন্ধ রয়েছে। অথচ এক্স-রে, ডেন্টল, আল্ট্রাস্নোগ্রাম প্রভিতী মেশিন থাকলেও টেকনিশিয়ানের অভাবে তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। সার্জারি, মেডিসিন ও ডেন্টল বিভাগেও কোন চিকিৎসক না থাকায় এসব বিভাগও কার্যত বন্ধ। 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আমি তেরখাদায় বেশ কয়েকদিন যোগদান করেছি। হাসপাতালের সীমিত লোকবল দিয়ে পুরো উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা সুষ্ঠু ভাবে প্রদান করা কঠিন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কালা জ্বরের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক নেই। রোগীদের চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ আর কে হাসপাতালে যেতে হয়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে একজন রুগী চিকিৎসা নিতে আসলে তাকে ময়মনসিংহে আরকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছিল। গেল বছর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচজন এ রোগে আক্রান্ত হয়।

কালাজ্বর সম্পর্কে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, তেরখাদায় কালা জ্বর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। এখানে ওষুধও সরবরাহ করা হয় না। আমাদের কাছে কালা জ্বরের রোগী আসলে তাকে ময়মনসিংহের আরকে হাসপাতালে নিতে পরামর্শ দেই।

খুলনা সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তেরখাদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি  জনবল সংকট দুর করতে ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালু করতে প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। দ্রুতই অবস্থার উন্নতি হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ