ঢাকা, শনিবার 08 March 2017, ২৫ চৈত্র ১৪২৩, ১০ রজব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আইনের তোয়াক্কা না করে তামাকজাত  কোম্পানিগুলো কৌশলে বিজ্ঞাপন প্রচার করছে

খুলনা অফিস : তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের তোয়াক্কা না করে কোম্পানিগুলো ভিন্ন কৌশলে প্রচার চালাচ্ছে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে তামাকজাত দ্রব্যের যে কোন প্রকার বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও তামাক কোম্পানিগুলো বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে বিজ্ঞাপন চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে পয়েন্ট অব সেল (বিক্রয় স্থলে) সিগারেটের বিজ্ঞাপন বন্ধ হচ্ছে না।

তামাক কোম্পানিগুলো তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপন দিতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো সিগারেটের বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে অনেকগুলো সিগারেট এর নাম এবং দাম সম্বলিত ফেস্টুন তৈরি এবং এই ফেস্টুন সাজিয়ে রাখা। যাতে দূর থেকে সিগারেটের প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই কৌশলে সিগারেট কোম্পানি তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপন চালিয়ে যাচ্ছে।

খুলনার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, কোম্পানিগুলোর প্রচারণার এমন ফেস্টুনে নিশ্চিত করা হয়, সেখানে সিগারেট বিক্রয় হয় এবং কোন সিগারেট কত টাকা দাম। কোন কোন কোম্পানির সিগারেট সেখানে আছে। খুচরা বিক্রির ক্ষেত্রে মূল্য কত আর প্যাকেট ক্রয়ের ক্ষেত্রে কতটা ছাড় আছে। অনেক স্থানে দেখা গেছে, তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রয়স্থলে বিভিন্ন দোকানের সাইনবোর্ড বানিয়ে দিচ্ছে। যা এক ধরণের বিজ্ঞাপন। এছাড়া কোম্পানি তাদের পণ্যের প্যাকেট একসাথে করে তাদের বোর্ড বানাচ্ছে খুচরা সিগারেট বিক্রেতাদের জন্য এবং কোম্পানি এটা খুচরা বিক্রেতাদের দিচ্ছে ফ্রি। যা খুচরা দোকানীরা তাদের দোকানে সাজিয়ে রাখছে। আর দোকানে এ রকম সাজানো সিগারেটের প্যাকেট দেখে তরুণরা সিগারেটের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। এভাবে কোম্পানি তাদের পণ্যের চাহিদা বাড়াচ্ছে।

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন সম্পর্কে বলা হয়েছে, সকল প্রকার তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ। পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত আইনে বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বাংলাদেশে প্রকাশিত কোন বই, লিফলেট, হ্যান্ডবিল, পোস্টার, ছাপানো কাগজ, বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড বা অন্য কোনভাবে তামাকজাত প্রব্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করবেন না বা করাইবেন না। এ আইন লঙ্ঘন করলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ৩ মাস বিনাশ্রম করাদন্ড বা অনধিক ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। ওই ব্যক্তি যদি দ্বিতীয়বার একই ধরণের অপরাধ করে তবে তিনি পর্যায়ক্রমে টাকা দিগুণ হারে দীয় হবেন।

ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস এন্ড হেল্থ কেয়ার সোসাইটির মহানগর সভাপতি এডভোকেট আমিনুল ইসলাম মুকুল বলেন, তামাকজাত দ্রব্যের প্রত্যক্ষ বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও তামাক কোম্পানিগুলো পরোক্ষভাবে নানা কৌশলে খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে ধূমপানের বিজ্ঞাপন প্রচার করছে। দিন দিন এ ধরণের বিজ্ঞাপনের হার বাড়ছে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ ধরণের বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে শাস্তি প্রদান করা হলেও এ হার কমছে না। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ ধরণের বিজ্ঞাপনের জরিমানার টাকা তামাক কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত দোকানীদের দিয়ে দিচ্ছে। ফলে ব্যক্তিগতভাবে দোকানীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ায় তামাক কোম্পানির দেওয়া বিজ্ঞাপন অপসারণ করছে না।

খুলনা জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য এবং সিয়ামের নির্বাহী পরিচালক মাসুম বিল্লাহ বলেন, জেলা টাস্কফোর্স কমিটির নিষ্ক্রিয়তার কারণে সিগারেট কম্পানিগুলো এ ধরণের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ কমিটিকে আরো বেশি সক্রিয় হতে হবে এবং মোবাইল কোর্টের সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে হবে।

আকিজ কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক তুহিন মোর্শেদ বলেন, আমাদের এ অফিস থেকে জর্দা, ম্যাচ এবং সিগারেট সরবরাহের কাজ করা হয়। গরিব দোকানদারদের স্টল করার সামর্থ নেই। সে কারণে আমরা তাদের স্টল তৈরি করে দেই। স্টলের গায়ে সামনে দিকে কিছু সিগারেটের খালি বক্স দিয়ে ডিজাইন করা হয়ে থাকে। খুলনা জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল আহসান বলেন, প্রতিমাসে ধূমপানবিরোধী জেলা টাস্কফোর্স কমিটির মিটিং হয়। সেখানে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বিজ্ঞাপনের বিষয়ে কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ